‘চলো গ্রামে যাই’, পঞ্চায়েতে সাফল্য পেতে জনসংযোগের নয়া কর্মসূচি নিয়ে দুয়ারে তৃণমূল
পুজো মিটতেই কালক্ষেপ না করে ভোট ময়দানে নেমে পড়ছে তৃণমূল কংগ্রেস। পঞ্চাযেত ভোটকে পাখির চোখ করতে জনসংযোগই হাতিয়ার তাঁদের। তাই গ্রামের ভোটে নতুন কর্মসূচি নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
পুজো মিটতেই কালক্ষেপ না করে ভোট ময়দানে নেমে পড়ছে তৃণমূল কংগ্রেস। পঞ্চাযেত ভোটকে পাখির চোখ করতে জনসংযোগই হাতিয়ার তাঁদের। তাই গ্রামের ভোটে নতুন কর্মসূচি নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দুয়ারে সরকার থেকে পাড়ায় পাড়ায় সমাধান-সহ অনেক পরিষেবা আগে নেওয়া হয়েছে। এবার সেই পরিষেবাকে সোপান করে জনসংযোগে নামতে চাইছে তৃণমূল।

তৃণমূল মানুষের দুয়ারে দুয়ারে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। সেজন্য এক কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে। সেই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে 'চলো গ্রামে যাই'। তৃণমূল আগেই নতুন কর্মসূচি চূড়ান্ত করেছিল। রুটিন মেনে জেলা সফরের পরিকল্পনা করে ফেলেছিল তৃণমূল। সেই পরিকল্পনামতোই পঞ্চায়েত ভোটের প্রস্তুতি হিসেবে সভা-সমিতিও হবে। রাজ্যের শীর্ষনেতাদেরও জেলায় জেলায় পাঠানো হবে জনসংযোগে।
তৃণমূল কংগ্রেস ১ নভেম্বর থেকেই পঞ্চায়েত ভোটের প্রচারে ঝাঁপাচ্ছে। চলো গ্রামে যাই কর্মসূচি চালু করে তৃণমূল কংগ্রেস মূলত মহিলা নেতৃত্বকে দিয়ে এই প্রচার পর্বে নামতে চলেছে। বাড়ি বাড়ি জনসংযোগে যাবেন তৃণমূলের মহিলা কর্মীরা। বুথভিত্তিক এই জনসংযোগ গড়ে তুলতে চাইছে তৃণমূল। এই কর্মসূচিতে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চাইছে তারা। এক জনসংযোগ, দুই বুথ কমিটিকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা।
রাজ্যে মোট ৩ হাজার ৩৪২টি পঞ্চায়েত রয়েছে। এই সবকটি পঞ্চায়েতেই মহিলাদের সামনের সারিতে রেখে লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছে তৃণমূল। মহিলা তৃণমূলের 'পঞ্চায়েতি সভা'র মাধ্যমে বুথের প্রতিটি বাড়ির মহিলাদের টার্গেট করা হচ্ছে। মহিলা নেতৃত্বর মাধ্যমে গ্রামের সমস্ত মহিলাদের সভায় নিয়ে আসতেই এই পরিকল্পনা ছকা হয়েছে।
রাজ্যে প্রায় ৪৯ শতাংশ মহিলা রয়েছে। ফলে মহিলা মন জয়ে বিশেষ প্রচারের পরিকল্পনা নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে পঞ্চায়েত ভোটের সম্ভাবনা প্রবল। তাই তার প্রস্তুতিতে এখন থেকেই নেমে পড়তে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। মহিলা ভোটকে পাখির চোখ করে পঞ্চায়েতের প্রচারে নামতে চলেছে তৃণমূল।
এই জনসংযোগ কর্মসূচিতে বুথস্তরের মহিলা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি যাবেন, মহিলাদের সঙ্গে কথা বলবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলাদের আর্থ সমাজিক প্রতিষ্ঠার জন্য যে সমস্ত প্রকল্প নিয়েছেন, যেমন- কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বিধবা ভাতা, এই সমস্ত সুবিধা তাঁরা পাচ্ছেন কি না, তা জানার চেষ্টা করবেন। যদি তাঁরা না পেয়ে থাকেন তার বন্দোবস্ত করে দেবেন।
জনসংযোগের মাধ্যমে তৃণমূল সাংগঠনিক শক্তিকেও চাঙ্গা করতে চাইছে। মোট তিনটি স্তরে এই সভা হবে। ১ নভেম্বর থেকে ২৫ দিন করে তিনটি ধাপে আড়াই মাস ধরে চলবে এই 'চলো গ্রামে যাই' শীর্ষক জনসংযোগ কর্মসূচি। তারপর প্রতিটি পঞ্চায়েতে মহিলা কর্মী সম্মেলন করবে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল কংগ্রেস আশা করছে, বাংলার একটা বড় অংশের মহিলারা মমতাকে সমর্থমন করেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালুর পর এই সমর্থন আরও বাড়বে বলে তৃণমূল আশাবাদী। মহিলা ভোটারদের কাছে পেতেই তড়িঘড়ি ময়দানে নামার পরিকল্পনা তৃণমূলের।
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, সমান্তরালভাবে দুটি কর্মসূচি চলবে। একটি 'চলো গ্রামে যাই'নামে জনসংযোগ। আর তার পাশাপাশি চলবে মহিলা পঞ্চায়েতি সভা। ১ নভেম্বর থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে রাজ্যের ৩ হাজার ৩৪২টি পঞ্চায়েতে এই সম্মেলন করা হবে। দুটি কর্মসূচিই হবে মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যানারে।












Click it and Unblock the Notifications