তৃণমূল পড়েছে শাঁখের করাতে! বিজেপির মাস্টারস্ট্রোকে কোপ পড়তে পারে আদিবাসী ভোটে
তৃণমূল পড়েছে শাঁখের করাতে! বিজেপির মাস্টারস্ট্রোকে কোপ পড়তে পারে আদিবাসী ভোটে
রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে দ্রৌপদী মুর্মুকে নিয়ে শাঁখের করাতে প়ড়েছে তৃণমূল। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এনডিএ প্রার্থীর বিরোধিতায় আদিবাসী ভোটে ভাঙন দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে তাঁরা। আসন্ন পঞ্চায়েত ভোট ও ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের আগে বিজেপির চালে মাত হতে বসেছে তৃণমূল।

বিজেপির মাস্টারস্ট্রোকে তৃণমূল বিপাকে
তৃণমূল কংগ্রেস আগেভাগে বিরোধী ১৮টি দলকে এক করে রাষ্ট্রপতি পদে নিজেদের প্রা্র্থী দিয়েছে। তারপর বিজেপি তাদের প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছেন আদিবাসী সমাজের নেত্রী প্রাক্তন রাজ্যপাল দ্রৌপদী মুর্মুকে। বিজেপির এই মাস্টারস্ট্রোকে তৃণমূল পড়েছে ঘোর বিপাকে। তাঁরা বুঝে উঠতে পারছে না কোন পন্থা তাদের অবলম্বন করা উচিত।

দ্রৌপদী মুর্মু আর তৃণমূলের আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক
তৃণমূল জোট ধর্ম বজায় রাখবে নাকি আদিবাসী সমাজের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মুকে সমর্থন করবে, সেটাই হয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন। দ্রৌপদী মুর্মুর বিরুদ্ধে প্রার্থী যেহেতু তৃণমূলের যশবন্ত সিনহা, তারা পিছিয়ে আসতে পারছে না। নিশ্চিত হার বুঝেও দ্রৌপদী মুর্মুর বিরোধিতা করতে হবে। এই অবস্থায় ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখার তাগিদেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, বিজেপি আগে দ্রৌপদী মুর্মুর নাম জানালে অন্য কিছু ভাবা যেত।

তৃণমূলের আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন আশঙ্কা
তৃণমূল কংগ্রেস মনে করছে দ্রৌপদী মুর্মুর বিরোধিতায় ২০২৪-এর নির্বাচনে তৃণমূলের আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন ধরতে পারে। তৃণমূলের ভোট ভেঙে বিজেপির দিকে চলে যেতে পারে। এর ফলে জঙ্গলমহল ও প্রান্তিক জেলাগুলিতে সমস্যায় পড়তে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। এখন বিজেপির এই মাস্টারস্ট্রোকের পাল্টা কী চাল দেয় তৃণমূল, তা-ই দেখার।

সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে আদিবাসীরা ডিসাইডিং ফ্যাক্টর
বাংলার প্রায় সাত-আট শতাংশ আদিবাসী ভোট রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের প্রায় ৪৭টি বিধানসভা এলাকায় রয়েছে আদিবাসী ভোট। তার মধ্যে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে আদিবাসীরা ডিসাইডিং ফ্যাক্টর। এই অবস্থায় বিজেপির এই মাস্টারস্ট্রোক তৃণমূলকে আশা-আশঙ্কার দোলাচলে নিমজ্জিত করে দিয়েছে।

দ্রৌপদী মুর্মু রাষ্ট্রপতি প্রার্থী, বিজেপিকে নিশানা তৃণমূলের
যশবন্ত সিনহার নাম বিরোধী প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার পর এনডিএ প্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মুর নাম ঘোষণা হয়েছে। এই অবস্থায় তৃণমূল জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে একটি নাম চূড়ান্ত করার উদাহরণ অতীতে অনেক রয়েছে। দ্রৌপদী মুর্মু আমাদের সকলের জন্য একটি অপ্রত্যাশিত নাম ছিল। বিজেপি ঐক্যমত্য চায় না বলেই আগে থেকে নাম জানায়নি।

আদিবাসী বা উপজাতীয় ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে মমতা
এই অবস্থায় দেখার যশবন্ত সিনহাকে তৃণমূলের সমস্ত সাংসদ ও বিধায়করা ভোট দেন, নাকি তাদের ভোট ভেঙে দ্রৌপদী মুর্মুর বাক্সেও যায়। যশবন্ত সিনহা বলেন, আমি আত্মবিশ্বাসী তৃণমূলের সমস্ত ভোট তাঁর দিকেই যাবে। যদিও মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের মন্তব্য নিয়ে তিনি কোনও মত পোষণ করেননি। আসলে তৃণমূল সুপ্রিমো আদিবাসী বা উপজাতীয় ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থেই একথা বলেছেন।

তৃণমূল এখন ভয় পাচ্ছে সেই ভোটব্যাঙ্ক হারানোর
আদিবাসী ভোটে ২০১১ সালের আগে থেকেই বামফ্রন্টের দিক থেকে তৃণমূলের দিকে ঘুরে গিয়েছিল। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকে সেই ভোট বিজেপিতে ঘাঁটি গাড়ে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আদিবাসী অধ্যুষিত কেন্দ্রেও বিজেপি জয়লাভ করে। সেই ভোট আবার ২০২১-এ ঘুরে যায় তৃণমূলের দিকে। তৃণমূল ৪০টির মধ্যে ২৫টি আসনে জয়ী হয়। তৃণমূল এখন ভয় পাচ্ছে সেই ভোটব্যাঙ্ক না আবার হারাতে হয়।












Click it and Unblock the Notifications