ডনকে নিয়ে টানাপোড়েন জগদ্দলে! সাংসদ অর্জুন ও পুলিশের চোখে দুষ্কৃতী, তবু কেন তৃণমূল কর্মী বলে পাশে বিধায়ক?
পানীয় জলে পোকা, প্রাক্তন কর্মীদের পেনশন ও গ্র্যাচুইটি দিতে না পারা, পুকুর ভরাট, জমি দখলের প্রচেষ্টায় সৌন্দর্যায়ন, মধুচক্র। সাম্প্রতিক নানা ঘটনায় অভিযোগের তির উঠে আসছে জগদ্দলের তৃণমূল বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের দিকে।
এরই মধ্যে চলছে দুষ্কৃতীরাজ। সম্প্রতি ইছাপুরে শ্যুটআউটে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকে ব্যবসায়ী বলে তৃণমূলের একাংশ দাবি করলেও সাংসদ অর্জুন সিং ও ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশকর্তারা ওই ব্যক্তিকে দুষ্কৃতী বলেই দাবি করছেন। যাঁর নাম আবার 'ডন'।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে একটি টেলিফোনিক কথোপকথন। যার সত্যতা যাচাই করেনি ওয়ানইন্ডিয়া বাংলা। সুমন চক্রবর্তী বলে এক তৃণমূল কর্মীর সঙ্গে ফোনে জগদ্দলের বিধায়ক সোমনাথ শ্যামের কথোপকথন বলে এটিকে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ, ভাইরাল অডিওটিতে বিধায়ক সোমনাথ জানিয়েছেন, ডনকে যাঁরা দুষ্কৃতী বলছেন তাঁদের সঙ্গে তিনি সহমত নন। ডন তৃণমূলেরই কর্মী।
স্বাভাবিকভাবেই ডনের মাথায় যে বিধায়ক তথা ব্যারাকপুর-দমদম সাংগঠনিক জেলার আইএনটিটিইউসি সভাপতি সোমনাথের হাত রয়েছে সেটা পরিষ্কার। আরও অভিযোগ রয়েছে যে, ডন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় যখন কলকাতায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন সেখানে হাজির ছিলেন খোদ বিধায়ক ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা। কিন্তু কে এই ভাটপাড়ার 'ডন'?
ইছাপুর, শ্যামনগর, ভাটপাড়া অঞ্চলে কান পাতলে শোনা যায় বিকাশ বসু খুনে অভিযুক্ত রবিন দাস ওরফে ডনের নামে খুন, মাদক পাচার (এনডিপিএস), তোলাবাজি-সহ একাধিক মামলা রয়েছে। তবু এলাকায় দাপিয়ে ঘোরে ডন। শুধু বিধায়ক নন, ডন আবার মন্ত্রী পার্থ ভৌমিকেরও ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ। সে কারণেই তাঁকে তৃণমূল কর্মী বলে দাবি করা হচ্ছে। পঞ্চায়েত ভোটেও তিনি ছিলেন সক্রিয়।

ডন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সাংসদ অর্জুন সিং বলেন, এই নামে কেউ তৃণমূলে নেই। ডন একজন দুষ্কৃতী। নানা মামলায় ১২-১৪ বছর কারাবাসে কাটানো এক ব্যক্তি। অর্জুন পরেও বিধায়কের ভাইরাল অডিও প্রসঙ্গে বলেন, আবারও বলছি ডন তৃণমূলের কেউ নন। কেন বা কারা তাঁকে তৃণমূল কর্মী বলে দাবি করছেন তা বোধগম্য হচ্ছে না।
রবিন দাস ওরফে ডন যে একজন দাগী দুষ্কৃতী এবং আইন মেনেই যথোপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে সে কথা গতকাল সাংবাদিক বৈঠকের ফাঁকে জানিয়েছেন ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিডিডি আইপিএস শ্রীহরি পাণ্ডে। উল্লেখ্য, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা বারবার দাবি করছেন, দলে দুষ্কৃতীদের কোনও জায়গা নেই। দল জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলে।

অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলি তৃণমূল দুষ্কৃতীদের অবাধ বিচরণক্ষেত্র বলে পাল্টা কটাক্ষ করে। এই অবস্থায় পুলিশকর্তা ও সাংসদ যাঁকে দুষ্কৃতী বলছেন, সাংসদ দলের সঙ্গে ডনের দূরত্ব বাড়াতে চাইছেন, সেখানে বিধায়ক কেন ওই অভিযুক্ত দুষ্কৃতীর ঢাল হয়ে দাঁড়াচ্ছেন, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না। ওয়ানইন্ডিয়া বাংলার তরফে বিধায়ককে ফোন করা হয়েছিল।
ওয়ানইন্ডিয়া বাংলাকে জগদ্দলের বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম বলেন, আমি একটি শ্রমিকদের সভায় রয়েছি। বিকেলে ফোন করুন। যদিও তারপর চারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি, রিং ব্যাকও করেননি। সমালোচনার মুখেও নিজের অবস্থান বিধায়ক স্পষ্ট না করায় বাড়ছে সংশয়। ভাইরাল অডিও নিয়েও বিধায়ক নীরবই রয়েছেন।
(ছবি- অর্জুন সিং ও সোমনাথ শ্যামের ফেসবুক)












Click it and Unblock the Notifications