নজরে রায়গঞ্জ: পুরোনো বা নব্য দাশমুন্সি নাকি বদল, সমীকরণ নানা

রায়গঞ্জ বরাবরই কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। এবারও এখানে জবরদস্ত লড়াই হবে। তবে এবারের লড়াই ত্রিমুখী। কংগ্রেসের দীপা দাশমুন্সি, সিপিএমের মহম্মদ সেলিম এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সত্যরঞ্জন দাশমুন্সি। বিজেপি প্রাক্তন অভিনেতা নিমু ভৌমিককে দাঁড় করিয়েছে ঠিকই, কিন্তু তিনি এখানে জিতবেন, এই আশা কেউ করছে না।
দীপা দাশমুন্সি
রায়গঞ্জ প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির দুর্গ ছিল। কিন্তু কয়েক বছর আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন তিনি। সেই শূন্যস্থান পূর্ণ করেন স্ত্রী দীপা দাশমুন্সি। ২০০৯ সালে রায়গঞ্জ থেকে ভোটে জিতে লোকসভায় যাওয়ার আগে দীপা ছিলেন গোয়ালপোখরের বিধায়ক। ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি গোয়ালপোখর থেকে জিতেছিলেন। 'বউদি' হিসাবে পরিচিত স্থানীয় কংগ্রেস কর্মীদের কাছে। গতবারের লোকসভা ভোটে ৫০.৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। তবে তখন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হয়েছিল। ফলে তৃণমূলের ভোটও গিয়েছিল দীপা দাশমুন্সির ঝুলিতে। এবার ততটা ভোট না পেলেও তাঁর আশা, সবাইকে ধরাশায়ী করে তিনিই জিতবেন।
মহম্মদ সেলিম
গতবার রায়গঞ্জ থেকে দীপা দাশমুন্সির বিরুদ্ধে ভোটে লড়ে হেরে গিয়েছিলেন সিপিএমের বীরেশ্বর লাহিড়ী। এবার তাই বামফ্রন্ট প্রার্থী করেছে সিপিএমের প্রাক্তন সাংসদ মহম্মদ সেলিমকে। সুবক্তা, দক্ষ সংগঠক হিসাবে পরিচিত। ২০০৪ সালে কলকাতা উত্তর-পূর্ব আসন থেকে জিতে লোকসভায় গিয়েছিলেন। কিন্তু ডিলিমিটেশনের পর ২০০৯ সালে কলকাতা উত্তর আসন থেকে হেরে যান তৃণমূল কংগ্রেসের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। রায়গঞ্জকে 'প্রেস্টিজ ইস্যু' ধরে নিয়ে বামফ্রন্ট তাই তাঁকে এখানে টিকিট দিয়েছে। কংগ্রেসের দুর্গ তথা দাশমুন্সি পরিবারের সাম্রাজ্যে আদৌ ভাঙন ধরাতে পারেন কি না, এখন সেটাই দেখার।
সত্যরঞ্জন দাশমুন্সি
দীপা দাশমুন্সি ও মহম্মদ সেলিমের তুলনায় কম হেভিওয়েট হলেও কেউ তাঁকে হেলাফেলা করছে না। সত্যরঞ্জনবাবু হলেন প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির ভাই। এক সময়কার কট্টর কংগ্রেসি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ভাঙিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের এনে বড় চমক দিয়েছেন সন্দেহ নেই। সত্যরঞ্জনবাবুর সুবিধা হল, দাদা-বউদির কাছাকাছি থেকে রাজনীতি করার সুবাদে তাঁদের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। তৃণমূলের ভোট পাওয়ার পাশাপাশি তাঁকে সংখ্যালঘু ভোটও পেতে হবে। কংগ্রেসের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক কতটা কেটে আনতে পারেন, তার ওপর নির্ভর করছে সাফল্য।
উপসংহার
একদিকে, চিরাচরিত দাশমুন্সি ফ্যাক্টর। অন্যদিকে, পরিবর্তনের ডাক। দুয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কী হবে, সেটাই এখন আলোচনার বিষয়বস্তু রায়গঞ্জে। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেছেন, উন্নয়ন হয়নি রায়গঞ্জে। এবার বদল আনার পালা। আর সিপিএমের বক্তব্য, রাজ্যে তৃণমূল সরকার আর কেন্দ্রে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার জনবিরোধী নীতি নিয়েছে। তাই তৃতীয় শক্তি হিসাবে বামফ্রন্ট তথা সিপিএমকে বেছে নিক রায়গঞ্জ। কে মানুষের মন জিতল, তা বুঝতে অপেক্ষা করতে হবে ১৬ মে পর্যন্ত।
পুনশ্চ
গতবার দীপা দাশমুন্সি পেয়েছিলেন ৪৫১,৭৭৬ ভোট। সিপিএমের বীরেশ্বর লাহিড়ী পেয়েছিলেন ৩৪৬,৫৭৩ ভোট। দীপাদেবী জিতেছিলেন ১০৫,২০৩ ভোটে। বিজেপি-র গোপেশচন্দ্র সরকার ৩৭,৬৪৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান দখল করেছিলেন। এ ছাড়াও সেবার রায়গঞ্জে ভোটে লড়েছিল সিপিআই-এমএল, বহুজন সমাজ পার্টি, সংযুক্ত জনতা দলও। তবে তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল এক শতাংশেরও কম।












Click it and Unblock the Notifications