টাকা দিচ্ছে না অকর্মণ্য ইউজিসি, অনটনে গবেষকরা
'হীরক রাজার দেশে' সিনেমার সেই সংলাপ মনে আছে? হাসাহাসি নয়, এটাই এখন ঘোর বাস্তব রাজ্যের অন্তত পাঁচ হাজার গবেষকের জীবনে! রাতের পর রাত জেগে কষ্ট করে যাঁরা নেট-জেআরএফ বা সমতুল পরীক্ষায় পাশ করছেন, গবেষণায় যোগ দিয়েও নিস্তার নেই। মাসের পর মাস একটা টাকাও পাচ্ছেন না। কেউ দিতে দিতে পারছেন না বাড়িভাড়া, কারও বই কেনার সামর্থ্য নেই। ফলে লোকসভা ভোটের মুখে রাজ্য রাজনীতিতে এটা একটা ইস্যু হয়ে উঠেছে।
গবেষণা বাবদ প্রতি মাসে গবেষকদের মোটা টাকা পাওয়ার কথা। ঠিকঠাক টাকা পেলে কোনও চিন্তাই থাকত না। অথচ সেটা হচ্ছে না। যেমন ধরুন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০০ জন গবেষকের ৩ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ জন গবেষক পাবেন ৯.৮০ লক্ষ টাকা। রবীন্দ্রভারতী, কল্যাণী এবং উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৫ জন, ৩৬ জন এবং ১০০ জন গবেষক যথাক্রমে পাবেন ২.৫০ কোটি, ৬৫ লক্ষ এবং ২ কোটি টাকা। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৭ জন গবেষক পাবেন ১ কোটি টাকা। কেউ কেউ দশ মাস, কেউ দেড় বছর ধরে একটা টাকাও পাননি। গত শনিবার এ বিষয়ে সমাধান খুঁজতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈঠকে বসেছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা। তাঁরা পরস্পরের উদ্বেগ ভাগ করে নিলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি।
কেন এই অবস্থা?
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তথা কংগ্রেস নেতা ওমপ্রকাশ মিশ্র রাখঢাক না করেই বলেছেন, "এ জন্য দায়ী ইউজিসি। ইউজিসি দুর্বল, অপদার্থ। ওদের বিরুদ্ধে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমি এই সমস্যার কথা কংগ্রেস হাইকমান্ডকে জানাব।" একই সুর শোনা গেল বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য় রঞ্জন চক্রবর্তীর গলায়। তিনি বলেন, "১২ থেকে ১৮ মাস হয়ে গেল। গবেষণা খাতে ইউজিসি টাকা দিচ্ছে না। টাকার আবেদন মঞ্জুর হয়ে চিঠি আসছে, কিন্তু কোনও অজ্ঞাত কারণে আমরা সেই টাকা হাতে পাচ্ছি না।" যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অভিজিৎ চক্রবর্তী বলেন, "অনেক গবেষকের সম্বল ওই ফেলোশিপের টাকাটা। অথচ ইউজিসি টাকা দিচ্ছে না। সঙ্কট কাটাতে বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল থেকে কিছু কিছু টাকা ওদের দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এভাবে কতদিন চলবে?"
রাজ্য সরকার এক্ষেত্রে কী ভাবছে? তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সৌগত রায় বলেন, "ইউজিসি রাজ্য সরকারের আওতায় নেই। মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের অধীন। কিন্তু ওরা কাজ করবে কী? মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী তো দফতরেই আসেন না। এটা কেন্দ্রের ব্যর্থতা। আমরা গবেষকদের দাবি সমর্থন করি।"
গবেষকরা জানাচ্ছেন, তাঁরা বারবার ইউজিসি-কে চিঠি লিখেও ইতিবাচক সাড়া পাননি। সশরীরে ইউজিসি-তে যোগাযোগ করলে সেখানে কর্মীরা দুর্ব্যবহার করে বলে অভিযোগ। তাই ভোটের আগে কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম সব দলকেই গবেষকরা চিঠি লিখছেন সুরাহার আশায়। কবে টাকা পাবেন, কবে অনটন দূর হবে, এখন সেই আশাতে চাতক পাখি হয়ে বসে থাকা!













Click it and Unblock the Notifications