বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন দলের বিধায়ক! ভরা সভায় মমতার অভিযোগের জবাবে কী বলছেন নেত্রীর স্বামী
শনিবার ছিল ষষ্ঠদফার নির্বাচন। আর সামনের শনিবার সপ্তম তথা শেষ দফার নির্বাচন। ফলে সব দলের নেতানেত্রীরা ব্যস্ত শেষ দফার নির্বাচনী প্রচার। শনিবার হাড়োয়ায় নির্বাচনী সভা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সভা থেকে তৃণমূল বিরোধীদের পাশাপাশি দলের নেতানেত্রীদেরও সতর্ক করেন তিনি। যা নিয়ে বিতর্ক আরও বেড়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিনাখার তৃণমূল বিধায়ক ঊষারানি মণ্ডলকেও নিশানা করেন হাড়োয়ার সভা থেকে। তাঁর সঙ্গে বিজেপির যোগসাজসের অভিযোগ তোলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি বলেন, শনিবারের নির্বাচনী সভায় না উপস্থিত না থাকার জন্য যদি ঊষারানি মণ্ডল ক্ষমা না চান, তাহলে দল তাঁর সঙ্গে সব রকমের সম্পর্ক ছিন্ন করবে।

- মমতার নিশানায়
হাড়োয়ার ভরা সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু ঊষারানি মণ্ডলকে নিয়েই থেমে থাকেননি, তিনি বিধায়কের স্বামী তথা জেলা পরিষদ সদস্য এবং মিনাখা বিধানসভা কমিটির চেয়ারম্যান মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডলের বিরুদ্ধে দলকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও করেন। তিনি বলেন, যাঁরা শনিবারের সভায় যোগ দেননি, কিন্তু বিধায়ক হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে চান, তাদের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক থাকবে না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি টাকা দিয়ে ভোট কিনছে। তারা অনেক লোককে কেনার পরিকল্পনা করছে। এরপরেই তিনি ঊষারানির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, বিজেপির সঙ্গে যাঁরা যোগাযোগ রাখে, তাঁদের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই।
- বদলি খোঁজার নির্দেশ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখানেই থেমে থাকেননি। তিনি দুই নেতানেত্রীর অনুপস্থিতিতে তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করে, তাঁদের বদলি খোঁজার নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দল এইসব নেতানেত্রীদের পাশে থাকবে না। সংগঠনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানান তিনি। ঊষারানি মণ্ডল যতক্ষণ না পর্যন্ত ক্ষমা চাইছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁকে মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানিয়ে দেন দলের সুপ্রিমো।
- দলে অন্তর্দ্বন্দ্ব
সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনায় তৃণমূলে অন্তর্দ্বন্দ্ব শনিবার ষষ্ঠদফার নির্বাচনের দিন একেবারে প্রকাশ্যে এসে পড়ে। যে কারণে ঊষারানি মণ্ডল এবং তাঁর স্বামী মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল হাড়োয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা এড়িয়ে যান।
তৃণমূলের একাংশের সূত্রে খবর, হাড়োয়া ব্লক কমিটির সভাপতি আব্দুল খালেক মোল্লার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর নেতা-কর্মীদের এড়াতেই ঊষারানি মণ্ডল এবং তাঁর স্বামী শনিবারের সভা এড়িয়ে যান।
- কী বলছেন ঊষারানি ও তাঁর স্বামী?
এব্যাপারে ঊষারানি মণ্ডল সংবাদ মাধ্যমের সামনে মুখ না খুললেও, তাঁর স্বামী মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল দাবি করেছেন, দিদিকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। আব্দুল খালেক মোল্লার জন্য এবং মর্যাদা রক্ষায় তিনি এবং তাঁর স্ত্রী তথা বিধায়ক ওই সভায় যাননি। তিনি আব্দুল খালেক মোল্লাকে শেখ শাহজাহানের নতুন সংস্করণ বলেও দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এক বৈঠকে রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু এবং বসিরহাটে দলের প্রার্থী হাজি নুরুল ইসলামের সামনে ঊষারানি মণ্ডলকে অপমান করা হয়েছে।
- কী করবেন তাঁরা?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী কি, তাঁরা ক্ষমা চাইবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁরা কেন তা করবেন? তাঁরা দু'জনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্মান করেন এবং প্রতিটি সভায় তাঁর পা স্পর্শ করেন। কিন্তু এবারের ঘটনাটা আত্মসম্মানের বলে জানিয়েছেন তিনি।
- কী বলছেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা?
অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা আব্দুল খালেক মোল্লা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি সংবাদ মাধ্যমের কাছে নয়, রাজ্য নেতৃত্বকে বিস্তারিত জানাবেন।












Click it and Unblock the Notifications