২ বছরেও জোড়া লাগল না ভাঙা সম্পর্ক, মুকুলের দলত্যাগের নেপথ্যে কি বিজেপি
দলের সঙ্গে বাড়তে থাকা দুরত্ব ২ বছরেও ঘুচল না, দেল ফিরলেও আগের জায়গা ফিরে পাননি মুকুল রায়, শেষ পর্যন্ত দলত্যাগের সিদ্ধান্ত
শুরুটা হয়েছিল সেই ২০১৫ সালের গোড়ার দিকে। সারদাতদন্তে ইতিমধ্যেই ততদিনে জেলে চলে গিয়েছেন মদন মিত্র। সিবিআই দফতরে ডাক পড়ছে একের পর এক তৃণমূল নেতার। বাদ গেলেন না সেসময়ের তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কমান্ড মুকুল রায়ও। সিবিআই দফতরে দীর্ঘক্ষণ জেরা শেষে তিনি বেরলেন হাসিমুখেই। জানিয়ে দিলেন, সারদাতদন্তে সিবিআই একশোবার ডাকলে একশোবার যাবেন তিনি। মুকুল যে তদন্তে সহযোগিতা করছেন তা সিবিআইও স্বীকার করেছিল বলে সূত্রের খবর।

কিন্তু মুকুলের এই সিবিআই সহযোগিতাকে ভাল চোখে দেখেননি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর থেকেই একটু একটু করে মুকুলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে থাকে তৃণমূল নেতৃত্ব। একটা সময় মুকুল একেবারেই একা হয়ে পড়েন। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের তকমাও কেড়ে নেওয়া হয় তাঁর কাছ থেকে। সরকারি হোক বা দলের, কোনও অনুষ্ঠানেই মুকুলকে আমন্ত্রণ জানানো হত না। সেসময়ও তিনি দল ছাড়ছেন বলে জোর জল্পনা ওঠে। এমনকী জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস নামে পৃথক দলও তিনি গঠন করতে চলেছেন বলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়। তাঁর ঘন ঘন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরে যাওয়ায় সেই জল্পনা আরও বাড়তে থাকে।

এভাবেই বছরখানেক চলতে থাকে। অবশ্য তৃণমুল কংগ্রেস তাঁর সঙ্গে দুরত্ব বজায় রাখলেও মুকুল কোনওদিনই দলের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেননি। অবশ্য সেসময়েও দলের কেউ কেউ মুকুলকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি। কিন্তু তিনি নিজে যেমন দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি তেমনই তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও মুকুলকে দলের একজন সৈনিক বলেই মন্তব্য় করে এসেছেন।
কিন্তু এরইমধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরে গিয়ে আচমকাই সমীকরণটা বদলে গেল। সংসদের সেন্ট্রাল হলে মুকুলকে দেখে নিজেই এগিয়ে গিয়ে কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর রাতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে মুকুলকে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানান মমতা। এরপর থেকেই আবার দলে ফিরতে শুরু করেন মুকুল রায়। কালীঘাটের বাড়িতে দলীয় বৈঠক থেকে শুরু করে ভোটপ্রচার, সবেতেই দেখা যায় মুকুল রায়কে।

অবশ্য মুকুলের সঙ্গে যখন দুরত্ব রয়েছে দলের, সেইসময়েই মুকুল রায়ের ছেলে শুভ্রাংশু রায়কে বিজপুর কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে বেছে নেন মমতা। ধীরে ধীরে মুকুলকে পুরনো পদও ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে যেহেতু সুব্রত বক্সীকে আগেই ওই পদে বসানোর ফলে মুকুলকে সহ সভাপতির পদে বসানো হয়। কিন্তু দলে আগের জায়গা আর ফিরে পাননি মুকুল। চলতি বছর ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চেও এক কোনেই বসেছিলেন তিনি। এমনকি তাঁকে মঞ্চে বলতেও দেওয়া হয়নি। ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনেও সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায় মুকুল রায়কে। একজন দক্ষ সংগঠকের মতই নির্বাচনী তরি উৎরে দেন মুকুল।

মমতা - মুকুল পুনরায় এক হওয়ার পর অনেকেই বলেছিলেন, এই দুরে ঠেলে আবার কাছে টেনে আনা আসলে গটআপ। সারদা মামলা থেকে নজর ঘোরাতেই মমতা - মুকুল এই খেলা খেলেছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন বিরোধীরা। কিন্তু মুকুলের সঙ্গে বিজেপি ঘনিষ্ঠতা নিয়ে একটা চাপা গুঞ্জন থেকেই গিয়েছিল। অনেকে আবার এটাও বলেছিলেন যে, সারদামামলা থেকে বাঁচতে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন মুকুল। বিজেপি রাজ্যসভাপতি দিলীপ ঘোষের একাধিক মন্তব্য সেই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে। কিন্তু মুকুল নিজে কোনওদিনও বিজেপিতে যাওয়ার ইঙ্গিত দেননি।

সোমবার পঞ্চমীর দিন দল ছাড়ার ঘোষণা করলেন মুকুল রায়। পুজোর পরই আনুষ্ঠানিকভাবে দল থেকে পদত্যাগ করবেন তিনি। কারণটাও তখনই জানাবেন তিনি। তাহলে কি সত্যিই তিনি বিজেপিতে যাচ্ছেন? আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা, উত্তরটা জানা যাবে তারপরই।












Click it and Unblock the Notifications