থালা, বাটি, হুইসেল বাজালেন তৃণমূল-বিজেপি বিধায়কেরা, আজও বিধানসভায় উঠল 'চোর' স্লোগান
আজ বৃহস্পতিবারও কার্যত একই রকম পরিস্থিতি থাকল রাজ্য বিধানসভায়। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি দুই পক্ষ একে অপরের বিপরীতে বসে বিক্ষোভ দেখাল। 'চোর' স্লোগান উঠল আরও একবার। তৃণমূল বিধায়করা থালা বাজালেন। বিজেপির বিধায়করাও একই ভূমিকা নিলেন। রীতিমতো অস্বস্তিকর পরিবেশ থাকল বিধানসভায়।
বুধবার নজিরবিহীন ঘটনা দেখেছে রাজ্য। বিধানসভার চত্বরে 'চোর, চোর' স্লোগান উঠেছিল। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি একে অপরের দিকে কার্যত হামলে পড়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে 'চোর' স্লোগান দেওয়া হয়। 'মুখ্যমন্ত্রী মমতা চোর' এই স্লোগান দেওয়া হয়েছিল বিজেপির পক্ষ থেকে। বাংলার রাজনীতিতে আগে এই ঘটনা ঘটেনি। এমনই দাবি করেছে ওয়াকিবহাল মহল।

আজ বৃহস্পতিবার বি আর আম্বেদকরের মূর্তির সামনে তৃণমূলের শেষ দিনের কর্মসূচি চলে। অধিবেশনের পর তৃণমূলের মন্ত্রী বিধায়করা মূর্তির নীচে পৌঁছে যান। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ ধর্না অবস্থান চলতে থাকে। বিজেপি বিধায়করা পৌঁছে গিয়েছিলেন বিধানসভার গাড়ি বারান্দার সিঁড়িতে। তৃণমূল যেখানে অবস্থান করছে, তার উল্টোদিকেই তাঁরা সিঁড়িতে বসে পড়েন।
বিধানসভায় গিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ধর্না কর্মসূচি চলছে তৃণমূলের। তাই দেখে বিধানসভা থেকে আর বেরোননি শুভেন্দু। বিজেপি বিধায়করা একইভাবে ধর্না কর্মসূচি শুরু করেন। আবার সেই 'চোর' স্লোগান ওঠে বিধায়কদের মধ্যে থেকে।
দুই পক্ষই একে অপরের দিকে স্লোগানিং করতে থাকে। এদিন আরও অসহায় পরিস্থিতি দেখা গেল রাজ্য রাজনীতিতে। শাসক দলের মন্ত্রী বিধায়করা থালা নিয়ে এসেছিলেন। সেই থালা বাটি বাজানো শুরু হল। বিজেপি বিধায়করাও থমকে যাননি। তারাও একইভাবে থালা, হুইসেল বাজাতে শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরেই চলে এই পরিস্থিতি। বিধানসভা চত্বর যেন হইহই রইরই পরিস্থিতিতে মুখিয়ে থাকে।
বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত তৃণমূলের এই কর্মসূচি হওয়ার কথা। গতকাল মুখ্যমন্ত্রী এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন। গতকাল মুখ্যমন্ত্রী বেরিয়ে গিয়েছিলেন বিকেল পাঁচটার পরে। তারপরও বিধানসভার চত্বরে উত্তেজনার পরিস্থিতি ছিল। সেই পরিস্থিতি যাতে আজ তৈরি না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখেছে প্রশাসন। কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট সিপি এস্টাবলিশমেন্ট মিরাজ খালিদ, ডিসি সেন্ট্রাল দীনেশ কুমার, ডিসি এনফোর্স ব্রাঞ্চ রাহুল দে রয়েছেন।
বিধানসভা চত্বরে বরাবর পুলিশ মোতায়েন থাকে। নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকে সব দিকে। কিন্তু বিধায়ক, মন্ত্রীরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়, সেজন্য পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে পুলিশ প্রশাসন। শুভেন্দু অধিকারীকে শীতকালীন অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে আগেই।
গতকাল জাতীয় সঙ্গীত চলার সময় বিজেপি বিধায়করা স্লোগান দিয়েছেন। জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা হয়েছে। এই অভিযোগ বিজেপি বিধায়কদের বিরুদ্ধে উঠেছে। ১২ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে হেয়ার স্ট্রিট থানায়। তালিকায় শুভেন্দু অধিকারী, মনোজ টিগগা, শঙ্কর ঘোষ সহ অন্যরা আছেন।












Click it and Unblock the Notifications