রাখিতে বাঁধা পড়বে গাছও, অভিনব উদ্যোগ কলকাতার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার
রাখিতে বাঁধা পড়বে গাছও, অভিনব উদ্যোগ কলকাতার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার
একটি গাছ একটি প্রাণ। তাই প্রাণের জন্য রাখি বন্ধন উৎসবের আগের দিন রবিবার এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। সেখানে রাখি বাঁধা হবে নানা গাছের কান্ডে, শাখায় শাখায়।

সৌভ্রাতৃত্বের রাখি বন্ধন উৎসব চালু করেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ প্রতিরোধ করার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখী বন্ধন উৎসব পালন করেছিলেন। তিনি কলকাতা, ঢাকা ও সিলেট থেকে হাজার হাজার হিন্দু ও মুসলিম ভাই ও বোনকে আহ্বান করেছিলেন একতার প্রতীক হিসাবে রাখি বন্ধন উৎসব পালন করার জন্য।
কিন্তু এখন শ্রাবণ মাসে রাখীবন্ধন উৎসবের দিন দিদি বা বোনেরা তাদের ভাই বা দাদার হাতে রাখী বেঁধে দেয়।

তাদের শুভকামনার জন্য। এবার সেই সম্পর্কে বাঁধা পড়ছে গাছেরাও। তাও এই খাস কলকাতার বুকে সৌভ্রাতৃত্বের প্রতীক এই রাখি বেঁধে দিয়ে গাছের সঙ্গে মানুষের যে নিবিড় সম্পর্ক, তা প্রতিস্থাপন করতে চান সংস্থার সদস্যরা। এদিন বিকাল ৫টার সময় উত্তর কলকাতার শোভাবাজার লঞ্চ ঘাটে উদযাপিত হবে এই অভিনব রাখী বন্ধন উৎসব।

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে সমিত সাহা জানান, এই গাছেরাই তো আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে, আমাদের সভ্যতাকে টিকিয়ে রেখেছে। এই গাছেরা না থাকলে পৃথিবীতে আমরাও বেঁচে থাকতে পারবো না। তাই মানুষকে প্রতি পদে পদে বোঝাতে হবে একটি গাছ একটি প্রাণ। এবং এই পৃথিবীকে সবুজ করে রাখতে হলে, সুন্দর করে রাখতে হলে, দূষণমুক্ত রাখতে হলে গাছ আমাদের বাঁচাতেই হবে। গাছের সঙ্গে সৌভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও জানান, 'আম্ফানে এই শহরের বুকেই কুড়ি হাজার গাছ উপড়ে পড়েছিল। গোটা রাজ্যে সেই সংখ্যা প্রায় এক লক্ষের কাছাকাছি। এই অবস্থায় রাখী বন্ধনের দিন সেই গাছকেই কাছে টেনে নিচ্ছি। বেশ কিছু বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা যারা মিলিত ভাবে এই উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁরা অনুষ্ঠানের নাম রেখেছে, 'প্রানের জন্য রাখী'।

এই প্রথম এমন এক অনুষ্ঠান কলকাতার বুকে আয়োজিত হতে চলেছে যেখানে প্রধান অতিথি থেকে বিশেষ অতিথি সবাই গাছ। দর্শক আসনেও শুধু গাছ। গাছকেই জানানো হবে যোদ্ধার সন্মান, কারন গাছই আমাদের শক্তির আধার। তাই গাছকে রাখী পরিয়ে বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে, 'গাছ বাঁচাও সভ্যতা বাঁচাও।'












Click it and Unblock the Notifications