তৃণমূল ছাড়তে এক পা এগিয়ে! শুধু মমতার সংকেতের অপেক্ষা, জবাব সাংসদ জহর সরকারের
তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতি সামনে আসার পর বিস্ফোরক বার্তা দিয়েছিলেন সাংসদ জহর সরকার। তৃণমূলের একাংশ পচে গিয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। তারপরও এমন কথাও বলেছিলেন, তাঁর পরিবার-পরিজন চাইছেন না আমি আর রাজনীতিতে থাকি।
তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতি সামনে আসার পর বিস্ফোরক বার্তা দিয়েছিলেন সাংসদ জহর সরকার। তৃণমূলের একাংশ পচে গিয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। তারপরও এমন কথাও বলেছিলেন, তাঁর পরিবার-পরিজন চাইছেন না আমি আর রাজনীতিতে থাকি। তারপর তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ সৌগত রায় তাঁর বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে সাংসদ পদ ছাড়ার বার্তা দিতেই পাল্টা দিলেন তিনিও।

তৃণমূল সাংসদের রাজনীতিতে থাকার প্রবৃত্তি নিয়ে প্রশ্ন
সৌগত রায়কে পাল্টা দিয়ে তণমূলের বিক্ষুব্ধ রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকার জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একবার বললেই তিনি ছেড়ে দেবেন সাংসদ পদ। দু-বার ভাববেন না। প্রাক্তন আইএএস প্রসার ভারতীয় প্রাক্তন সিইও ছিলেন জহর সরকার। তিনি দলে যে পতন ধরেছে, তা মানতে না পেরেই বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। এবং রাজনীতিতে থাকার প্রবৃত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

সৌগতের পরামর্শেরই পাল্টা দিলেন জহর সরকার
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অন্যান্য নেতাদের দুর্নীতি নিয়ে মুখ খুলে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকার তৃণমূলের সমালোচনা করেছিলেন। তারপরই জহর সরকারকে স্বার্থপর আমলার তকমা দিয়েছিলেন। এবং পদ ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এবার সেই পরামর্শেরই পাল্টা দিলেন জহর সরকার।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেই পদ ছেড়ে দেবেন
এক লাইনেই সৌগত রায়ের পরামর্শের জবাব দিলেন জহর সরকার। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেই পদ ছেড়ে দেবেন। কোনও সুবিধা নেবেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে এই দায়িত্ব দিয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি তাঁর কথায় ক্ষুব্ধ হয়ে থাকেন, পদত্যাগ করতে বলেন, তিনি পদ ছেড়ে দেবেন।

জহর সরকার দিলেন সাফাই, কেন তিনি ছাড়ছেন না
তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকার দুর্নীতির প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ হয়ে প্রথম দিনেই বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে লড়াইয়ের অদম্য ইচ্ছা দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। এখনও তাঁর প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমি বা আমার মতো অনেকেই মনে করেন বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তিনিই আদর্শ। এখন পর্যন্তও তিনি সম্মান দিয়ে গিয়েছেন। আত্মসম্মান নিয়ে কাজ করতে পারছি, সেই দায়বদ্ধতা থেকেই সাংসদ পদ বা রাজনীতি ছাড়তে পারিনি।

তৃণমূলের একাংশে পচন দেখে খারাপ লাগছে জহরের
আবার এ কথাও বলেছিলেন, দলের একাংশে এই পচন দেখে কোথাও যেন একটা খারাপ লাগা কাজ করছে। কিছুতেই মানতে পারছি না, দুর্নীতি হবে, তাও আবার এভাবে! জহর সরকারের কথায়, সব দলেই দুর্নীতি আছে, কেউ ধোওয়া তুলসি পাতা নয়। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী যেভাবে তাঁর ইমেজে কালী ছিটিয়েছেন, তা বিশ্বাস করা কঠিন হচ্ছে। রাজনীতির জন্য নির্বাচনের জন্য প্রত্যেক রাজনৈতিক দলই কিছু বেনিয়ম করে, তা বলে দুর্নীতির এমন রূপ দেখব কল্পনা করিনি। দুর্নীতির টাকায় বান্ধবীকে ফ্ল্যাট দেব, অলঙ্কৃত করব, ভাবতে পারছি না- এও সম্ভব!

তৃণমূল কংগ্রেসের অস্বস্তি বাড়িয়ে যা বলেন জহর
এরপরই তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের অস্বস্তি বাড়িয়ে বলেন, তৃণমূলের একটা দিক পচে গিয়েছে। এখন এই পচা শরীর নিয়ে ২০২৪-এর নির্বাচন লড়া কতটা সম্ভব হবে বলা যাচ্ছে না। এমন দল নিয়ে কী করে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করা যাবে, সেটাই ভাবনা। তবু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেহেতু নেত্রী, তিনি আস্থা রাখেন তৃণমূলে। নইলে বাড়ির লোকেরা ও বন্ধু বান্ধবেররা তাঁকে রাজনীতি ছাড়তে বলেছিলেন। তিনিও মন থেকে সাড়া পাচ্ছিলেন না। তবু তিনি তৃণমূলের সাংসদ পদ এখনই ছাড়ছেন না বলে জানান। কেননা দলে পচন ধরলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে এখনও লড়াইয়ের আগুন দেখতে পাচ্ছেন। এটা সম্বল করেই তিনি রাজনীতিতে থাকছেন।












Click it and Unblock the Notifications