বিশ্বভারতী বন্ধের নজিরবিহীন আশঙ্কার মধ্যেই আন্দোলন তীব্র করার হুমকি পড়ুয়াদের
বিশ্বভারতী বন্ধ করে দেওয়া হলেও আন্দোলন চালিয়ে যাবেন পড়ুয়ারা, পুলিশি নিরাপত্তা চাইলেন উপাচার্য
গত পাঁচ দিন ধরে চলতে পড়ুয়া বিক্ষোভে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাধের বিশ্বভারতীতে অচলাবস্থা জারি রয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের কথামতো আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় না বসে কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার নজিরবিহীন ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন বলে খবর। তাতে দমে না গিয়ে বরং আন্দোলন আরও তীব্র করার হুমকি দিয়েছেন পড়ুয়ারা। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের হাতে টানা গৃহবন্দি থাকার পর এবার পুলিশের কাছে নিজের নিরাপত্ত বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন বিশ্বভারতীয় উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।

অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ভাবনা
শেষ পাঁচ দিন ধরে বিশ্বভারতীতে চলতে থাকা অচলাবস্থা নিয়ে চিন্তিত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক। দ্বন্দ্ব মেটাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীকে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাতে কর্ণপাত না করে উল্টে কর্তৃপক্ষ বিশ্বভারতীয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে বলে খবর। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর পৌরহিত্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠকে এ ব্যাপারে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও সে সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি এখনও প্রকাশ করেনি বিশ্বভারতী। তেমনটা সত্যিই হলে ১৯২১ সালে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ঐতিহ্যশালী বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমবার ঘটবে এমন ঘটনা।

আন্দোলনে অনড় পড়ুয়ারা
বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ যতই কড়া হোক, আন্দোলনের রাস্তা থেকে না সরার কথা জানিয়ে দিয়েছেন পড়ুয়ারা। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলেও বিক্ষোভ চলবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বাড়ির গেটের সামনে দুধ ও কলা দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ দেখালেন আন্দোলনরত পড়ুয়ারা। প্রতিদিনই একইভাবে প্রতিবাদ দেখানো হবে বলেও তাঁরা জানিয়েছেন। উপাচার্য বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে তিন পড়ুয়াকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিলেই আন্দোলনে ইতি ঘটবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দিল্লির জহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সভানেত্রী ঐশী ঘোষ ও এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বিশ্বভারতীর বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার যে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ, তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিশ্বভারতীর প্রতিষ্ঠান বিরোধী অধ্যাপক-অধ্যাপিকারা। আগামী ২ সেপ্টেম্বর পড়ুয়াদের আন্দোলনে তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনও যোগ দিতে পারে বলে সূত্রের খবর।

পুলিশের দ্বারস্থ উপাচার্য
গত চার দিন ধরে বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বলাকা ও পূরবী প্রবেশদ্বারে তালা পড়ে যাওয়ায় দফতরের কাজে যোগ দিতে পারছেন না কর্মীরা। তাই কর্মীদের বেতন ও অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। আন্দোলন লাগাতার চলতে থাকলে ওই প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে বলে আভাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। এদিকে পড়ুদের হাতে টানা গৃহবন্দি থাকার পর এবার পুলিশের কাছে নিজের নিরাপত্তা বাড়ানোর আবেদন করলেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকালে শান্তিনিকেতন থানায় তিনি ই-মেল করেন। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে পুলিশও।

বিক্ষোভ তো নতুন নয়
এর আগেও একাধিকবার পড়ুয়াদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়েছে বিশ্বভারতী। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ঘেরাও করে রাখাও নতুন ঘটনা নয়। কিন্তু কখনওই বিশ্বভারতী অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো উপক্রম তৈরি হয়নি। এক্ষেত্রেও পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব বলে মনে করে এসএফআই সহ বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত বিশ্বভারতী বন্ধ করে দেওয়ার বিপক্ষে মুখ খুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সবুজকলি সেনও।
প্রতীকী ছবি












Click it and Unblock the Notifications