ছাত্রদের চুলে বিচিত্র ছাটে বিরক্ত শিক্ষকেরা স্কুলেই বসালেন হেয়ার ড্রেসার
ছাত্রদের চুলের বিচিত্র ছাটের জেরে এবার স্কুলে হেয়ার ড্রেসার। এমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই স্কুল কর্তৃপক্ষ।
ছাত্রদের চুলের বিচিত্র ছাটের জেরে এবার স্কুলে হেয়ার ড্রেসার। এমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুল দুটির একটি পূর্ব মেদিনীপুরে এবং অপরটি মুর্শিদাবাদে। তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের উদ্যোগ প্রশংসা পেয়েছে অভিভাবকদের কাছ থেকে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, পূর্ব মেদিনীপুরের নয়পুটের সুধীর কুমার হাইস্কুল ইতিমধ্যে চুল কাটার দোকানে নোটিশ দিয়েছে। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের নিউ ফরাক্কা হাইস্কুলে চুল কাটার পেশায় নিযুক্ত ৪০ জনকে নিয়ে কর্মশালা করেছে। অনুষ্ঠানে পুলিশ কর্তাদেরও হাজির করানো হয়েছিল। নয়াপুট স্কুলের প্রধানশিক্ষক বসন্ত ঘরাই বলেছেন, সমস্যাটা শুরু হয়েছিল বছর খানেক আগে। তিনি বলেছেন, গত বছর কয়েকজনের মাথায় বিশেষ ধরনের ছাট দেখে তাঁরা আঘাত পেয়েছিলেন। কারও মাথার একেবারে শুধু ওপরের দিকে চুল ছিল। কারও মাথায় চুল ছিল ইংরেজি Z-এর মতো। গত বছর কয়েকজনের মাথায় এটা থাকলেও এবার তা আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।
প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, প্রথমে অভিভাবকদের ডেকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তবে ছাত্র বিষয়টি নিয়ে শাস্তি দিতে গেলে অন্য কিছুর আশঙ্কায় এবার চুল কাটার সঙ্গে যুক্ত স্থানীয়দের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ২ অগাস্ট নয়াপুটের তিনটি চুল কাটার দোকানে পাঠানো নোটিশ বলা হয়েছে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রদের যেন বিশেষ ধরনের চুলের ছাট দেওয়া থেকে তারা যেন বিরত থাকেন। এরপর নাপিতদের স্কুলে ডেকে নিয়ে সতর্কও করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে চুল কাটার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানাচ্ছেন, বালকরা মডেলদের ছবি নিয়ে গিয়ে, দেখিয়ে দেয় তাদের কোন ধরনের ছাট লাগবে। যদি তারা না করেন, তবে অন্য দোকানে চলে যাচ্ছে তারা। তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের উদ্যোগ প্রশংসা পেয়েছে অভিভাবকদের কাছ থেকে।
অন্যদিকে, নিউ ফরাক্কা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলাম বলেছেন, ১৭ জুলাই তিনি স্কুলে যোগ দেওয়ার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। তাঁদের স্কুলে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রদের মাথায় বিশেষ ধরনের চুলের ছাট দেখা যায়। একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রকে বলায়, সে খুব খারাপ ব্যবহার করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এর পরেই স্কুলে নাপিত ডেকে পাঠিয়ে সেই ছাত্রের চুলের ছাট ঠিক করে দেওয়া হয়। এরপর ১ অগাস্ট স্থানীয় ১৭ জন নাপিতকে এক অনুষ্ঠানে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। ৮ অগাস্ট স্কুলে অনুষ্ঠানে পুলিশ ছাড়াও স্কুল শিক্ষা দফতরের কর্তারাও হাজির ছিলেন। অনুষ্ঠানে হাজির ৪০ জন নাপিত আশ্বাস দেন, তাঁরা কোনও ছাত্রের দাবির কাছে মাথা নত করবেন না।












Click it and Unblock the Notifications