মধ্যপ্রদেশে ধর্ষণ, বাংলা থেকে প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছেন মমতা

প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রদেশের খাণ্ডোয়া জেলার পিপলোড় থানার অন্তর্গত ভিয়ালি খেড়া গ্রামে গত ১৩ জুন এক আদিবাসী মহিলা গণধর্ষণের শিকার হন। পারিবারিক বিবাদের জেরে এই ঘটনা ঘটে। গণধর্ষণের আগে তাঁকে নগ্ন করে সারা গ্রামে ঘোরানো হয়েছিল এবং প্রস্রাব পান করতে বাধ্য করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত দশজনকেই গ্রেফতার করেছে। ওই নির্যাতিতা এখন হাসপাতালে ভর্তি।
ওই আদিবাসী মহিলাকে দেখতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল পাঠানোর কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার এই ঘোষণা করা হয়।
এদিকে, তাঁর এই ঘোষণার জেরে বিস্মিত ওয়াকিবহাল মহল। প্রথমত, সন্দেশখালি এবং ইলামবাজারের ঘটনা ছিল রাজনীতিক হানাহানির জের। এখানে শাসক দলের গুন্ডাবাহিনী বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, এটা স্পষ্ট। তৃণমূল কংগ্রেসও এই ঘটনাকে অস্বীকার করতে পারেনি। আর তাই নিজেদের দলের আক্রান্ত কর্মীদের দেখতে বাংলায় এসেছিলেন বিজেপি নেতারা। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের ঘটনা পারিবারিক বিবাদ মাত্র। এমন নয় যে, ওই আদিবাসী মহিলাকে বিজেপি কর্মীরা ধর্ষণ করেছে! মহিলার স্বামী, দেওর এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলে তাঁর ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সংস্রবই নেই।
দ্বিতীয়ত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয়তো এটা প্রমাণ করতে চাইছেন যে, বিজেপি-শাসিত মধ্যপ্রদেশে নারী সুরক্ষা নেই। ঘটনা হল, পশ্চিমবঙ্গ নারী নির্যাতনে সারা দেশে এখন শীর্ষস্থান অধিকার করে। এনসিআরবি (ন্যাশাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো)-র তথ্য এমনই বলছে। পার্ক স্ট্রিট, কাটোয়া, কামদুনি, লাভপুর, বসিরহাট তালিকাটা দীর্ঘ। তা হলে বাংলায় নারী নির্যাতন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে অন্যের ঘরে উঁকিঝুঁকি মারা কি সমীচীন?
তৃতীয়ত, খাণ্ডোয়ার ধর্ষণের ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরই সব অভিযুক্তকে তল্লাশি চালিয়ে গ্রেফতার করে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ। কারণ, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, নারীর বিরুদ্ধে অপরাধে চটজলদি ব্যবস্থা নিতে হবে। অথচ বাংলায় তার উল্টো ছবি। পার্ক স্ট্রিটে ধর্ষণের ঘটনাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই 'সাজানো ঘটনা' বলে বর্ণনা করেছিলেন। কাটোয়ার ক্ষেত্রেও একই সুরে কথা বলা হয়েছিল, কারণ ধর্ষিতা নাকি সিপিএম সমর্থক! বছর ঘুরে গেলেও কামদুনির সেই ধর্ষিতার পরিবার বিচার পায়নি। অর্থাৎ নারী নির্যাতন বন্ধে দুই রাজ্যের সরকারের অবস্থানে আকাশ-পাতাল তফাত। যেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি বন্ধ করতে ব্যর্থ, সেখানে শুধু চমক দিতে অন্য রাজ্যে প্রতিনিধি দল পাঠানো হাস্যকর নয় কি?
চতুর্থত, গতকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেছিলেন, "কেন্দ্রের টিম পাঠানোর নাম করে বিজেপি এক-একটা এলাকায় গিয়ে নাটক করছে।" প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে এ বার মধ্যপ্রদেশেও কি তিনি 'নাটক' করতে পাঠাচ্ছেন তাঁর দলের সদস্যদের?
পঞ্চমত, সন্দেশখালি, ইলামবাজার ঘুরে বিজেপি প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তাঁরা রিপোর্ট দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে। দরকারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশ্ন হল, তৃণমূলের প্রতিনিধি দল মধ্যপ্রদেশ ঘুরে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রিপোর্ট দিলে তিনি কী করবেন? সংবিধানের ৩৫৫ ধার অনুযায়ী, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্র দল পাঠাতে পারে বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু একটি রাজ্যের সরকার অন্য একটি রাজ্যের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবে? তাই বিষয়টি চূড়ান্ত হাস্যকর বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।












Click it and Unblock the Notifications