শুভেন্দুকে নিয়ে আলোচনার অবকাশ রয়েছে! প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল, বাড়ল জল্পনা
শুভেন্দুকে নিয়ে আলোচনার অবকাশ রয়েছে! প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল, বাড়ল জল্পনা
শুভেন্দু অধিকারী ( subhendu adhikari) এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের (trinamool congress) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা, শীর্ষ কমিটির সদস্য। এদিন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এমনটাই মন্তব্য করেছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ভ্রাতৃপ্রতিম এবং এবং কলকাতায় তাঁর প্রতিবেশিও।

শুভেন্দুর সঙ্গে পরিচায় দীর্ঘদিনের
শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় দীর্ঘদিনের। মন্তব্য করেছেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেছেন, মাঝখানে কিছু ভুল বোঝাবুঝি ছিল। কী কারণে তা হয়েছিল, তা সম্ভবত দুজনেই বুঝেছেন। তার যথাসম্ভব অবসান ঘটিয়ে আবার দুজনের যোগাযোগ এবং বাক্যালাপ আছে বলে জানিয়েছেন কুণাল ঘোষ।
তিনি বলেছেন, বন্দিদশার পর মায়ের মৃত্যু শুভেন্দুকে নাড়া দিয়েছিল। আজও বলে," আপনার মা খুব কষ্ট পেয়েছেন, আপনিও।" মা চলে যাওয়ার পর শ্রাদ্ধের জন্য আমি কাছা পরে নিজাম প্যালেস গিয়ে মুকুলদাকেও আমন্ত্রণ করে এসেছিলাম। মুকুলদা তখন তৃণমূলে। আসেনি। অনেক পরে রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে আমাদের পুজো উদ্বোধনে এসেছিল। কিন্তু শুভেন্দু কলকাতার একটি স্থানে এই কাছা পরা কুণাল ঘোষের জন্যে এসেছিল এবং রাতে দুঘন্টা সময় দিয়ে নানা আলোচনা করে আমাকে মানসিকভাবে ঠিক রাখার ভূমিকা পালন করেছিল। আগামী দিন যাই হোক এই ব্যক্তিগত অংশ মনে রাখব।

শুভেন্দু জেদি, ভিন্ন ঘরানার
কুণাল ঘোষ বলেছেন, শুভেন্দু অধিকারী স্বকীয় ব্যক্তিত্ব, ইগো, জেদে চলা একটু ভিন্ন ঘরানার ছেলে। তার পজিটিভ এবং নেগেটিভ, দুদিকই ব্যাখ্যা করা যায়। কিন্তু কথা বলতে ভালো লাগে।
তিনি শুনেছেন, শুভেন্দুর নানা ক্ষোভ আছে। শুভেন্দু বেশ কিছু পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছে। ও নাকি সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেবে। অথবা আলাদা একটি দল বা মঞ্চ গড়ে বিজেপি ও অন্য একাধিক দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করবে। যদিও এখনও সে দলেই আছে বলে মন্তব্য করেছেন কুণাল ঘোষ। তিনি আশা করছেন শুভেন্দু অধিকারী দলেই থাকবেন। তৃণমূল মুখপাত্র বলেছেন, শুভেন্দুর ক্ষোভগুলি তিনি জানেন। কিছু বিষয়ে একমত নন। আবার হয়ত কিছু বিষয়ে আলোচনার অবকাশ আছে। কিন্তু তাই বলে শুভেন্দুর দল ছাড়ার ভাবনা সমর্থন করেন না। শুভেন্দু অধিকারীকে তৃণমূলের অন্যতম মুখ বলেও বর্ণনা করেছেন তিনি। তৃণমূল শুভেন্দুকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার শীর্ষপদ, দলের শীর্ষপদ দিয়েছে। তৃণমূলে ও ভালোবাসার মুখ। মমতাদি ওকে সাংসদ থেকে মন্ত্রী করে এনেছেন।

বিজেপির ফাঁদে পা দেবে বলে মনে হয় না
কুণাল ঘোষ বলেছেন, কৈলাস বিজয়বর্গীয়র প্ররোচনা শুনেছেন, শুভেন্দু সম্মান নিয়ে চলে। ও তৃণমূলে থাকতে পারবে না। তিনিও জানেন শুভেন্দু সম্মান নিয়ে চলে। কুণাল ঘোষ বিজেপির প্রতি কটাক্ষ করে বলেছেন, সেই বিজেপিই ২০১৬-তে ভোটের মুখে নিজেদের পার্টি অফিসে টিভি স্ক্রিনে নারদার ভিডিও দেখিয়ে, শুভেন্দুকে কালিমালিপ্ত করে, গ্রেপ্তার চেয়ে, সিবিআই আর ইডি লাগায়। আজ নিজেদের স্বার্থে বিজেপি নেতারা ওর প্রশংসা করছেন। শুভেন্দু কি সেই অসম্মান ভুলে বিজেপির ফাঁদে পা দেবেন, প্রশ্ন করেছেন কুণাল ঘোষ।
তিনি বলেছেন, আজ ভোটের মুখে কেন দলকে বিপাকে ফেলব? আজ যখন প্রতিপক্ষ সর্বশক্তিতে নামছে, তখন দলের সঙ্গে থাকব, যে দলে ছিলাম এবং আছি। কুণাল ঘোষ বলেছেন, কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাতে তাঁরও মামলা আছে। জল্পনা হবে সিবিআই ইডির ভয়ে শুভেন্দু দলকে সমস্যায় ফেলছে। এটা ওকে মানাবে না। মানাতে পারে না।
শুভেন্দুর যা যা ক্ষোভ, দলে থেকে দলের মধ্যে বসে লড়াই করুক। মেটাক। ২০২১ নির্বাচনের আগে এসে হঠাৎ ক্ষোভ দেখাতে গিয়ে বিজেপির সুবিধে করে দেওয়া শুভেন্দুর মত রাজার মেজাজে থাকা ছেলেকে মানায় না। তিনি মনেপ্রাণে চাইবেন শুভেন্দু তৃণমূলে থাকুক। স্বমহিমায় থাকুক।

বিরোধী মজা পাবে
কুণাল ঘোষ বলেছেন, আর যদি একান্তই অন্য কিছু হয়, যদি কোনও বাধ্যবাধকতায় কোথাও কথা দেওয়া থাকে, তাহলে পথ আলাদা হবে। তখন স্বাভাবিক নিয়মেই নেতিবাচক দিকগুলি পরস্পরের অস্ত্র হবে। মজা দেখবে অন্যরা। শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি আবেদন জানিয়ে তিনি বলেছেন, যে দল তোমাকে নারদার কালি লাগিয়ে সিবিআই ইডির বকলস পরিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে, তাদের চক্রান্তে আত্মসমর্পণ করো না।

অভিষেক পরিশ্রম করছে
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে কুণাল ঘোষ বলেছেন, সে তাঁদের থেকে অনেক ছোট। অক্লান্ত পরিশ্রম করছে দলটাকে নিয়ে। বিতর্কে এবং প্রতিপক্ষের প্রতিমুহূর্তের লক্ষ্যবিন্দু। কৌশলে তাকে বিদ্ধ করছে বিজেপি। শুভেন্দুকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, ক্ষোভ থাকলে দলের মধ্যেই সমাধান করা হবে।












Click it and Unblock the Notifications