তৃতীয় বিভাগে পাস করেও শিক্ষকের চাকরি, উদয়নের পাল্টা মহম্মদ সেলি্মকে
নিয়োগ দুর্নীতিতে বাম আমলের মন্রীে নিজের বাবা কমল গুহকে কাঠগড়ায় তুলতেও দু-বার ভাবেননি তৃণমূল সরকারের উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ। তা নিয়ে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম আক্রমণ করলেন। তার পাল্টা আক্রমণের মুখেও পড়তে হলে তাঁকে। বাম আমলের দুর্নীতি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে দিলেন তিনি।
উদয়ন গুহ ফেসবুক পোস্টে পাঁচ জনের নাম নিয়ে জানিয়ে দিলেন, আজ মহম্মদ সেলিমের জন্য এঁরা সবাই তৃতীয় বিভাগে পাস করেও প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি করছেন। এই তো এরপর পর পর অনেক নাম আসবে। আজ শুরু হল পাঁচটি নাম দিয়ে। এবার আরও নাম জানতে তৈরি থাকুন।

উদয়ন গুহ বলেন, তাঁরা কীভাবে চাকরি পেয়েছেন, আমি জানতে চাই। আরও নাম বেরোবে। থার্ড ডিভিশনে কোনোরকমে পাস করে শিক্ষক। হয় মাধ্যমিক পাস করেছেন, নাহলে উচ্চমাধ্যমিকে থার্ড ডিভিশনে পাস করে কী করে শিক্ষকের চাকরি পেয়েছেন, সেগুলিই আমি্ কমরেডের কাছে জানতে চাই।
উদয়ন গুহ সেইসঙ্গে বলেন, সিপিএমের চিৎকার করার কোনো অধিকার আছে কি না তাও আমি জানতে। কারও চাকরি খাওয়া বা তাঁর পয়সা ফেরত দেওয়া বা পেনশন আটকে দেওযার অভিষন্ধি নিয়ে আমি এসব করছি না। সেটা আমার উদ্দেশ্য নয়। আমি শুধু সুজন কমরেড, সেলিম কমরেডদের কাছে জানাতে চাই তাদের দুর্নীতির কথা। দুর্নীতি মানেটা কী, তা জানাতে চাই।
সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম কমল গুহের পুত্র উদয়ন গুহকে একহাত নিয়ে সুর চড়িয়েছিলেন, কী করেছেন উত্তরবঙ্গমন্ত্রী? কী করেছেন উত্তরবঙ্গের জন্য। দলবদল ছাড়া কিছু করেছেন নাকি? উদয়ন গুহের উত্তরটা আমি উত্তরবঙ্গে গিয়ে দেবো। উনি তো মস্তানি করেছেন, গুন্ডামি করেছেন। পুর নির্বাচনের আগে বলেছেন বিরোধীদের মেরে তাড়াব। এখনও তিনি জোচ্চুরি ছাড়া কোনো কাজ করছে নাকি?
সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, উদয়ন গুহ গুন্ডামি আর জোচ্চুরি ছাড়া কিছু পারেন না। উনি যা পারেন সেটাই করেছেন। তার থেকে বেশি যোগ্যতা ওনার নেই। তাই বাবাকে নিয়ে প্রশ্ন তুলতেও পিছপা হননি। নিজের বাবাকে পর্যন্ত কালিমলিপ্ত করেছেন।
উল্লেখ্য, সুজন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে যখন অভিযোগ উঠেছে, তখন ছেলে হয়ে নিজের বাবার বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন উদয়ন গুহ। বাম আমলের মন্ত্রী ছিলেন কমল গুহ। ছেলে উদয়ন গুহও তখন বামফ্রন্টে। এখন দলবদলে তৃণমূলের মন্ত্রী হয়েছেন, তিনি বাম আমলের দুর্নীতির কথায় বাবাকেও কাঠগড়ায় তুললেন। উদয়নের মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন ভাগনি উজ্জয়িনী রায়। প্রয়াত দাদুর পাশে দাঁড়িয়ে মামার পদত্যাগ দাবি করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications