খয়রাশোলে বোমা বাঁধতে গিয়ে বিস্ফোরণে মৃত ২, মিলেছে তৃণমূল যোগ
খয়রাশোল, ২২ জানুয়ারি : বীরভূমে খয়রাশোলে বোমা বাঁধতে গিয়ে বিস্ফোরণ হয়ে মৃত্যু হল ২ জনের। নিখোঁজ আরও একজন। এলাকায় বেআইনি কার্যকলাপ হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা আরও বেশি। কয়েকটি মৃতদেহ ইতিমধ্যেই লোপাট করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ।
প্রসঙ্গত খয়রাশোলের আমোদপুরে এদিন রাতে জলসা চলছিল। জলসার আড়ালেই এলাকার একটি বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাতে বোমা বাঁধার কাজ চলছিল। ঠিক সেই সময়ই বিস্ফোরণ হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। যে বাড়িটিতে বোমা বাধা হচ্ছিল, তা তৃণমূল কংগ্রেসের এক জনপ্রতিনিধি শেখ জাকির হোসেনের। মৃত দুই ভাই শেখ হাফিজুল হোসেন, শেখ তারিখ হোসেন জাকির হোসেনেরই ভাই।

প্রথমে ভাবা হয়েছিল, গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে এই বিস্ফোরণ। কিন্তু পরে পুলিশ ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অনেকগুলি তাজা বোমা উদ্ধার করেছে। এবং বোমা তৈরির প্রচুর সরঞ্জাম মিলেছে। এই ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন গ্রামবাসীরা। এলাকায় কড়া নিরাপত্তা জারি করেছে পুলিশ। মোতায়েন করা হয়েছে আধা সামরিক বাহিনি।
উল্লেখ্য শাসক দলের যে জনপ্রতিনিধির নাম এই মামলায় জড়িয়েছে, তার ভাইও বোমা বাধার কাজে হাত লাগিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। দুই ভাই-ই ঘটনার পর পলাতক। যে বাড়িটিতে বিস্ফোরণ হয়েছে, তার ছাঁদ ভেঙে পড়ে গিয়েছে। ভেঙে পড়েছে বাড়ির একাংশও। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান কোনও নাশকতার ছক কষা হচ্ছিল। কারণ যে বিস্ফোরণ হয়েছে তা শুধু মাত্র তাজা বোমার হতে পারে না। বিস্ফোরণটি শক্তিশালী ছিল বলেই বাড়িটি এইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাংশের মতে ফের খাগড়াগড় কাণ্ডের ছায়াই খয়রাশোলে নয় তো। অর্থাৎ খয়রাশোল বিস্ফোরণ কাণ্ডেও জঙ্গিযোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে বিরোধীরা। শীঘ্রই এই ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-এর হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications