লোকের বিশ্বাসটাই চলে যাবে! পুুরভোটের ফল প্রকাশের আগে তৃণমূলের হিংসা নিয়ে CPIM-কে টেনে বিস্ফোরক সৌগত
বুধবার ১০৮ টি পুরসভা নির্বাচনের (municipal election) ফল (result) প্রকাশ। তার আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি পুরসভাগুলির নির্বাচনের দিনের দলের হিংসা নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূলের (Trinamool Congress) বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় (Sougata Roy)।
বুধবার ১০৮ টি পুরসভা নির্বাচনের (municipal election) ফল (result) প্রকাশ। তার আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি পুরসভাগুলির নির্বাচনের দিনের দলের হিংসা নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূলের (Trinamool Congress) বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় (Sougata Roy)। এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, এইভাবে চললে তৃণমূলের প্রতি লোকের বিশ্বাসটাই চলে যাবে। যদিও তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছে, দল সৌগত রায়ের এই মন্তব্য অনুমোদন করে না।

নির্বাচন ছাড়াই ৪ পুরসভা দখল তৃণমূলের
১০৮ টি পুরসভা নির্বাচনের কথা ছিল ২৭-এ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু নির্বাচনের দিনের আগেই তৃণমূল চার পুরসভা সাঁইথিয়া, বজবজ, দিনহাটা এবং সিউড়ি পুরসভা দখল করে নেয়। প্রথমত সব ওয়ার্ডে বিরোধীরা মনোনয়ন জমা করতে পারেননি। আবার যাঁরা মনোনয়ন জমা করেছিলেন, তাঁরাও মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের দিন তা প্রত্যাহার করে নেন। এছাড়াও রামপুরহাটের মতো অন্য পুরসভাগুলির কোনো কোনও ওয়ার্ডে বিরোধী প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। শাসকদলের হিংসা ও ভয় দেখানোর কারণেই এই পরিস্থিতি বলে অভিযোগ করেছিল বিরোধীরা।

নির্বাচনের দিন উপর্যুপরি হামলা
২৭ ফেব্রুয়ারি রবিবার সকাল সাতটায় নির্বাচন শুরু হতেই জলপাইগুড়ি থেকে জয়নগর, সর্বত্রই ভয় দেখানো থেকে শুরু করে ভুয়ো ভোটারদের দিয়ে ভোট দেওয়ানোর মতো অভিযোগ
তুলতে থাকে বিরোধীরা। খবর পেয়ে সংবাদ মাধ্যম হাজির হতেই সেখানে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। জয়নগরের মতো কোনও কোনও জায়গায় বহিরাগত দুষ্কৃতীরা এলাকা খালি করতে গুলি চালায় বলেও অভিযোগ বিরোধীদের। জয়নগরের মানুষদের দাবি গত ১৫২ বছরের ইতিহাসে এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি। কামারহাটি কিংবা দমদমের কোনও কোনও ওয়ার্ডে স্থানীয় মানুষ বহিরাগতদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধও গড়ে তোলে। যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করে সেদিন বিকেলে সাংবাদ সম্মেলন করে রাজ্য পুলিশের ডিজি ঘোষণা করেন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে।

যা হচ্ছে ভাল হচ্ছে না
এবারের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে বার্তা দেওয়া হয়েছিল তৃণমূলের তরফে। স্থানীয় পর্যায়ে যদি কেউ ভোট দিতে বাধা দেন, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের তরফে। কিন্তু ২৭ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তা দেখা যায়নি। বরং এক তৃণমূল প্রার্থীর মেয়ের ভোটও পড়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ করা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল রয়েছে (সেই ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করে দেখেনি বেঙ্গলি ওয়ান ইন্ডিয়া)। সেখানে ওই তৃণমূল প্রার্থীর মেয়ে বলছেন, তাঁর মাকে বলেই তাঁর ভোট দিয়েছেন তৃণমূলের লোকেরা, এমনটাও দাবি করা হয়েছে। যা নিয়ে এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেছেন, বার্তাটা নিচের দিকে পৌঁছচ্ছে না। জেতার লক্ষ্যে দলের নেতা-কর্মীরা উগ্র হয়ে যাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। যা হচ্ছে তা ভাল হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে।

লোকের বিশ্বাসটই চলে যাবে
তবে ভোটের দিনই সৌগত রায় বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলেন। পরে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও তিনি ক্ষমা চেয়ে নেন। তিনি বলেন, পঞ্চায়েত ভোটের মতো গণ্ডগোল হয়নি। এবার বিরোধীরা প্রচার করেছেন, মনোনয়ন জমা দিতে পেরেছেন। ২০১৮ সালের মতো ব্যাপক কিছু হয়নি। তবে ভোটের দিনের হিংসা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এত হিংসাত্মক ঘটনা, লোকের বিশ্বাসটাই চলে যাবে। তিনি আরও বলেন, দলের নিচুতলার নেতারা বার্তা শুনছেন না, কারণ ক্ষমতার লিপসা। ক্ষমতা পেতে গেলে যা করতে হয়, তাই করব, এইভাবে চলার কারণেই বর্তমান পরিস্থিতি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংগঠন সিপিএম-এর মতো নয়
কেন বার্তা দলের নিচু তলায় পৌঁছচ্ছে না, এই প্রশ্নের উত্তরে সৌগত রায় বলেন, তিনি দলের কর্মকর্তা নন। তবে দলকে দেওয়া উপদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বলা কমিয়ে দিয়েছেন। বিকেন্দ্রীকৃত সংগঠন, তাই বার্তা নিচের দিকে পৌঁছচ্ছে না। তিনি দলের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার ডাক দিয়েও বলেন, সংগঠন এখনও সিপিএম-এর মতো জায়গায় পৌঁছতে পারেনি।

তৃণমূলের অবস্থান
বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়ের এই মন্তব্য প্রসঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, সৌগত রায়ের এই মন্তব্য দল অনুমোদন করে না। দল মনে করে যে ১১ হাজারের ওপর বুথে ভোটগ্রহণ হয়েছে, তার মধ্যে ৬০ থেকে ৬৫ টি বুথে গণ্ডগোল হয়েছে। বাকি বুথগুলিতে শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি পাল্টা সংবাদ মাধ্যমের ওপরে দায় চাপিয়ে বলেন, কয়েকটি ঘটনা নিয়ে সারাদিন ধরে প্রচার করেছে সংবাদ মাধ্যম। আর তাতেই প্রভাবিত হয়েছেন সৌগত রায়।












Click it and Unblock the Notifications