পরনে লাল বেনারসী, মুখে স্মিত হাসি নিয়ে পাত্রী রিঙ্কু মজুমদার গেলেন পাত্র দিলীপ ঘোষের বাড়িতে!
শুক্রবার বিকেলে রাজনীতির আঙিনা থেকে একটু দূরে, এক পরিপূর্ণ পারিবারিক আবহে চার হাত এক হচ্ছে রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং মহিলা মোর্চা নেত্রী রিঙ্কু মজুমদারের। নিউটাউনের এক শপিং মলের বিউটি পার্লারে বিয়ের সাজ সেরে বেরলেন কনে রিঙ্কু মজুমদার। হাল্কা সাজে, লাল বেনারসীতে, মাথায় মুকুট নিয়ে কনে চললেন বিয়ে করতে!
রিঙ্কু জানান, এখনও তাঁর ফোনে দিলীপ ঘোষ 'দিলীপদা' নামে সেভ আছে, তবে বিয়ের পর সেটি হবে 'হাজব্যান্ড'। হালকা হাসির ছলে বলেন, "উনি আগে থেকেই বলে দিয়েছেন, ফুচকা খাওয়াতে বা শপিংয়ে নিয়ে যাবেন না। আমি বলেছি, ঠিক আছে, সহধর্মিণীর দায়িত্ব পালন করব"।

রিঙ্কু জানিয়েছেন, তিনি পাহাড়প্রেমী। তাই নিরিবিলি কোনও পাহাড়ি জায়গায়, সম্ভবত শিমলায় মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তবে এখনও কোনও গন্তব্য চূড়ান্ত হয়নি। "যেখানে উনি যাবেন, ভিড় জমে যায়। তাই আমরা নিরিবিলি জায়গা খুঁজছি", এদিন এমনটাই বলেন রিঙ্কু।
বিয়ের দিন অর্থাৎ শুক্রবার রাত্রে বড় কোনও আড়ম্বর না থাকলেও, শনিবার দিলীপ ঘোষের জন্মদিন। তিনি প্রতিদিনের মত নিউটাউনে প্রাতঃভ্রমণে বের হবেন এবং দমদমে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন। নববধূ রিঙ্কু অবশ্য নিয়ম মেনে ঘরেই থাকবেন।
বিয়ের দিন অকপটে রিঙ্কু বলেন, "২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরে উনি যখন মনমরা ছিলেন, তখন আমি প্রথম ঘর বাঁধার প্রস্তাব দিই। তিন মাস ধরে আমরা অনেক কথা বলেছি। আমি খোলামেলা মানুষ, দিলীপদাও সেটা বুঝেছেন"। তিনি বলেন, বিয়ের পরও দু'জন নিজেদের মতাদর্শ বজায় রেখেই চলবেন, কেউ কারও কাজে হস্তক্ষেপ করবেন না।
বিয়ের দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিলীপ ঘোষকে ফুল ও শুভেচ্ছাবার্তা পাঠান, যা রাজনীতির বাইরে একটি সৌজন্যতার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কার্ডে লেখা ছিল, "জীবনের এই নতুন অধ্যায়ের সূচনায় আপনাদের অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ঈশ্বর করুন আপনাদের যৌথ জীবন সুখের হোক"।

এদিন কনে রিঙ্কু মজুমদার তা জানতে পেরে, তিনিও প্রতিক্রিয়া দেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী আমাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শুনে খুব ভালো লাগল। আমি এবং আমার উড বি হাজব্যান্ডের তরফ থেকে বলব, উনি যদি একটু রেক্টিফিকেশনটা শিখে নেন তাহলে রাজ্যবাসীর জন্য খুব ভালো হবে"।
এদিন সকাল থেকেই দিলীপ ঘোষের নিউটাউনের বাড়িতে ভিড় করেন বিজেপির নেতারা। রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, লকেট চট্টোপাধ্যায়, সুনীল বনসল, মঙ্গল পাণ্ডে, অমিতাভ চক্রবর্তী প্রমুখ ফুল, মিষ্টি, এবং উপহার নিয়ে আসেন। দিলীপ ঘোষও পাল্টা উপহার দেন - কাউকে শাড়ি, কাউকে ধুতি-পাঞ্জাবি, কাউকে পাঞ্জাবি বানানোর কাপড়।
রাজনীতির রঙিন, বিতর্কিত ও তীব্র চরিত্র দিলীপ ঘোষ এক নতুন পরিচয়ে এবার আবির্ভূত হচ্ছেন - একজন স্বামী হিসেবে। রিঙ্কু মজুমদার ও দিলীপ ঘোষের এই নতুন জীবনযাত্রা শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনেই নয়, বাংলার রাজনীতির পটভূমিতেও এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে রইল।












Click it and Unblock the Notifications