বিধায়ক পদে ইস্তফা তৃণমূলের প্রভাবশালী বিধায়কের! রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ২০২১-এর আগে আরও এক জল্পনা
বিধায়ক পদে ইস্তফা তৃণমূলের প্রভাবশালী বিধায়কের! রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ২০২১-এর আগে আরও এক জল্পনা
তৃণমূলের (trinamool congress) অন্তর্দ্বন্দ্ব এবার গড়াল বিধায়কের বিধায়ক পদে ইস্তফায়। এতদিন পর্যন্ত একের পর এক বিধায়ক সংবাদ মাধ্যমের সামনে বিদ্রোহী হয়েছে। বলেছেন আর নয় তৃণমূলে। কিন্তু এদিন স্পিকারের হাতে নিজের পদত্যাগ পত্র তুলে দিলেন হরিপালের তৃণমূল বিধায়ক বেচারাম মান্না।

শুরু হয়েছিল রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে দিয়ে
হুগলিতে তৃণমূলের বিদ্রোহ সামনে আসে রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে দিয়ে। নিজের মনোনীতকে জেলা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত না করার অভিযোগে সিঙ্গুরের প্রবীণ বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। দিন তিনেক আগে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, যদি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এর পরিবর্তন না করে, তাহলে দল পরিবর্তন করতে পারেন তিনি। সিঙ্গুরের মাস্টার মশাই বলেছিলেন, লোকসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর যে লড়াকু কর্মীরা খেটে দলের পরিস্থিতি ফেরানোর চেষ্টা করছিলেন, তাঁদের সরিয়ে পিকের টিমের রিপোর্টের ভিত্তিতে নতুন কমিটিতে দুর্নীতিগ্রস্তদের বসানো হয়েছে।

ইঙ্গিত ছিল বেচারাম মান্নার দিকে
প্রবীণ এই বিধায়কের অভিযোগ ছিল অন্যায় করেও দলের পরিচালক হতে পারলেও, যাঁরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন, তাদের কার্যত দল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হল। সূত্রের খবর অনুযায়ী, তাঁর গোষ্ঠীর নেতা মহাদেব দাস সম্পর্কে এই মন্তব্য করেছিলেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য সিঙ্গুরে রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের সঙ্গে বেচারাম মান্নার সংঘাত দীর্ঘদিনের।

দলের তরফ থেকে দুই নেতাকে মেনে নিতে চাপ
সূত্রের খবর অনুযায়ী, রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ফোঁস করার পরেই জানা যায় হুগলির এক তৃণমূল নেতা নন্দীগ্রাম দিবসে গিয়েছিলেন গোকুলনগরে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সভায়। তাঁকে দল সম্পর্তি অবজ্ঞা করতে শুরু করে বলে অভিযোগ। এরপর তৃণমূলের তরফে দলে রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য এবং শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ দুই নেতাকে নেমে নিতে বেচারাম মান্নাকে চাপ দেয় বলে জানা গিয়েছে।

স্পিকারের কাছে পদত্যাগ পত্র
এদিন দুপুরে বিধানসভায় গিয়ে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বেচারাম মান্না নিজের পদত্যাপ পত্র পেশ করেন বলে জানা গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্পিকার এখনও কোনও বিবৃতি দেননি। তবে তার আগে হুগলির তৃণমূল নেতৃত্বকে সেই সিদ্ধান্তের কথাও তিনি জানিয়ে যান। সূত্রের খবর বুধবার রাতে বেচারাম মান্নাকে ফোন করেছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে সুপ্রিমো বেচারামকে ধমকও দেন বলে জানা যাচ্ছে।

পদত্যাগ করতে চলেছেন বেচারামের অনুগামীরা
সূত্রের আরও খবর শুক্রবার বেচারাম মান্নার অনুগামীরা গণ পদত্যাগ করতে চলেছেন। ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, বুধবার রাতের পর থেকে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিঙ্গুর আন্দোলনের এই সঙ্গী। সূত্রের আরও খবর বেচারাম মান্নাকে নাকি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এবার হরিপাল থেকে তৃণমূলের টিকিট দেওয়া হবে জেলাপরিষদের সদস্য সমীরণ মিত্রকে। ফলে বেচারাম মান্না আর দেরি করেননি। ইস্তফা দিয়েছেন বিধায়ক পদ থেকে।












Click it and Unblock the Notifications