আর দল করবেন না তৃণমূলের ‘হেভিওয়েট’ নেতা! খোদ ‘সভাপতি’র বিরুদ্ধেই ক্ষোভ
তৃণমূল কংগ্রেসে সংকট বেড়েই চলেছে। খোদ তৃণমূল সভাপতির বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন পুর চেয়ারম্যান মোহন বসু।
তৃণমূল কংগ্রেসে সংকট বেড়েই চলেছে। খোদ তৃণমূল সভাপতির বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন পুর চেয়ারম্যান মোহন বসু। প্রাক্তন চেয়ারম্যান পুরসভায় প্রশাসক পদ না পাওয়ার জন্য সরাসরি সভাপতিকে দায়ী করে জানালেন, তাঁর নেতৃত্বে আর দল করতে চান না। মন্ত্রীও সেই বরফ গলাতে পারলেন না। সিদ্ধান্তে অনড় তিনি।

সমান্তরাল দল চালাতেও পিছপা নন
শুধু নিজে ব্রিদ্রোহী হননি, অন্য বিদ্রোহীদের এক জায়গায় করে তিনি দলও পাকাচ্ছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে যে, সমান্তরাল দল চালাতেও তিনি পিছপা হবেন না। আর দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কোনও হস্তক্ষেপ না করলে তিনি তখনই বিকলপ্ রাস্তা দেখবেন, এ কথা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

মান ভাঙাতে ব্যর্থ রাজ্যের মন্ত্রীও
জলপাইগুড়ি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান মোহন বসুর মান ভাঙাতে রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব স্বয়ং এসেছিলেন। কি্ন্তু আধঘণ্টা আলোচনাতেও তাঁর মন গলেনি। তিনি জেলা সভাপতি কিষেণকুমার কল্যাণীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কিষেণকুমার কল্যাণীর নেতৃত্বে তিনি আর দল করবেন না।

ওই সভাপতির নেতৃত্বে দল নয়
তাঁর সাফ কথা, তাঁকে সভাপতির পদ থেকে না সরালে তিনি তৃণমূলে থাকবেন না। মন্ত্রীকে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান সভাপতির বিরুদ্ধে তিনি একা নন, ক্ষুব্ধ অনেকেই। অনেককেই তাঁর মনপসন্দ না হওয়ায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবে তো কোনও দল চলতে পারে না। সভাপতি নিজের খেয়ালখুশিমতো যা করার করবেন।

বিকল্প ভাবার সময় এসেছে এবার
এদিন ক্ষোভ উগরে মোহন বসু আরও বলেন, কিষেণ কল্যাণী একজন চা বাগানের মালিক। তিনি দলের নেতা-কর্মীদের নিজের শ্রমিক মনে করেন। ফলে দলের নেতাকর্মীরা ভয়ে ভয়ে থাকে। দলটাকে ভালোবাসি বলেই বলছি, কিষেণ কল্যাণীর নেতৃত্বে দল সুরক্ষিত নয়। এবার বিকল্প ভাবার সময় এসেছে।

পিছন থেকে ছুরি মারা হয়েছে
মোহন বসু ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, আমি পদলোভী নই। আমাকে বললেই আমি পদ ছেড়ে দিতাম। কিন্তু তা না করে আমাকে পিছন থেকে ছুরি মারা হয়েছে। আমাকে না জানিয়ে নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এটা তো অপমান। লুকিয়ে আমার ছবি তুলে আমাকে অসুস্থ প্রমাণ করা হয়েছে। বলা হয়েছে আমি অসুস্থ।

গৌতম দেবের বার্তা বিক্ষুব্ধ নেতাকে
এদিন মোহন বসুর সঙ্গে সাক্ষাতের পর মন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, মোহনদা দলেই আছেন, দলেই থাকবেন। ওঁর অভিজ্ঞতা আমাদের চলার পথের পাথেয়। মোহনদার দুবার সেরিব্রাল হয়েছে। তাঁকে মানসিক চাপে রাখা ঠিক হচ্ছে না। পুরো বিষয়টি শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়ে বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্রোহের আগুন জলপাইগুড়িতে
জলপাইগুড়ি তৃণমূলে সম্প্রতি এই বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। যার ফলে এই করোনা লকডাউন পরিস্থিতিতে তৃণমূলে নয়া সংকট তৈরি হয়েছে। পুরসভার মেয়াদ শেষ, তাই বসানো হয়েছে প্রশাসক। আর সেই প্রশাসক বসানো নিয়েই তৃণমূলের কোন্দল তুঙ্গে। প্রশাসক পদ না পেয়ে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান।












Click it and Unblock the Notifications