Arjun Singh: আমাকে কোণঠাসা করার মতো কেউ পয়দা হয়নি! সাংসদ অর্জুনের মুখে কেন এমন কথা?
Arjun Singh: অর্জুন সিং তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন। ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ হন। ফের যোগদান করেছেন তৃণমূলে। আগামী বছর লোকসভা ভোটে টিকিট পাওয়ার বিষয়ে কোনও সংশয় নেই অর্জুনের।
লোকসভা নির্বাচনের আগে অর্জুন জোর দিচ্ছেন জনসংযোগে। রাজ্যের শাসক দলে চোরাস্রোত থাকলেও মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দলের নানা অপকর্ম নিয়েও সরব হচ্ছেন ডাকাবুকো অর্জুন।

কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনা, জনবিরোধী নীতির প্রতিবাদে গতকাল রাজ্যের নানা প্রান্তে ধর্না, কর্মসূচি নিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বৃষ্টি মাথায় নিয়েও ভাটপাড়া ও জগদ্দলে অর্জুন সিংয়ের বক্তব্য শুনতে দলীয় কর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। যদিও অর্জুন যেখানে ছিলেন সেখানে দেখা যায়নি জগদ্দলের বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম কিংবা তাঁর মা তথা ভাটপাড়া পুরসভার চেয়ারপার্সন রেবা রাহাকে।
সম্প্রতি ব্যারাকপুর লোকসভার অন্তর্গত নোয়াপাড়ায় ২১ নম্বর রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন রবিন দাস ওরফে ডন। অশান্ত ভাটপাড়া এখন শান্ত। কিন্তু ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে প্রকাশ্য দিবালোকে এই গুলিচালনার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৃণমূল রবিনকে দলীয় কর্মী বলে দাবি করলেও অর্জুন তাতে একমত নন। তিনি বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়া ব্যক্তির নাম ডন।

অর্জুনের কথায়, দলের জন্মলগ্ন থেকে তৃণমূল করি। এমন দুষ্কৃতীকে তৃণমূলে দেখিনি। এই ব্যক্তি সমাজবিরোধী কাজকর্মে যুক্ত। ১০-১২ বছর জেল খেটেছেন। এটা ঠিক, ব্যারাকপুরে গুলিচালনার ঘটনা বন্ধ হয়নি। পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করেছে। জগদ্দল বিধানসভা, ভাটপাড়া পুরসভা এলাকায় নাগরিক পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অর্জুন নিজেও সরব হয়েছেন জগদ্দলের বিধায়ক সোমনাথ শ্যামের নানা অনৈতিক কাজকর্মের বিরুদ্ধে। অর্জুন বিজেপিতে যাওয়ার পরই উত্থান মন্ত্রী পার্থ ভৌমিক-ঘনিষ্ঠ সোমনাথের। পুকুর ভরাট, জমি দখলের চেষ্টা, বৃদ্ধাকে হুমকির মতো নানা অভিযোগ রয়েছে বিধায়কের বিরুদ্ধে। অর্জুন অবশ্য নাগরিকদের পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন সব সময়।
অনেকের মতে, লোকসভা ভোটে অর্জুন টিকিট পাচ্ছেন বুঝে তৃণমূলেরই একাংশ নাগরিকদের মনে দলীয় ভাবমূর্তি খারাপ করার চেষ্টা করছেন। অর্জুনকে কোণঠাসা করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে শাসক দলের মধ্যে থেকেই। যদিও অর্জুন বলেন, আমাকে কোণঠাসা করার মতো কেউ এখনও পয়দা হননি। নিজের এলাকায় জনসংযোগে জোর দিয়ে দলের বক্তব্য তুলে ধরায় গুরুত্ব আরোপ করছেন অর্জুন।
কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতিবাদে দিল্লিতে ২ অক্টোবর বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়েছে তৃণমূল। অর্জুন বলেন, ১০ লক্ষ লোক নিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তার চেয়েও অনেক বেশি যাবেন বলে মনে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ভ্রান্ত নীতি, শ্রমিক, মজদুর, ছাত্র, মহিলা, কিষাণ-বিরোধী নীতির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে, সংসদে গিয়ে আমাদের আন্দোলন চলবে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, পিসি-ভাইপোর কোম্পানিকে উৎখাত না করা পর্যন্ত বাংলার মানুষের শান্তি নেই। এ প্রসঙ্গে অর্জুন বলেন, ওঁর সুবিধা হবে এমন কথাই উনি বলছেন। এই রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে কিছু বলার নেই। অর্জুনের সভাগুলিতে ছিলেন ভাটপাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি দেবজ্যোতি ঘোষ, ভাটপাড়া পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ তালুকদার, জগদ্দল যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি হিমাংশু সরকার প্রমুখ।
(ছবি- অর্জুন সিং ফেসবুক)












Click it and Unblock the Notifications