তৃণমূলের 'চাণক্য' থেকে বিজেপির কৌশলী মুখ! বদলে দিয়েছিলেন বাংলার সমীকরণ, কে এই মুকুল রায়?
রাজ্য রাজনীতির এক পরিচিত এবং প্রভাবশালী মুখ মুকুল রায় আর নেই। সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে, প্রায় দেড়টা নাগাদ নিউ টাউনের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ৭১ বছর হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরেই কিডনি-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন প্রবীণ নেতা মুকুল রায়। মাঝেমধ্যেই শারীরিক অবস্থার অবনতি থাকার কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হত। শেষ পর্যন্ত হার মেনে নিলে তিনি। তাঁর জন্ম হয়েছিল ১৭ এপ্রিল ১৯৫৪ সালে কলকাতার কাঁচরাপাড়ায়।

তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর বাড়ির সামনে তৃণমূলের নেতা-কর্মী এবং সমর্থকদের ভিড় জমাতে শুরু করে। এই খবরে রাজ্য রাজনীতিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রি লাভ করেছিলেন মুকুল রায়। ২০০৬ সালে তিনি মাদুরাই কামরাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাব্লিক অ্যাডমিনিসট্রেশন বিষয়ে এমএ ডিগ্রি লাভ করেছিলেন।
রাজনৈতিক জীবন
কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু পরে তিনি হয়ে ওঠেন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress)-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তৃণমূল গঠন হওয়ার পিছনে তাঁর সংগঠনিক দক্ষতা ছিল বড় শক্তি। এক সময় মুকুল রায়কে দলের 'সেকেন্ড ইন কম্যান্ড' বলা হত। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সংগঠন গড়া থেকে শুরু করে কৌশল নির্ধারণ পর্যন্ত সমস্ত ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের নেপথ্যে তাঁর নামই বারবার উঠে এসেছে। সেই কারণেই অনেকেই তাঁকে 'তৃণমূলের চাণক্য' বলে উল্লেখ করতেন।
সংসদীয় রাজনীতিতেও তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছিল। তিনি রাজ্যসভার একজন সদস্য ছিলেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জাহাজমন্ত্রকের দায়িত্ব সামলানোর সাথে সাথে রেলমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সংগঠনের দক্ষতার মিলনে তিনি জাতীয় স্তরের পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন।
ক্রমশ তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস ছেড়ে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে, প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অন্যতম ছিলেন মুকুল রায়। ২০০১ সালে জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়লেও জয় পাননি। ২০০৬ সালে তিনি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হন এবং একই বছর রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন তিনি। ২০১২ সালে রেল বাজেট বিতর্কের পর দীনেশ ত্রিবেদীর ইস্তফার কারণে রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন তিনি। তারপর ২০২১ সালে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হন তিনি। ২০২১ সালে বিজেপি ছেড়ে ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন তিনি। কিন্তু বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেননি। এর ফলে দল বদল করলেও খাতায়-কলমে তিনি বিজেপি বিধায়ক হিসেবেই থেকে গিয়েছিলেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি।
যখন তিনি তৃণমূল ছেড়ে যোগ দেন বিজেপি (Bharatiya Janata Party)-তে যোগদান করেন তখন রাজনীতির মোড় ঘুরে যায়। তাঁর নেতৃত্ব এবং সংগঠনের জোরেই ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপি রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছিল। যা রাজ্যের রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিল।
পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (পিএসি)-র চেয়ারম্যানও করা হয়েছিল তাঁকে। তারপর তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ নিয়ে আদালত পর্যন্ত মামলা গড়ায়। তাঁর অসুস্থতার কথা বিবেচনা করার পর কলকাতা হাইকোর্টের একটি নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট, এবং তাঁর বিধায়ক পদ বহাল রাখার নির্দেশ দেয়।
জীবনের শেষ পর্বে আসে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে সরে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব এবং সংগঠনের স্মৃতি তাঁকে শেষদিন পর্যন্ত ঘিরে ছিল। এক সময়কার কৌশলী সংগঠক, প্রাক্তন রেলমন্ত্রী এবং তৃণমূলের অন্যতম স্থপতি, মুকুল রায় তাঁর রাজনৈতিক জীবনের যাত্রা শেষ করলেন একজন বিধায়ক হিসেবেই।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সংগঠন গড়া থেকে শুরু করে কৌশল নির্ধারণ পর্যন্ত সমস্ত ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের নেপথ্যে তাঁর নামই বারবার উঠে এসেছে। তাঁর এরকম মৃত্যুর কারণে শুধুমাত্র একটি দলের নয়, সমগ্র রাজনৈতিক মহলেই গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বহু লড়াইয়ের সাক্ষী এই নেতার বিদায়ে রাজ্য রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়ে গেল, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর প্রয়াণে রাজ্য রাজনীতিতে এক বড় শূন্যতা তৈরি হল।
-
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
মালদহের অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল মমতা, সুতির সভা থেকে শান্তির বার্তা -
ভবানীপুরে আজ শক্তি প্রদর্শনে বিজেপি, শুভেন্দুর মনোনয়নে সঙ্গী অমিত শাহ -
মালদহের ঘটনা তৃণমূলের পরিকল্পিত ও সংগঠিত, কালীঘাটে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ ব্যক্ত করে দাবি শুভেন্দুর -
ভোটের আগে তালিকা সংশোধনে তৎপরতা, সপ্তম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ -
প্রবল ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া, আতঙ্কে পথে মানুষ -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
কালিয়াচক কাণ্ডের পর ফের অশান্তি! অমিত শাহ-র রোড শো ঘিরে ভবানীপুরে ধুন্ধুমার, হাতাহাতি তৃণমূল-বিজেপির -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
ভবানীপুরে আজ শক্তি প্রদর্শনে বিজেপি, শুভেন্দুর মনোনয়নে সঙ্গী অমিত শাহ -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি












Click it and Unblock the Notifications