৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটার নিয়ে অনিশ্চয়তা, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অপেক্ষায় রাজ্যের ভোট প্রস্তুতি
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে ঘিরে অনিশ্চয়তার মেঘ কাটছে না। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এর আওতায় ইতিমধ্যেই ৬৩ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, কেউ মৃত, কেউ স্থানান্তরিত, কেউ দীর্ঘদিন গরহাজির, এমন নানা কারণে এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু তার থেকেও বড় প্রশ্ন এখন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ 'বিবেচনাধীন' ভোটারকে ঘিরে। তাঁদের নথি খতিয়ে দেখা চলছে, অথচ মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৪ লক্ষ নামের। ফলে বাকি প্রায় ৫৬ লক্ষ নামের ভাগ্য নির্ধারণে কত সময় লাগবে, তা নিয়ে দোলাচলে কমিশনও।
কমিশন অবশ্য আশার কথা শোনাচ্ছে। নিষ্পত্তির গতি বাড়াতে বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। প্রতিবেশী বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে প্রায় ২০০ বিচারক আনা হচ্ছে। তাঁদের যোগদানের পর কাজের গতি বাড়বে বলেই আশা। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও অধরাই। এই পরিস্থিতিতে সকলের নজর এখন দেশের শীর্ষ আদালতের দিকে।

আগামী ১০ মার্চ সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী শুনানি। কমিশন সূত্রে খবর, সেখানে বিবেচনাধীন ৬০ লক্ষ নামের অগ্রগতি তুলে ধরা হবে। কত নিষ্পত্তি হয়েছে, কত বাকি তার পাশাপাশি প্রক্রিয়ার বাস্তব সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার কথাও জানানো হতে পারে বিচারপতিদের।
প্রথম দফার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর স্পষ্ট হয়েছে, সবচেয়ে বেশি 'অ্যাডজুডিকেশন' ঝুলে রয়েছে মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলায়। মালদহে মোট ভোটার ২৯ লক্ষ ৮৬ হাজার ২০৩। তার মধ্যে ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৮০ জন এখনও বিবেচনাধীন তালিকায়। তুলনামূলক বিচারে দেখা যাচ্ছে, গোটা রাজ্যে যত কাজ এগিয়েছে, তা মালদহের অর্ধেক বিচারাধীন ভোটারের নিষ্পত্তির সমানও নয়।
এদিকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি পর্যালোচনায় ব্যস্ত কমিশন। সিইও দফতরে ভার্চুয়াল বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। আগামী সপ্তাহে কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিদল রাজ্যে এসে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, এমন বৈঠকের পরেই সাধারণত ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়।
তবে বুথবিন্যাসে আপাতত কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। রাজ্যে বিদ্যমান ৮০,৬৮১টি বুথই বহাল থাকছে। এসআইআর এর কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে বুথ পুনর্বিন্যাস করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।
ভোট ঘোষণা আগেই নিরাপত্তা বলয় জোরদার করতে শুরু করেছে কেন্দ্র। মোট ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসার কথা রাজ্যে। ইতিমধ্যে প্রথম দফায় ২৪০ কোম্পানি পৌঁছে গিয়েছে। দ্বিতীয় দফার বাহিনী আসবে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ছত্তীসগঢ় থেকে ১২ কোম্পানি সিআরপিএফ প্রথমে কলকাতায় আসবে। তাদের থাকার জন্য বিভিন্ন স্কুল কলেজ চিহ্নিত করে প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।
একদিকে ঝুলে থাকা ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের ভবিষ্যৎ, অন্যদিকে আসন্ন নির্বাচনের ঘড়ি এই দ্বৈত চাপে রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়া এখন সময়ের সঙ্গে দৌড়ে। চূড়ান্ত উত্তর মিলবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে ১০ মার্চের শুনানির উপর।
-
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
আরও একটি সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন, আর কত নাম নিষ্পত্তি হওয়া বাকি? -
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
ভোটের আগে তালিকা সংশোধনে তৎপরতা, সপ্তম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ -
মালদহের অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল মমতা, সুতির সভা থেকে শান্তির বার্তা -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে মালদহে বিচারক ঘেরাও এর ঘটনায় রিপোর্ট তলব কমিশনের -
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
প্রবল ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া, আতঙ্কে পথে মানুষ -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
কালিয়াচক কাণ্ডের পর ফের অশান্তি! অমিত শাহ-র রোড শো ঘিরে ভবানীপুরে ধুন্ধুমার, হাতাহাতি তৃণমূল-বিজেপির -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট












Click it and Unblock the Notifications