‘নিরূপায়’ ডিভিসি জল ছেড়েই চলেছে, নবান্ন থেকে ফোন ঝাড়খণ্ড সরকারকে
একইদিনে চারবার জল ছেড়েছে ডিভিসি। ক্ষুব্ধ রাজ্য সরকার ডিভিসির বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগে চিঠি লেখে। পাল্টা চিঠিতে ডিভিসি জানিয়ে দেয় তারা নিরূপায়।
রাজ্যের অনুরোধ উপেক্ষা করে জল ছেড়েই চলেছে ডিভিসি। আর তাতেই যায় যায় অবস্থা রাজ্যের। রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি তো ভাসছেই, এবার নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে হাওড়া-হুগলিতেও। এই হারে জল ছাড়তে থাকলে দক্ষিণবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই চরম উৎকণ্ঠায় এবার ঝাড়খণ্ড সরকারের কাছে ফোন গেল নবান্নের। দিল্লি থেকে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জল ছাড়ার পরিমাণ কমানোর আবেদন জানালেন।

রাজ্যের মুখ্যসচিব মলয় দে ঝাড়খণ্ড সরকারের মুখ্যসচিবকে ফোন করে অনুরোধ করলেন, অবিলম্বে জল ছাড়া নিয়ন্ত্রণ করতে। ঝাড়খণ্ডে অতিবৃষ্টির কারণে যে হারে জল ছাড়া হচ্ছে তাতে এ রাজ্যও ভেসে যেতে পারে। তাই জল নিয়ন্ত্রণের আর্জি জানাল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নবান্নে ডিভিসি-র চিঠি আসার পরই উপলব্ধি হয়েছে তেনুঘাট বাঁধ থেকে ছাড়া জলেই লুকিয়ে রয়েছে বিপদ সংকেত।
একইদিনে চারবার জল ছেড়েছে ডিভিসি। ক্ষুব্ধ রাজ্য সরকার ডিভিসির বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগে চিঠি লেখে। পাল্টা চিঠিতে ডিভিসি জানিয়ে দেয়, তাঁরা নিরূপায়। ঝাড়খণ্ডের তেনুঘাট থেকে এত পরিমাণ জল ছাড়া হচ্ছে যে, দুর্গাপুর ব্যারেজের পক্ষে সেই জল ধারণ করে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাই একাধিকবার জল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে তাঁরা। এরপরই রাজ্যের মুখ্যসচিব মলয় দে ঝাড়খণ্ড সরকারের মুখ্যসচিবকে ফোন করে অনুরোধ জানান জল-নিয়ন্ত্রণের।

উল্লেখ্য, এদিন দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে ৯৩ হাজার কিউসেক, পাঞ্চেত থেকে ৬০ হাজার কিউসেক জল ছাড়ে ডিভিসি। মাইথন থেকে ২৫ হাজার কিউসেক ও তেনুঘাট থেকে ৮৮ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে এদিন। এই অবস্থায় রাজ্য প্রমাদ গুণছে। বৃষ্টির জলে পুষ্ট নদীই ফুঁসতে আরম্ভ করেছে। তারপর ব্যারেজের জল এলে আর কথাই নেই।
এদিকে মঙ্গলবার বাঁকুড়া শহর ডুবে গিয়েছে গন্ধেশ্বরী নদীর জলে। জল বইছে সতীঘাট সেতুর উপর দিয়ে। তারপর হুগলির খানাকূলে রূপনারায়ণের বাঁধ ভেঙে বন্যা হয়ে গিয়েছে। এবার আশঙ্কার কালো মেঘ হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের আকাশে। এখানে ফি বছর বন্যা হয়। বর্ষার জল পড়লেই ডিভিসি জল ছাড়ে। অতিবৃষ্টি হলেই ডিভিসির জলে উদয়নারায়ণপুর বন্যা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। উদয়নারায়ণপুরবাসীর আশঙ্কা বুধবারই দামোদরের জল ঢুকে পড়বে গ্রামে। তারপরই ভাসিয়ে দেবে আমতা দু'নম্বর ব্লককে।
এই অবস্থায় যাতে আর না জল ছাড়া হয়, তা নিশ্চিত করতে ফের ডিভিসিকে বার্তা পাঠিয়েছেন সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে ৯৩ হাজার কিউসেক জলের হাত থেকে হাওড়া ও হুগলির বিস্তীর্ণ এলাকাকে বাঁচাতে। প্রশাসনকে সজাগ থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভগ্ন অংশে বাঁধ মজবুত করার কাজ জারি রাখা হয়েছে। নতুন করে যাতে বন্যা না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications