কেষ্টর গড়ে বিজেপির উসকানির আগুন, দাউদাউ জ্বলল তৃণমূল পার্টি অফিস
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল শাসকদলেরই পার্টি অফিস। আর এই ঘটনা ঘটল খোদ অনুব্রত মণ্ডলের গড়ে।
পঞ্চায়েত ভোট এখনও অনেক দূরে। এখন থেকেই জ্বলতে শুরু করল রাজ্য। সেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল শাসকদলেরই পার্টি অফিস। আর এই ঘটনা ঘটল খোদ অনুব্রত মণ্ডলের গড়ে। শুক্রবার ভোররাতে বীরভূমের মহম্মদ বাজারের তৃণমূল পার্টি অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনায় অভিযোগের তির বিজেপির দিকে।

তৃণমূলের পার্টি অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বেধে যায়। এই ঘটনায় দু'দলের অনেকেই জখম হন। জখম সদস্যদের সিউড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিশাল বাহিনী ও কমব্যাট ফোর্স নামিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে জেলা পুলিশ।
বিজেপি এই অভিযোগ সমূলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, এই ঘটনা তৃণমূলের গোষ্ঠীসংঘর্ষের ফল। এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগসাজোশ নেই। তৃণমূল কংগ্রেস চক্রান্ত করে ফাঁসাতে চাইছে এলাকার বিজেপিকর্মীদের। এই ঘটনা আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটের আগে বীরভূমে তথা রাজ্যজুড়ে হিংসার বাতাবরণ তৈরি করছে।
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের করা কিছু উসকানিমূলক মন্তব্যের জেরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এলাকায়। তারপর পাল্টা হুমকি ছাড়ে বীরভূমের বিজেপি নেতৃত্ব। জেলা বিজেপি পর্যবেক্ষক হুমকি দেন, বীরভূমে তৃণমূল যা অরাজককতা চালাবে, আমরা তার থেকেও বেশি অরাজকতা চালাব। তাঁর এই হুমকিতে, বদলার রাজনীতিই ফের সামনে চলে আসে।
ঘটনা পরম্পরায় তাঁর সেই হুমকির পরই বীরভূমে তৃণমূল অফিসে পুড়িয়ে দিল দুষ্কৃতীরা। আর অভিযোগের তির ছুটল বিজেপির দিকে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, বিজেপির পক্ষে এই প্রতিহিংসার রাজনীতি ভালো লক্ষণ নয়। একাংশের মতে, তৃণমূল সরকারে বসার পর বদলের পরিবর্তে বদলার রাজনীতি শুরু করেছিল, বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগেই শুরু করে দিয়েছে বদলা নেওয়া।
পুলিশ এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। দমকলের ইঞ্জিন এসে আগুন নেভায়। কিন্তু দমকল আসার আগেই পুরো অফিস পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই ঘটনার পিছনে কাদের হাত রয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশের পর আপাত শান্ত অনুব্রত মণ্ডল এই অগ্নিকাণ্ডের পরও নীরবতা বজায় রেখেছেন।












Click it and Unblock the Notifications