কোচিং-সেন্টারের আড়ালে ছাত্রীর সঙ্গে যৌনাচার শিক্ষকের, ফেসবুকে ভাইরাল ভিডিও
গত ২ অক্টোবর ছাত্রীকে নিয়ে পুরী বেড়াতে গিয়েছিল আশিস মণ্ডল। সঙ্গে ছিলেন ছায়া মণ্ডলও। তিনজনেই হোটেলের একটি রুম ভাড়া নেন। তারপর হোটেলে ছাত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন শিক্ষক।
ছাত্রী-শিক্ষকের ঘনিষ্ঠ মূহূর্তের ছবি এবার ভাইরাল হয়ে উঠল সোশ্যাল মিডিয়ায়। কোচিং সেন্টারের আড়ালে ছাত্রীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, এরই মধ্যে এক ছাত্রীকে ফুঁসলিয়ে পুরীতে নিয়ে গিয়ে গৃহশিক্ষক তার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়। আর সেই ঘটনা ক্যামেরা বন্দি করে গৃহশিক্ষকের ঘনিষ্ঠ এক মহিলা কর্মাধ্যক্ষ। পঞ্চায়েত সমিতির ওই মহিলা কর্মাধ্যক্ষ ও গৃহশিক্ষক মিলিতভাবেই পরিকল্পনা করে এই কাজ করেছে বলে অভিযোগ। সেই পরিকল্পনামাফিকই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ছাত্রীর পর্ণ-ভিডিও।

খবর জানাজানি হতেই ছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করে। ক্রমেই পরিচিত মহলে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত শিক্ষক আশিস মণ্ডল ও পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল কর্মাধ্যক্ষ ছায়া মণ্ডলের বাড়িতে চড়াও হন স্থানীয়রা। নিমেষেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। বিশাল পুলিশ বাহিনী নামিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। নামাতে হয় র্যাফ-কমব্যাট ফোর্স।

জানা গিয়েছে, গত ২ অক্টোবর ছাত্রীকে নিয়ে পুরী বেড়াতে গিয়েছিল আশিস মণ্ডল। সঙ্গে ছিলেন ছায়া মণ্ডলও। তিনজনেই হোটেলের একটি রুম ভাড়া নেন। তারপর হোটেলে ছাত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন শিক্ষক। এবং ছাত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার ছবি ভিডিওগ্রাফি করে মহিলা কর্মাধ্যক্ষ ছায়া মণ্ডল। এর কয়েকদিনের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায় এ কাজ কেন করা হয়েছিল। ওই ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যকমেলিং শুরু করে আশিস ও ছায়া। ভয় দেখানো হয় পর্ণ-ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার। টাকা দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার কথা জানানো হয় ছাত্রীর পরিবারকে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, টাকা না পেয়েই ওই ভিডিও পোস্ট করে দেওয়া হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। শিক্ষকের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার ঘটনা ও তার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় লজ্জায়-অপমানে একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রীটি আত্মহত্যার চেষ্টা করে। মঙ্গলবার রাতে আশিস ও ছায়ার বাড়িতে চড়াও হয় স্থানীয়রা। তাদের ঘেরাও করে রাখা হয়। শেষপর্যন্ত বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ নামিয়ে আশিস ও ছায়া মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়।
আশিসের বিরুদ্ধে অনেক ছাত্রীর সঙ্গেই দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বহু ছাত্রীরই সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার চেষ্টা করেছে ওই শিক্ষক। অনেকেরই শ্লীলতাহানি করেছে বলে অভিযোগ। পর্ণ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরই এই অভিযোগ আরও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এতদিন লোকলজ্জার ভয়েই অনেকে মুখবন্ধ করে ছিল।

পুলিশ তদন্ত নেমে জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত আশিস মণ্ডল একজন বিবাহিত পুরুষ। হাওড়ার শ্যামপুরের অযোধ্যায় কোচিং সেন্টার চালান। সেই কোচিং সেন্টারের আড়ালেই ছাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করত ওই শিক্ষক। তাঁদের গায়ে হাত দিত। নানাভাবে উত্যক্ত করত। আশিসের সঙ্গে তৃণমূলের মহিলা কর্মধ্যক্ষ ছায়া মণ্ডলের অবৈধ সম্পর্ক ছিল বলেও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
জানার চেষ্টা করা হচ্ছে ওই ছাত্রীর পর্ণ ভিডিও করার পিছনে তাদের কী পরিকল্পনা ছিল। কীভাবেই বা তা ছড়িয়ে পড়ল সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে ব্ল্যাকমেলিং করে টাকা উপার্জনই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। অভিযুক্ত আশিস ও ছায়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ নম্বর ধারায় পকসো আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।












Click it and Unblock the Notifications