করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের মধ্যে আমরা, একইসঙ্গে আশা ও আশঙ্কার বার্তা! মাস্ক মাস্ট, বললেন শহরের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের মধ্যে আমরা, একইসঙ্গে আশা ও আশঙ্কা! মাস্ক মাস্ট, বললেন শহরের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা

দুয়ারে করোনার (Coronavirus) তৃতীয় ঢেউ নয়, তৃতীয় ঢেউয়ের (third wave) মধ্যে রয়েছি আমরা। এদিন এমনটাই জানালেন শহরের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা (Doctors)। এসএসকেএম হাসপাতালে সাংবাদিক সম্মেলন করে একইসঙ্গে আশা ও আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন তাঁরা। একদিকে যেমন ভিড না করতে অনুরোধ করেছেন, অন্যদিকে মাস্ক পরতেও অনুরোধ করেছেন চিকিৎসকরা।

চিকিৎসক দীপ্তেন্দ্র সরকার

চিকিৎসক দীপ্তেন্দ্র সরকার

তিনি বলেছেন, এখন আর কোনও দ্বিধা নয়, আমরা করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের মধ্যে রয়েছি। তিনি আগেকার ঢেউগুলির সঙ্গে তুলনা করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, সেখানে ৩৫০ থেকে ৩৫ হাজারে পৌঁছতে সময় লেগেছিল ১০ দিন। তিনি সেখানে পশ্চিমবঙ্গের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ২৭ ডিসেম্বর ৪৩৯ থেকে ৩ জানুয়ারি ৬০৭৮-এ পৌঁছে গিয়েছি। তিনি বলেছেন, ১০ কোটি জনসংখ্যার রাজ্যে এখনও বিশাল সংখ্যক মানুষের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে যাঁরা আগে ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন, তাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে এসেছে। এটা চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যে কারণে বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, করোনা ঠেকানোর একমাত্র হাতিয়ার হল মাস্কের ব্যবহার। তিনি বলেছেন, উপসর্গ খুব বেশি না হলে হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসাই যথেষ্ট। এক্ষেত্রে প্যারাসিটামল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, অ্যান্টিবডি ককটেল মূলত ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ওপরে কাজ করে।

চিকিৎসক কুণাল সরকার

চিকিৎসক কুণাল সরকার

চিকিৎসক দীপ্তেন্দ্র সরকারের মতো তিনিই দক্ষিণ আফ্রিকার উদাহরণ টেনেছেন। সেখানে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে ৪ সপ্তাহেই ঢেউ নামিয়ে আনা গিয়েছিল। তবে অসাবধান হলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়বে। অসতর্ক হলে ৪ সপ্তাহ সময় যথেষ্ট নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, ব্রিটেন হোক কিংবা মহারাষ্ট্র সর্বত্রই আক্রান্তদের ৬ শতাংশকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এই রাজ্যের ক্ষেত্রেও এখনও পর্যন্ত একই তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তিনিও মাস্ক ব্যবহারের ওপরে জোর দিয়েছেন।

চিকিৎসক যোগীরাজ রায়

চিকিৎসক যোগীরাজ রায়

তিনি বলেছেন, সারা বিশ্বের মতো এই রাজ্যেও ভাইরাসের চরিত্র বদল হয়েছে। বছরের শেষে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে উন্মাদনাকেও এর জন্য দায়ী করেছেন তিনি। তিনি বলেছেন, আমাদের জনসংখ্যার যদি ০.৫ শতাংশের অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তাহলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপরে প্রবল চাপ তৈরি হবে। তবে তিনি আশার কথাও শুনিয়েছেন। তিনি বলেছেন, গত ৭ থেকে ৮ দিনের অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে যাঁরা ভর্তি হয়েছেন, তাঁদের অক্সিজেন লাগছে না। পাশাপাশি সাপোর্টিভ যন্ত্রও ব্যবহার করতে হচ্ছে না। পরবর্তী ৫ থেকে ৬ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে বলেই মনে করেন তিনি।

চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরী

চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরী

তিনি বলেছএন তৃতীয় ঢেউয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছি আমরা। এই ঢেউয়ের জটিলতা কেমন হবে তা আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে স্পষ্ট হবে। ভাইরাসের নতুন প্রজাতি বেশি মানুষকে সংক্রমিত করলেও তা রোগীর ক্ষতি করছে কম। তবে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হলে বহু মানুষ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়বে বলেই মনে করছএন তিনি। এই মুহূর্তে মানুষের ভিড় আতঙ্কের কারণ বলে মনে করেন তিনি।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+