বাংলায় বেড়েছে বাণিজ্যিক বিনিয়োগ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর তথ্যেই বিড়ম্বনায় বিজেপি
বেঙ্গল মিনস বিজনেস। বাংলায় বিনিয়োগ টানতে এটিই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ট্যাগলাইন। বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট নিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলগুলি যত সমালোচনাই করুক না কেন, বাস্তব হলো এই সামিটের সুফল মিলতে শুরু করেছে। তা প্রমাণিত কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্যেই।
বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলনকে নিষ্ঠুর কৌতুক বলে কটাক্ষ করে বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য দাবি করেছিলেন, বিগত ১৫ বছরে বাংলা থেকে নাকি চলে গিয়েছে ৭ হাজারের বেশি সংস্থা। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও বিভিন্ন সভায় এই তথ্যকে হাতিয়ার করে বক্তব্য রাখছেন। যদিও তাঁদের বিড়ম্বনা বাড়াল কেন্দ্রীয় সরকারের পেশ করা তথ্য।

বিগত ১৫ বছরে বাংলায় নথিভুক্ত সংস্থার নাম জানতে চেয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ বাপি হালদার। কেন্দ্রীয় সরকারের কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ মালহোত্রা জানান, ২০১১ সালের ৩১ মার্চ অবধি পশ্চিমবঙ্গে নথিভুক্ত সংস্থার সংখ্যা ছিল ১,৩৭,১৫৬। রাজ্যে পালাবদলের এক বছর পরেই তা বেড়ে হয় ১,৫৪,৪৭০। গত ৩১ জুলাইয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সেই সংখ্যা ২,৫০,৩৪৩। অর্থাৎ রাজ্যে নথিবদ্ধ সংস্থার সংখ্যা বিগত ১৪ বছরে দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। এই তথ্য সামনে আসতেই প্রমাণ হয়েছে বিজেপি মিথ্যাচার করছে। তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর জবাব থেকে স্পষ্ট অমিত মালব্যরা বাংলায় বিনিয়োগ, ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে রাজনৈতিক অপপ্রচার করছেন।
কতগুলি সংস্থা বাংলা থেকে দফতর স্থানান্তর করেছে তাও জানতে চান তৃণমূল সাংসদ। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৩১ জুলাই অবধি সেই সংখ্যা ১৫৬টি। বাম আমলের তুলনায় বাংলায় ব্যবসা, বিনিয়োগ বেড়েছে বলেও স্বীকার করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদারের কথায়, বিজেপি সব সময় মিথ্যাচারের মাধ্যমে বাংলার বদনাম করতে চায়। কেন্দ্রীয় সরকারই জানিয়েছে বিগত ৫ বছরে ৩৫ হাজার নতুন সংস্থা ব্যবসা শুরু করেছে। তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন জানিয়েছেন, স্বরূপ সামনে আসবে বলেই বিজেপি সংসদ চলতে দিতে চায় না। তবে তৃণমূল সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্ব-সহ বিভিন্নভাবে বিজেপির মিথ্যাচারের মুখোশ খোলার কাজে সচেষ্ট থাকবে।












Click it and Unblock the Notifications