মোদীকে মমতার কড়া চিঠির পরেই বড় পদক্ষেপ, ডিভিসি থেকে পদত্যাগ দুই আধিকারিকের
DVC: রাজ্যের আপত্তিকে পাত্তা না দিয়ে ডিভিসি অনিয়ন্ত্রিতভাবে জল ছাড়াতেই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে একাধিক জেলায়। সে কারণেই একে ম্যানমেড বন্যা বলে আখ্যা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রধানমন্ত্রীকে আজ ফের একটি চিঠি পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীকে লেখা মুখ্যমন্ত্রীর চিঠির জবাব দিয়েছিল জল শক্তি মন্ত্রক। তার দাবিকে খণ্ডন করে ফের কড়া চিঠি পাঠালেন মমতা। আর তারপরই দেখা গেল দুটি বড় পদক্ষেপ।

মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টার নোটিশে ৯ ঘণ্টা ধরে বিপুল পরিমাণে জল ছাড়ার ফলেই রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে মোদীকে জানিয়েছেন মমতা। তিনি ডিভিসির চেয়ারম্যানকে নিজে অনুরোধ করেছিলেন, জল ছাড়ার বিষয়টি পিছিয়ে দিতে। এমনকী আপত্তি জানানো হয়েছিল আড়াই লক্ষ কিউসেক জল ছাড়ার ক্ষেত্রেও।
মমতার দাবি, রাজ্যের আপত্তিকে মান্যতাই দেওয়া হয়নি বিভিন্ন ক্ষেত্রে। অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার অভিযোগও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় জল শক্তি মন্ত্রকের সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের প্রতিনিধিরা নেন বলেও দাবি করেছেন মমতা।
এই পরিস্থিতিতে মোদীকে লেখা চিঠিতেই মমতা জানিয়েছিলেন, দামোদর ভ্যালি জলাধার নিয়ন্ত্রক কমিটি থেকে রাজ্যের প্রতিনিধিকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সেই মতো রাজ্য সরকারের সেচ ও জলপথ দফতরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ডিভিআরসিসি থেকে পদত্যাগ করে দিয়েছেন। জল ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে তাঁকেই জানানোর কথা। কিন্তু তা হয় না বা রাজ্যের আপত্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
মমতা আগেই বলেছিলেন ডিভিসির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা। যদিও তার প্রেক্ষিতে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন, উনি যখন বলেছেন তখন করে দেখান। আটটি জেলা অন্ধকারে ডুববে। উল্লেখ্য, এদিন রাজ্যের বিদ্যুৎ সচিব শান্তনু বসু ডিভিসির বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেছেন। ফলে ডিভিসির জল ছাড়া ইস্যুতে কেন্দ্র বনাম রাজ্য সংঘাত তীব্রতর হলো।
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহে বন্যা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রকল্পের বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের উদাসীনতার বিষয়েও এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। লালগোলায় ভাঙন রোধে বর্ডার এরিয়ার রিভার ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্টিভিটিজের খাতে কেন্দ্রীয় বরাদ্দও আটকে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে কেন্দ্রীয় সহযোগিতা আসছে, তাও অপ্রতুল বলে চিঠিতে লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাপনা সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্রের গড়মসিতে ক্ষুব্ধ মমতা প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন, এই বিষয়গুলির দিকে নজর দেওয়ার জন্য।












Click it and Unblock the Notifications