তৃণমূলের বাড়বাড়ন্তের মধ্যে স্পষ্ট হল ফাটল, বেসুরো বাজছেন অধীর-গড়ে বিধায়করা
অধীর চৌধুরী তথা কংগ্রেসের গড় হিসেবে পরিচিত মুর্শিদাবাদে একুশের নির্বাচনে ২২টির মধ্যে ২০টি বিধানসভা আসনে জয়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের এই বাড়বাড়ন্তের মধ্যে স্পষ্ট হল ফাটল।
তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে চলে এল এবার অধীর-গড়ে। অধীর চৌধুরী তথা কংগ্রেসের গড় হিসেবে পরিচিত মুর্শিদাবাদে একুশের নির্বাচনে ২২টির মধ্যে ২০টি বিধানসভা আসনে জয়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের এই বাড়বাড়ন্তের মধ্যে স্পষ্ট হল ফাটল। মুর্শিদাবাদে জেলা সংগঠন আরও মজবুত করতে গিয়ে দেখা গেল, বিধায়করা পাশে নেই নেতৃত্বের।

তৃণমূল কংগ্রেস এখন দু-ভাগ মুর্শিদাবাদে
২০২১ বিধানসভার প্রভূত সাফল্য পাওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেস মুর্শিদাবাদ জেলাকে ভেঙে দুটি সাংগঠনিক জেলায় পরিণত করে। সেইমতো বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ দায়িত্ব পান প্রাক্তন বিধায়ক শাওনি সিংহ রায়। আর জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হল সাংসদ খলিলুর রহমান। তাঁকে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এখন দু-ভাগ।

তৃণমূলের দ্বন্দ্ব বেআব্রু হয়ে পড়ল নবাব-গড়ে
জঙ্গিপুর নতুন সংগঠনিক জেলা তৈরির পর তৃণমূল বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করেছিল। তৃণমূল পার্টি অফিসে সেই বিজয়া সম্মিলনীতে গরহাজির ছিলেন জেলার অধিকাংশ বিধায়ক। তৃণমূলের দ্বন্দ্ব বেআব্রু হয়ে পড়ল নবাব-গড়ে। এই জেলা থেকে নির্বাচিত রাজ্যের দুই মন্ত্রীও অনুপস্থিত রইলেন। মন্ত্রী আখরুজ্জামান ও সুব্রত সাহার অনুপস্থিতির পাশাপাশি আর তিন বিধায়ক গরহাজির রইলেন।

তৃণমূলের বিজয়া সম্মিলনীতে গরহাজির যাঁরা
জঙ্গিপুর তৃণমূলের বিজয়া সম্মিলনীতে সুব্রত সাহা ও আখরুজ্জামান ছাড়াও ছিলেন না সুতির তৃণমূল বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস, সমশেরগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক আমিরুল ইসলাম, জঙ্গিপুরের বিধায়ক জাকির হোসেন। খলিলুর রহমানের বক্তব্য রাখার সময় বিধায়ক অনুপস্থতির সংখ্যা আরও কম। খলিলুর রহমান সকলকে একসঙ্গে চলার বার্তা দিয়ে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে দুটি সাংগঠনিক জেলায় ভাঙা হয়েছে। সেইমতে আমাদের সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, সংগঠনকে মজবুত করতে হবে। কিন্তু বিজয়া সম্মিলনীতে ছন্নছাড়া ভাবই স্পষ্ট হয়ে উঠল তৃণমূলের।

জেলা সংগঠনের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ বিধায়কের
সদ্য নির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক আমিরুল ইসলাম তো সরাসরি তোপ দাগলেন তৃণমূলের সাংগঠনিক জেলার সভাপতি খলিলুর রহমানকে। তাঁর পরিবারের সদস্য জাইদুর রহমান কংগ্রেস প্রার্থী হয়েছিলেন। তাঁর পরিবার কংগ্রেস করে তাঁকে হারানোর পরিকল্পনা করেছিল বলে অভিযোগও করে বসলেন বিধায়ক আমিরুল ইসলাম। এছাড়া অন্যান্য বিধায়করা যে যার মতো করে অনুপস্থিতির কারণ দর্শেছেন।

তৃণমূল বিধয়াকদের অনুপস্থিতির হারে স্পষ্ট ফাটল
জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলায় মোট ৯টি বিধানসভা কেন্দ্র। তার মধ্যে ফরাক্কা, নবগ্রাম ও লালগোলার বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের বিজয়া সম্মিলনীতে। মুর্শিদাবাদ জেলায় ২০ জন তৃণমূল বিধায়ককেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল জঙ্গিপুর তৃণমূলের জেলা সংগঠনের তরফে। কিন্তু উপস্থিত হয়েছিলেন মাত্র ছজন। বাকি ১৪ জন গরহাজির ছিলেন।

তৃণমূলের একাংশ জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী
তৃণমূলের একাংশ খলিলুর রহমানের প্রতি বিরক্ত। তিনি যেভাবে দল পরিচালনা করছেন, তাতে অখুশি বেশিরভাগ বিধায়ক। তারা অনেকেই সাংগঠনিক জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের অন্তর্কলহের কথা অস্বীকার করেছেন। দলের তরফে সাফ জানানো হয়েছে তৃণমূলে কোনও দ্বন্দ্ব নেই। বিধায়করা আগেভাগেই জানিয়েছিলেন তাঁদের অসুবিধার কথা।












Click it and Unblock the Notifications