Uttarkashi: বাংলার তিন জন উত্তরকাশীর টানেলে বন্দি, কোচবিহার ও হুগলির পরিবারে নাওয়া খাওয়া নেই
উত্তরকাশীর টানেলে আটকে ৪১ জন শ্রমিক। তার মধ্যে বাংলার তিন জন রয়েছেন। তিন পরিবারে খাওয়া, ঘুম কার্যত নেই। বাড়িময় কেবলই উৎকণ্ঠা। ঈশ্বরের কাছে একটাই প্রার্থণা, বাড়ির লোক যেন শশরীরে প্রাণ নিয়ে বাড়ি ফিরে আসতে পারেন।
কোচবিহার থেকে সৌভিক পাখিরা ও মানিক তালুকদার গিয়েছিলেন উত্তরকাশীতে কাজ করতে। হুগলির পোলবা থেকে জয়দেব পরামানিকও আছেন ওই আটকে থাকা টানেলের মধ্যে। এই তিন পরিবারের চোখেমুখে এখন উদ্বিগ্নতা। ছেলে, ঘরের লোকের সঙ্গে যে মোবাইলে কথা বলবেন। সেই সুযোগটা পর্যন্ত এখন নেই৷

তুফানগঞ্জের মানিক তালুকদার পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। অধিক রোজগারের আশায় তিনি পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে গিয়েছিলেন উত্তরাখণ্ড। এখন তিনি টানেলের মধ্যে আটকে। হাপুস নয়নে কেঁদে চলেছেন তার বিবাহিতা স্ত্রী। তিনি ফিরে আসুক সুস্থ শরীরে। এটুকুই প্রার্থণা করে চলেছেন তিনি।
সৌরভ পাখিরার পরিবারেও উদ্বেগের শেষ নেই। কাজে যাওয়ার দিন শেষ কথা হয়েছিল বাড়ির লোকের সঙ্গে৷ তারপর আর খোঁজ পাননি তিনি। পরে টেলিভিশনে খবর দেখেন টানেলে শ্রমিকদের আটকে পড়ার খবর। ছ্যাঁত করে উঠেছিল বুক। পরে জানতে পারেন সকলেই জীবিত আছেন। বাড়ির লোক ঠিক ফিরে আসবেন। আশায় বুক বেঁধে রয়েছে পরিবার।
হুগলির পোলবার জয়দেব পরামানিকও টানেলের ভিতর বন্দি। বাবা এক শূন্যতা নিয়ে বসে আছেন। ছেলের গলা শুনতে চাইছেন। কিন্তু কবে তা সম্ভব হবে, বোঝা যাচ্ছে না। সকলেই সুস্থ শরীরে বাড়ি ফিরে আসুক। চাইছেন জয়দেবের বাবা।
উত্তরকাশীতে টানেলের মধ্যে ৯ দিন ধরে আটকে ৪১ জন শ্রমিক৷ তাদের উদ্ধারের জন্য সব রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিছুটা আশার আলো দেখছেন উদ্ধারকারীরা। ছয় ইঞ্চি ব্যাসের একটি পাইপ অকুস্থল পর্যন্ত পৌঁছানে সম্ভব হয়েছে।
তার মধ্যে দিয়ে গরম খাবার, জল, ওষুধ পাঠানো হয়েছে। আটকে থাকা ৪১ জন খেয়েছেন সেই খাবার৷ এই প্রথম তাদের দেখা গিয়েছে। তাদের ভিডিও বাইরে এসেছে। তারা প্রত্যেকেই কথা বলছেন।চলাফেরা করছেন। কিন্তু প্রশ্ন, আর কতদিন? কবে এই অন্ধকূপ থেকে বেরিয়ে বাইরের আলো দেখবেন তারা?












Click it and Unblock the Notifications