মুর্শিদাবাদের পঞ্চায়েতের পর পথে এল পুরুলিয়াও, তবু বিঁধেই চলেছে আবাস দুর্নীতির কাঁটা
মুর্শিদাবাদের ভরতপুর দু-নম্বর ব্লকের মালিহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান ও উপপ্রধান-সহ পঞ্চায়েত সদস্যেরা ইস্তফা দিয়েছিলেন আবাস দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে।
মুর্শিদাবাদের ভরতপুর দু-নম্বর ব্লকের মালিহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান ও উপপ্রধান-সহ পঞ্চায়েত সদস্যেরা ইস্তফা দিয়েছিলেন আবাস দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে। অবশেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেই ইস্তফাপত্র তাঁরা প্রত্যাহার করে নিলেন। আবার মালিহাটির মতো পুরুলিয়ার পঞ্চায়েতেও দুর্নীতির অভিযোগে ইস্তফার ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন সদস্যরা।

একের পর এক পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ চলছে। আবাস দুর্নীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ফুঁসছে হাওড়ার পাঁচলা থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি, নদিয়ার নাকাশিপাড়া থেকে ঝাড়গ্রামও। তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ চলছে। তার মধ্যে মুর্শিদাবাদে মালিহাটিতে সমস্ত পঞ্চায়েত সদস্য ইস্তফা দিয়ে তুলকালাম বাঁধিয়ে দিয়েছিলেন।
শনিবার বিডিও অফিসে গিয়ে ইস্তফাপত্র দিয়ে আসার পর রবিবার ১১ জন ইস্তফাপত্র প্রত্যাহার করেছিলেন। তারপর সোমবার মুর্শিদাবাদ তৃণমূল নেতৃত্ব বৈঠক করে বিদ্রোহী সদস্যদের সঙ্গে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মালিহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সৈয়দ নাসিরুদ্দিন ও উপপ্রধান-সহ বাকিরাও ইস্তফাপত্র প্রত্যাহার করে নিলেন। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর ওপর আশ্বাস রেখেই এই পদত্যাগ পত্র প্রত্যাহার করেছেন। অবিলম্বে তাঁদের দাবি পূরণের আর্জি রেখেছেন তাঁরা।
এরপর আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ করেন পুরুলিয়ার মানবাজার ব্লকের বারি-জাগদা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরা। ১১ সদস্যের মধ্যে প্রধান-সহ ৬ জন তৃণমূলের। তার মধ্যে রয়েছেন সিপিএমের ১ সদস্যও। তবে হুঁশিয়ারি দিলেও মালিহাটির মতো তাঁরা ইস্তফা দেননি। ইস্তফা দেওয়ার আগেই তাঁরা সিদ্ধান্ত বদল করেন।
যোগ্য-অযোগ্যদের বাছাই করে আবাস তালিকায় নাম তোলা হবে। তা চূড়ান্ত হওয়ায় কেউ পদত্যাগের রাস্তায় হাঁটছেন না বলে জানিয়েছেন বিদ্রোহী সদস্যরা। সোমবার তাঁরা হুমকি দিয়েছিলেন মঙ্গলবার তারা সিদ্ধান্ত বদল করলেন। মুর্শিদাবাদের মালিহাটিতেও কার্যত ইস্তফার আর প্রত্যাহারের নাটক হল।
পুরুলিয়ার এই বারি-জাগদা গ্রাম পঞ্চায়েত ১১ জন সদস্যের মদ্যে ৬ জন ছিলেন তৃণমূলের, ৪ জন নির্দল এবং ১ জন সিপিএম সদস্য। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে পঞ্চায়েত দখল করে তৃণমূল। প্রধান অনিমেষ মাহাতো বলেন, যাঁদের যোগ্য মনে হয়েছিল, তাঁদের অনেকেরই নাম নেই। কোনও নিয়ম না মেনেই এই তালিকা হয়েছে। তাই হুমকি দিয়েছিলেন ইস্তফার।
মঙ্গলবার তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানিয়ে দেন তাঁদের কোনও ক্ষোভ নেই। তাঁরা ইস্তফা দিচ্ছেন না। তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁদের দাবি মেনে সঠিকভাবে এই তালিকা প্রস্তুত করার আশ্বাস দিয়েছেন। ৪১ জনের নাম বাদ পড়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তা মিটিয়ে নেওয়া হবে। ফলে ইস্তফার পথে আর তাঁরা হাঁটছেন না।












Click it and Unblock the Notifications