নজরে দার্জিলিং: গুরুংদের শক্তি কতটা অবশিষ্ট, বোঝাবে পাহাড়

দার্জিলিং
পশ্চিমবঙ্গে এবার পাঁচ দফায় লোকসভা ভোট হবে। প্রথম দফায় যে চারটি আসনে ভোটে হবে, সেই তালিকায় রয়েছে দার্জিলিং। ১৭ এপ্রিল এখানে ভোট।

দার্জিলিঙে এবারও ত্রিমুখী লড়াই। তৃণমূল কংগ্রেসের বাইচুং ভুটিয়া, সিপিএমের সমন পাঠক এবং বিজেপি-র সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া।


বাইচুং ভুটিয়া

প্রাক্তন ফুটবলার। 'পাহাড়ি বিছে' বাইচুং রাজনীতিতে এই প্রথম। তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে প্রার্থী করলেও ঘোর বিরোধিতা করেছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। তাদের রাগের কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করার আগে বিমল গুরুং, রোশন গিরি, প্রদীপ প্রধান প্রমুখ মোর্চা নেতাদের মতামত নেননি। কারণ গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা নিজেদের পাহাড়ের অবিসংবাদিত শক্তি ভাবে। তাই 'ইগো'-তে লেগেছে তাদের। বলেছে, বাইচুং ভুটিয়া শ্রদ্ধেয়। কিন্তু সমর্থন নয়। বাইচুং ভুটিয়া গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাকে ফোন করে মান ভাঙানোর চেষ্টা করলেও চিঁড়ে ভেজেনি।


সমন পাঠক

সিপিএম প্রার্থী। এখন তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার সদস্য। বাবা আনন্দ পাঠকও সিপিএম করতেন। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির অধিকারী। নেই কোনও ফৌজদারি মামলা। রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার আগে যে হলফনামা দিয়েছিলেন, তা থেকে দেখা যাচ্ছে, তিনি আক্ষরিক অর্থেই কমিউনিস্ট। কারণ গাড়ি, সোনাগয়না, জমিজমা কিছু নেই। নগদ আর ব্যাঙ্ক ডিপোজিট মিলিয়ে রয়েছে মাত্র ৪১ হাজার টাকা! সিপিএমের আশা, সমনবাবুর স্বচ্ছ ভাবমূর্তিই তাদের ভোটের বৈতরণী পার করবে।


সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া

৬৩ বছরের সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়াকে উদ্বাহু সমর্থন দিয়েছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। এই কেন্দ্রে দু'জন প্রার্থীর নাম বেছেছিল বিজেপি। সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া ও রাজীবপ্রতাপ রুডি। কিন্তু প্রথম জনকে সমর্থন করে মোর্চা। বোঝাই যাচ্ছে, বিজেপি কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সমর্থনকে। আর হবে নাই বা কেন! যে বিজেপি-র সিকিভাগ শক্তিও নেই পশ্চিমবঙ্গে, সেখানে গতবার এই আসন থেকে ড্যাংডেঙিয়ে জিতেছিলেন যশবন্ত সিং। ফলে প্রথম থেকে বিমল গুরুংদের সমর্থন পেতে মরিয়া ছিল বিজেপি। তাদের ধারণা, এবারও দার্জিলিং অনায়াসে দখল নেবে তারা।


উপসংহার

গতবার এই আসনে জিতেছিলেন বিজেপি-র যশবন্ত সিং। ভোটের আগে বলেছিলেন, গোর্খাল্যান্ড ইস্যু নিয়ে লোকসভায় লড়বেন। কথা রাখেননি। তবুও এবার বিজেপি গোর্খা জনুমক্তি মোর্চার সমর্থন পেল, কারণ তেলেঙ্গানার ঘটনায় বিমল গুরুংদের মনে আশা জেগেছে। অরুণ জেটলিরা বলেছেন, বিজেপি ছোটো ছোটো রাজ্যের পক্ষে। অতএব...। কিন্তু বাইচুং ভুটিয়াকেও ফুৎকারে উড়িয়ে দেওয়া হয়তো সম্ভব হবে না। দার্জিলিং লোকসভা এলাকায় অনেক অ-গোর্খা ভোটারও রয়েছেন। তাদের ভোট নিশ্চিতভাবে পাবেন বাইচুং। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব তাই দাবি করেছেন, এখানে তৃণমূল কংগ্রেসই জিতবে।


পুনশ্চ

২০০৯ সালে বিজেপি-র যশবন্ত সিং হারিয়েছিলেন সিপিএমের জীবেশ সরকারকে। ২৫৩,২৮৯ ভোটে। যশবন্ত সিং পেয়েছিলেন ৪৯৭,৬৪৯ ভোট। আর জীবেশবাবু পেয়েছিলেন ২৪৪,৩৬০ ভোট। তৃতীয় স্থান পেয়েছিলেন কংগ্রেসের দাওয়া নরবুলা। তিনি পেয়েছিলেন ১৮৭,৮০৯ ভোট। কংগ্রেসের সঙ্গে মহাজোট হওয়ায় ওই বছর দার্জিলিং আসনে প্রার্থী দেয়নি তৃণমূল কংগ্রেস।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+