তৃণমূল কংগ্রেসে সমীক্ষা ভরসা! ‘মিনি বিধানসভা নির্বাচনে’ জয়ের কৌশল তৈরি প্রশান্ত কিশোরের
২০২১-এ বিধানসভা ভোটের আগে আরও এক বড় লড়াই অপেক্ষা করে আছে তৃণমূলের জন্য। ২০২১-এ ভোটের আগেই ‘মিনি বিধানসভা নির্বাচনে’ বিজেপির মুখোমুখি হতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে।
২০২১-এ বিধানসভা ভোটের আগে আরও এক বড় লড়াই অপেক্ষা করে আছে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য। ২০২১-এ ভোটের আগেই 'মিনি বিধানসভা নির্বাচনে' বিজেপির মুখোমুখি হতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে। ২০২০-র পুরসভা নির্বাচনে জিততে তাই এখন থেকেই অঙ্ক কষছে তারা। তা নিশ্চিত করতেই তৃণমূল কংগ্রেস এক গোপন সমীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পুরসভা ভোটের আগে জল মাপতে চাইছে তৃণমূল
রাজ্যে ১০৭টি পুরসভা এবং কলকাতা পুর নিগমের ভোট আগামী বছরেই। তার আগে তৃণমূলকে চাপে ফেলে দিয়েছে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল। লোকসভা নির্বাচনের ফল দেখিয়েছে, একাংশের সমর্থন হারিয়েছে তৃণমূল। আর সেই সুযোগ নিয়ে ফায়দা তুলেছে বিজেপি। তাই পুরসভা ভোটের আগে জল মাপতে চাইছে তৃণমূল।

জনমত কোন দিকে, জানতে সমীক্ষা
তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব সমর্থনের ভিত্তি এবং সংগঠন নিয়ে মত যাচাই করতে একটি সমীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২০ সালে নির্বাচনের আগে এই সমীক্ষা চালিয়ে তৃণমূল বুঝে নিতে চাইছে জনমত কোন দিকে। সেই কারণেই পিকে অর্থাৎ প্রশান্ত কিশোর তাঁর ‘আই-প্যাক' টিমকে নামিয়ে দিয়েছেন সমীক্ষার ময়দানে।

‘মিনি বিধানসভা নির্বাচন’ জিততে
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এই পুরসভা নির্বাচনকে ‘মিনি বিধানসভা নির্বাচন' হিসাবে দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস। ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর সেই ‘মিনি বিধানসভা নির্বাচন' জিততে চাইছেন যো কেনও মূল্যে। সেই কারণেই তিনি সমীক্ষা চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্বকে। জনমত কী চাইছেন, কোথায় তাঁদের অসুবিধা, তা জানাই আশু প্রয়োজন বলে মনে করছে পিকে।

বাংলার কতটা গভীরে বিজেপি, জানতে সমীক্ষা
সমীক্ষা চালিয়ে প্রশান্ত কিশোর জানতে চাইছেন, দলের ভিত্তি, স্থানীয় সমস্যা, কাউন্সিলরদের ভাবমূর্তি, স্থানীয়দের অভিযোগ এবং সেই অঞ্চলগুলিতে বিজেপি কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছে। এই নভেম্বর থেকে সমীক্ষা শুরু হচ্ছে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে সমীক্ষা শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।

সমীক্ষা রিপোর্টের ভিত্তিতে ভোট-কৌশল স্থির
এই সমীক্ষা রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই আসন্ন নির্বাচনের জন্য ঘূঁটি সাজাবে তৃণমূল। পিকে ভোট-কৌশল রচনা করবেন। সেই আঙ্গিকেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং টিএমসি সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে মিউনিসিপাল নির্বাচনের খসড়া কৌশল প্রস্তুতের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর।

২০২০-তে রাজ্যের ৬০ শতাংশে ভোট
১০৭টি পুরসভা ও কলকাতা পুর নিগম রাজ্যের প্রায় ৬০ শতাংশ কভার করছে। অর্থাৎ ২০২০-তে রাজ্যের ৬০ শতাংশে ভোট হবে। এই ভোট ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফলের সূচক হিসাবে কাজ করবে। রাজ্যে বিজেপি গভীরভাবে ছেয়েছে খুব স্বল্প দিনে। কংগ্রেস ও বামফ্রন্টকে তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থানে ঠেলে দিয়েছে তারা।

২০২০ সালে পুরসভা ভোটকে বিশেষ গুরুত্ব
রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের প্রধান চ্যালেঞ্জার হয়ে উঠেছে বিজেপি। তাদের রুখতে তাই নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করতে হচ্ছে প্রশান্ত কিশোরকে। এই কারণেই ২০২০ সালে পুরসভা ভোট বিশেষ গুরুত্ব অর্জন করেছে। এই সমীক্ষাই তৃণমূলকে পরবর্তী লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যাবে। এই সমীক্ষা ধরেই শূন্যস্থান পূরণ করবে তৃণমূল

ওয়ার্ডভিত্তিক ২০ জন কর্মী চাই
এই লক্ষ্য পূরণে আগেই বুথভিত্তিক ২০ জন সক্রিয় কর্মীকে চেয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। প্রতি ওয়ার্ডে একটা দল তৈরি করে তাদের উপর বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হবে। প্রতি ওয়ার্ড সভাপতিকে ৫ থেকে ২০ জনের নাম দিতে বলা হয়েছে। পরে আরও নাম চাওয়া হতে পারে। তাঁদেরকে বেছে নেবেন প্রশান্ত কিশোর নিজে।

২০ জনের নামের তালিকা ও ঠিকানা
ওই ২০ জনের নামের তালিকা ও ঠিকানা ১০ দিনের মধ্যে জমা করার নির্দেশ দিয়েছিলেম একমাস আগেই। ওয়ার্ড ও ব্লক সভাপতিরা সেইমতো নাম পাঠিয়েছেন বা পাঠাচ্ছেন। সমস্ত শ্রেণির মানুষকে সেই তালিকায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। দলীয় নিচুতলার কর্মী ছাড়াও রাজনীতির বাইরে থাকা বিশিষ্ট মানুষেরা আছেন এই তালিকায়।

বুথভিত্তিক তিনজনের কমিটি
তিনি জানিয়েছিলেন, বুথভিত্তিক তিনজনের একটি কমিটিও গঠন করা হবে। সেই নামও চেয়ে পাঠানো হয়েছে ইতিমধ্যে। এদের সঙ্গেই সরাসরি যোগাযোগ রাখবে শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রয়োজনে এঁদের কাছ থেকে খোঁজ খবর নেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এইভাবেই নিচুতলার সঙ্গে শীর্ষনেতৃত্বের যোগসাধনও হবে।












Click it and Unblock the Notifications