বিজেপির অনুকরণে তৃণমূলেও শুরু পিকনিক-পলিটিক্স, পুরভোটের আগে নয়া ট্রেন্ড
বিজেপির মতো তৃণমূলেও শুরু পিকনিক পলিটিক্স। তৃণমূলের নেতা-বিধায়করা দলীয় কর্মীদের নিয়ে পিকনিক সারছেন এই শীতে। আসন্ন পুরভোটের আগে প্রচারের নয়া পন্থা আবিষ্কার হয়েছে এই পিকনিক-পলিটিক্সে।
বিজেপির মতো তৃণমূলেও শুরু পিকনিক পলিটিক্স। তৃণমূলের নেতা-বিধায়করা দলীয় কর্মীদের নিয়ে পিকনিক সারছেন এই শীতে। আসন্ন পুরভোটের আগে প্রচারের নয়া পন্থা আবিষ্কার হয়েছে এই পিকনিক-পলিটিক্সে। বিজেপিতে পিকনিক করে একদিকে বিদ্রোহীরা সঙ্ঘবদ্ধ হচ্ছেন, আবার দিলীপ ঘোষ পিকনিক পলিটিক্সের আলাদা ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।

দিলীপ ঘোষের পিকনিক-পলিটিক্সের ব্যাখ্যাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র সঙ্গে বিতর্কও বাধে। তারপর তৃণমূলের পক্ষ থেকে পিকনিক-পলিটিক্স শুরু করা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আবার তৃণমূল এই পিকনিক-পলিটিক্স শুরু করল বিজেপিক বিদ্রোহী নেতাদের আখড়া সেই মতুয়া-গড়েই।
পুরভোটের আগে দলকে সঙ্ঘবদ্ধ করতে পুর প্রশাসক শঙ্কর আঢ্য ও তৃণমূলের এক কো-অর্ডিনেটররে উদ্যোগে বনগাঁর একাধিক ওয়ার্ডে পিকনিকের আয়োজন করা হয়। বিজেপির কটাক্ষ, সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের নেতৃত্বে পিকনিক দেখেই অনুকরণের চেষ্টা করছে তৃণমূল। তৃণমূলের পক্ষ থেকেও পাল্টা জবাব দেওয়া হয় বিজেপির কটাক্ষের।
বিজেপির দাবি, তৃণমূল যতই পিকনিক করুক, ভোটের বাক্সে তা প্রভাব ফেলতে পারবে না। অশোকনগরের একাধিক ক্লাব ও যুব তৃণমূলের ব্যানারে আয়োজিত পিকনিকে উপস্থিত হন বিধায়ক নায়ারণ গোস্বামী। তিনি আবার পিকনিকে সঙ্গীত পরিবেশনও করেন। বিজেপির দাবি, পুরভোটের আগে টাকা ছড়িয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করতেই এই পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছে।
বিজেপির এই দাবিকে নস্যাৎ করে বিধায়ক নায়ারণ গোস্বামী বলেন, তৃণমূলের কোনও দরকার নেই টাকা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার। কেননা তৃণমূল সরকারটাই মানুষের জন্য নিবেদিত। বিনোদনের সঙ্গে রাজনীতিকে গুলিয়ে ফেলছে বিজেপি। ওরা হারতে হারতে এখন ভোটের আগেই বাহানা খুঁজতে ব্যস্ত।
বিজেপির বনগাঁর সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর সম্প্রতি বনগাঁয় মতুয়া-গড়ের বিধায়ক-সহ বিজেপির বিদ্রোহী নেতাদের একত্রিত করে পিকনিকের আয়োজন করেছিলেন। বিজেপির রাজয নেতৃত্বের সামনে তাঁর ক্ষমতা দেখানোই ছিল সেই পিকনিকের উদ্দেশ্য। এরপরও একাধিক পিকনিকে যোগ দিয়েছেন শান্তনু ঠাকুর।
তারপর বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষও তাঁর নির্বাচনী ক্ষেত্র মেদিনীপুরে পিকনিক পলিটিক্স শুরু করেন। সেখান থেকেই তিনি বাবুল সুপ্রিয়কে নিশানা করেন। বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ফিশফ্রাই-পলিটিক্সে ফেঁসে গিয়েছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। তার পাল্টা বাবুল দিলীপ ঘোষকে মজাদার জোকার কটাক্ষ করেন।
বিতর্কের মাঝেও বন্ধ নেই পিকনিক। শান্তনু যেমন একের পর এক পিকনিকে যোগ দিয়েই চলেছেন। শুক্রবারও তিনি উত্তর বাগদায় এক পিকনিকে অংশ নেন। আর তৃণমূলও বনগাঁজুড়ে পিকনিক শুরু করেছে। উত্তর ২৪ পরগনার শুরু হয়েছে পিকনিকের লড়াই। পুরভোটের আগে নয়া ট্রেন্ড বাংলার রাজনীতিতে।












Click it and Unblock the Notifications