ভবিষ্যতের বার্তাবাহী! একনজরে ফিরে দেখা ২০১৮-তে বাংলার সেরা ১০
আরও একটা বছর শেষ। দরজায় কড়া নাড়ছে নতুন এক বছর। যাকে বরণ করে নিতে নিতেই বাংলার কিছু ঘটনা দেখে নেওয়া। যা ফেলে আসা বছরে উল্লেখযোগ্য তো বটেই অনেকের মনকে যা নাড়া দিয়ে গিয়েছে।
আরও একটা বছর শেষ। দরজায় কড়া নাড়ছে নতুন এক বছর। যাকে বরণ করে নিতে নিতেই বাংলার কিছু ঘটনা দেখে নেওয়া। যা ফেলে আসা বছরে উল্লেখযোগ্য তো বটেই অনেকের মনকে যা নাড়া দিয়ে গিয়েছে। কারও ঘর ভেঙেছে কারও গড়েছে। কেউ নির্বাচনে জিতেছেন, কেউ হেরেছেন। জন্ম মৃত্যু আছে সবই। এইসব ঘটনার অনেকগুলির প্রভাব থাকবে সামনের বছরেও।

রথযাত্রা
শুরুতেই রথযাত্রার কথা। কেননা এই ইস্যুতেই সরগরম এখন বঙ্গ রাজনীতি। বিজেপি তিন রথ নিয়ে পুরো বাংলায় তাদের প্রচার চালাতে চায়। বাংলায় গণতন্ত্র বাঁচানোর ডাক দেওয়া হয়েছে এই রথযাত্রার মাধ্যমে। চারটি আবেদনে সরকার সাড়া না দেওয়ার বিজেপি আদালতে যায়। সেখানে বাধা পড়ে যায় রথযাত্রা। আদালতে এনিয়েই চলছে সওয়াল-জবাব। বিজেপি কাছে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এই কর্মসূচি চলাকালীন কিংবা শেষ করার পরেই রাজ্যে আসবেন অমিত শাহ থেকে নরেন্দ্র মোদী। টার্গেট যে ৪২-এ ২২। কিন্তু তৃণমূল কোনও ভাবেই এর কাছে হার মানতে রাজি নয়। এই দুই যুযুধানকে বাদ দিলে রাজ্যের অধিকাংশ সময় শাসনে থাকা কংগ্রেস ও বামেদের অস্তিত্ব কতটুকু তা প্রমাণ দেবে লোকসভা।

পঞ্চায়েত নির্বাচন ২০১৮
এবছরের পঞ্চায়েত নির্বাচন ছিল ঘটনা বহুল। রাস্তার ধারে উন্নয়ন দাঁড়িয়ে থাকা থেকে বিরোধীদের মনোনয়ন পেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ। হাইকোর্টে ঘুরে সেই প্রক্রিয়া চলে যায় সুপ্রিম কোর্টে। ৩৪ শতাংশ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করে তৃণমূল। বাকি ৬৬ শতাংশের অধিকাংশে জয় পায় শাসকদল। তবে গ্রাম বাংলায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে বিজেপি।

উপনির্বাচন
২০১৮-তে রাজ্যে যতগুলি উপনির্বাচন হয়েছে, তাতে জয়লাভ করেছে শাসকদল। আর বিজেপি পেয়েছে দ্বিতীয়স্থান। একেবারে বছরের শুরুতেই উলুবেড়িয়া লোকসভা এবং নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন হয়। আর বছরের মাঝামাঝি সময়ে হয় মহেশতলার উপনির্বাচন। মহেশতলায় স্মরণকালের মধ্যে সবথেকে বেশি ভোটে জয়। আর সেই জয় পায় তৃণমূল। সবকটি ক্ষেত্রেই বামেদের ভোট আগের ভোটগুলির থেকে যায়।

অনুব্রতর পাঁচন
বিরোধী মোকাবিলায় বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি পাঁচন প্রয়োগের কথা বলেছেন। যদি সরাসরি বিরোধীদের মোকাবিলা করতে এর কথা না বললেও, হাবে-ভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছেন সে কথা। যার জন্য কর্মী-সমর্থকদের বাঁশের লাঠিও তুলে দিয়েছেন তিনি। সামনে লোকসভা নির্বাচন, যার লড়াই তুলনামূলকভাবে কঠিন। সেই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার পথ ইতিমধ্যেই বের করে ফেলেছেন অনুব্রত মণ্ডল। পঞ্চায়েত ভোটের আগে বলেছিলেন রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকবে উন্নয়ন। আর সেই জন্যই হয়তো রাজ্যের অধিকাংশ জায়গাতেই মনোনয়নপত্র পেশে বাধা পেয়েছেন বিরোধীরা। যদিও বাধার অভিযোগ মানতে নারাজ অনুব্রত থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতৃত্ব।

তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব
একদিকে যখন অনুব্রত মণ্ডল পাঁচন প্রয়োগের কথা বলছেন, ঠিক সেই সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল যুবর সঙ্গে তৃণমূলের লড়াই চলছে ক্ষমতা দখলের। যেসব জায়গার এই লড়াই দিনের আলোয় পরিষ্কার সেই সব জায়গার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল কোচবিহার। আরও নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে দিনহাটা।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে থেকে বছর শেষ হওয়া পর্যন্ত বেস কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে এই লড়াইয়ে। যদি তৃণমূলের অভিযোগ বিরোধীদের আক্রমণে এই মৃত্যু। আর যেখানে যত ক্ষমতার জোর, সেখানেই ততই জোর অন্তর্দ্বন্দ্বের। এমনই এক জায়গা হল বীরভূমের খয়রাশোল। সেখানে যিনিই তৃণমূল সভাপতি হচ্ছেন তিনিই খুন হয়ে যাচ্ছে। ফলে একরকম বাধ্য হয়ে খয়রাশোলে সভাপতি পদই তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন বীরভূমের কেষ্ট মণ্ডল। বছরের শেষ মাসে তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জয়নগরে ৩ জন এবং পুরুলিয়ায় ১ জন খুন হয়ে যান।

সিঙ্গুর থেকে সিপিএম-এর পদযাত্রা
সিঙ্গুর-সহ রাজ্যের সর্বত্র শিল্পায়ন, কৃষকদের ফসলের লাভজনক দর-সহ বিভিন্ন দাবিতে নভেম্বরে সিঙ্গুর থেকে রাজভবন পদযাত্রা করে সিপিএম। সমালোচকরাও বলছেন এবছরে সিপিএম-তথা বামেদের অন্যতম সফল কর্মসূচি ছিল এটি। কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন ছাত্র-যুব-কৃষক-মহিলারা। কিন্তু কর্মসূচি সফল করার পরও যে দলকে ভাসিয়ে রাখতে যে যে কর্মসূচি নেওয়া উচিত ছিল তাতেই খামতি রয়ে গিয়েছে। পাকা চুলের দু-তিন-তন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, কিন্তু তার হাল ধরে এগিয়ে নেওয়াতেই অভাব থেকে যাচ্ছে।

রাজ্য জুড়ে ব্রিজ ভেঙে পড়ার ঘটনা
সেপ্টেন্বরের ৪ তারিখ ভেঙে পড়ে মাঝেরহাট ব্রিজ। সব মিলিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়। বিপাকে পড়ে যান বেহালা-সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অংশের মানুষ। ব্রিজে রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তা মানতে নারাজ রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই সেখানে নতুন ব্রিজ তৈরির জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছে। চলছে প্রস্তুতি। এবছর শুধু মাঝেরহাট ব্রিজই নয়, শিলিগুড়ি কিংবা দক্ষিণ ২৪ পরগনা, অনেক জায়গাতেই ভেঙেছে নির্মীয়মান ব্রিজ।

জর্জরিত শোভন চট্টোপাধ্যায়
রাজ্যবাসী বছরব্যাপী যে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন সেটা হল শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পারিবারিক দ্বন্দ্ব। বাড়ি থেকে নতুন জায়গায় থাকতে শুরু করেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র। এদিকে রত্না চট্টোপাধ্যায় দুজনের সম্পর্ক নিয়ে বারবার অভিযোগ করেছেন। তাঁর বান্ধবী যোগও প্রকট হয়ে ওঠে। বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বলছেন, বন্ধু শোভন যে উপকার তাঁকে করেছেন, তা তিনি চিরকাল মনে রাখবেন। আদালতে দুপক্ষের খোরপোশ ও সেপারেশনের মামলা চলছে। তবে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমানসে। প্রশ্ন উঠেছে দলের অন্দরেও। দলনেত্রী কাননকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে সূত্রের খবর। কিন্তু 'হার' মানেননি শোভন। মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করার পর মেয়র পদেও দিয়েছেন ইস্তফাপত্র।

কলকাতা পেয়েছে নতুন মেয়র
শোভন চট্টোপাধ্যায় মেয়র পদে ইস্তফা দেওয়ার পর খুব বেশি ভাবতে হয়নি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কেননা তাঁর হাতে কুশলী বলে পরিচিত যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে থেকে বেছে নিতে দেরি হয়নি পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে। শপথ নেওয়ার পরে তিনি হয়েছেন স্বাধীনতার পর কলকাতার প্রথম মুসলিম মেয়র।

বিশিষ্টজনেদের প্রয়াণ
এই বছরে রাজ্যের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রয়াত হয়েছেন। যাঁদের মধ্যে সুপ্রিয়া চৌধুরী উল্লেখযোগ্য। বছরের শুরুতেই তিনি প্রয়াত হন। বাংলা চলচ্চিত্রে ৫০ বছরের বেশি সময় তিনি অভিনয় করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications