দিদির যোগ্য ভাই! মোদী-সিদ্ধার্থনাথের উদ্দেশে নোংরা ভাষা কল্যাণের

সমর্থকদের হাততালি কুড়োতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির পর্যবেক্ষক সিদ্ধার্থনাথ সিংয়ের বিরুদ্ধে নোংরা ভাষায় আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু বলাই নয়, সঙ্গে হাত দিয়ে অঙ্গভঙ্গি করে যোগ্য সঙ্গত দিলেন।
আরও পড়ুন: পায়ের তলা থেকে মাটি সরছে বুঝেই মেজাজ হারাচ্ছেন মমতা, মত সব মহলে
কী বলেছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ? হুগলী জেলার চণ্ডীতলায় একটি দলীয় সভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন কল্যাণবাবু। বলেন, "নরেন্দ্র মোদী একটা অপদার্থ লোক। এমন অপদার্থ প্রধানমন্ত্রী আগে এ দেশে কখনও আসেনি। ২০১৯ সালে ওকে মানুষ গুজরাতের গান্ধীনগরের সেই গলিতে ঢুকিয়ে দেবে, যেখান থেকে এসেছিল।" প্রসঙ্গত, 'গলিতে ঢুকিয়ে দেবে' বলার সঙ্গে সঙ্গে বাম হাত দিয়ে অশ্লীল ইঙ্গিত করেন তিনি।
এর পর সিদ্ধার্থনাথ সিংকে নিয়ে বলতে গিয়ে বলেন, "ওই যে লোকটা, কী যেন নাম? সিদ্ধার্থনাথ শাস্ত্রী না কী যেন!" তখন পাশ থেকে একজন সমর্থক বলে ওঠে "শাস্ত্রী নয়, সিং। সিদ্ধার্থনাথ সিং।" সেই রেশ ধরে কল্যাণবাবু বলেন, "হ্যাঁ। সিদ্ধার্থনাথ সিং। লালবাহাদুর শাস্ত্রীর নাতি। লালবাহাদুর শাস্ত্রী বেঁচে থাকলে ওর নাতিকে দেখে বলত, আমি বিয়েই করব না। এমন অপদার্থ নাতি! শালা কোনও দিন কোনও আন্দেলন করল না, কিছু করল না, শুধু ধর্মের ভিত্তিতে নেতা হয়ে গেল।"
"নেত্রী যেখানে ইতর, সেখানে চ্যালা-ও ইতর কথা বলবেন, এ আর এমন কী", তোপ তথাগত রায়ের
এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও নানা সময় নরেন্দ্র মোদী, সিদ্ধার্থনাথ সিং সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন। এ বার দিদির পথে হেঁটে মুখ দিয়ে নোংরা ছোটালেন কল্যাণবাবু।
বিজেপি নেতা তথাগত রায় বলেন, "নেত্রী যেখানে ইতর, সেখানে চ্যালা-ও ইতর কথা বলবেন, এ আর এমন কী! এ সব বললে নেত্রী খুশি হবেন, তাই বলেছেন।"
বিজেপি মুখপাত্র রীতেশ তিওয়ারি বলেন, "বাংলার মানুষ সব দেখছেন, শুনছেন। ২০১৬-তে এই জবাব কল্যাণবাবু পাবেন। এত কদর্য ভাষা শুনলে লজ্জায় মাথা নীচু হয়ে যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে না ভিড়লে জীবনে তো কোনওদিন সাংসদ হতে পারত না। শুধু সাংসদ কেন, ওঁর তো একটা বিধায়ক, এমনকী পঞ্চায়েত সদস্য হওয়ার যোগ্যতা নেই।"
সিপিএমের প্রাক্তন সাংসদ সুজন চক্রবর্তী বলেন, "যেমন দল, তার তেমন নেতা। এর আগেও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সম্পর্কে নোংরা কথা বলতে শুনেছি ওঁকে। এদের কোনও শিক্ষাদীক্ষা নেই, সুস্থ রুচি নেই, স্থানকালপাত্র জ্ঞান নেই। শুধু এ সব বলে দিদিকে খুশি করতে হবে, তৃণমূলে থেকে ধান্দা করতে হবে, সেটাই প্রথম কাজ।"
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেছেন, "জনপ্রতিনিধিদের চালচলনে, কথাবার্তায় শালীনতা বজায় রাখা দরকার। সেটাই উনি ভুলে গিয়েছেন।"
নাট্যকার কৌশিক সেন বলেছেন, "ওঁর তো নোংরা কথা বলার ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে। ফলে আমি বিস্মিত নই।"












Click it and Unblock the Notifications