খৈনির আমেজে মজে মোদীকে আক্রমণ, নেশায় উৎসাহ দিয়ে সমালোচিত তৃণমূল বিধায়ক
দলিত সাহিত্যিককে বিধায়ক করে তৃণমূলের বিড়ম্বনা বেড়েই চলেছে। কখনও বিস্ফোরক ফেসবুক-বার্তা দিয়ে অস্বস্তিতে ফেলছেন। কখনও বা প্রকাশ্যে দলের কর্মীদের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন। আজ সেই বলাগড়ের তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারীর বিরুদ্ধে উঠল নেশায় উৎসাহিত করার অভিযোগ। মঞ্চে তাঁর চা আর খৈনিতে মজে থাকা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরাও।

পেট্রোপণ্যের প্রতিবাদ
বিধায়ক হয়েই তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী বলেছিলেন, তিনি গাড়িতে চড়তে চান না। নিজের বিধানসভা এলাকায় ঘুরবেন টোটো কিনে। টোটো কিনে সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করে বাহবাও কুড়িয়েছিলেন নবনির্বাচিত বিধায়ক। পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে দলের কর্মসূচিতে তিনি যোগ দিতে রওনা হন টোটো চালিয়েই। যদিও তৃণমূল কর্মীদের অনেককেই দেখা যায় তাঁরা বাইকে চড়েই যাচ্ছেন। এমনকী বিধায়কের সোশ্যাল মিডিয়াতে যে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে তাতেও দেখা গিয়েছে ছবি তোলা হয়েছে বাইক থেকেই। মঞ্চে দাঁড়িয়ে নরেন্দ্র মোদীকে হিটলার, মুসোলিনির গুরু বলে উল্লেখ করে বলেন, মোদী ওঁদের চেয়েও চালাক!

বিতর্কে বিধায়ক
তবে কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতির প্রতিবাদে আয়োজিত সভাতেই বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূলের বিধায়ক। সভায় চা পানে কোনও অন্যায় নেই। তবে এরপরই দলের এক কর্মীর থেকে মঞ্চে দাঁড়িয়েই নিলেন নেশার সামগ্রী খৈনি।

খৈনি মাহাত্ম্য
এখানেই থেমে থাকেননি। খৈনি নিয়ে প্রথমে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন করেন তাঁরা এতে খারাপ ভাবলেন কিনা। তারপরই শুরু করেন খৈনির মাহাত্ম্য। দাবি করেন, শোলে ছবি দেখেই তিনি খৈনির নেশা ধরেন। কেনার পয়সা ছিল না, এক মুচির কাছ থেকে খৈনি নিতেন চেয়ে। ১৯৭১ সালে সেই খৈনি কীভাবে তাঁকে বাঁচিয়ে দিয়েছিল সে কথাও উল্লেখ করেন। বলেন, ওই মুচির থেকে খৈনি নিয়ে রাস্তার অন্য ফুটপাথে এক পরিচিতকে তিনি খৈনি দিতে যাচ্ছিলেন। তখনই এক বাস দুর্ঘটনায় কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটে। তিনি যদি খৈনি দিতে অন্য ফুটপাথে না যেতেন, তাহলে সেদিনই তাঁর প্রাণহানি ঘটতে পারত। যদিও ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছে বিধায়ক নিজেই বলছেন, তাঁর কথা মন দিয়ে কর্মীরা শুনছেন না!

সমালোচিত মনোরঞ্জন
পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ সভায় বিধায়ক নেশায় উৎসাহিত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ দলের অন্দরেও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের এক জনপ্রতিনিধি বলছেন, আমরা নেশা থেকে বিরত থাকতে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে থাকি। সেখানে বিধায়কের মতো এক দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি কোন সাহসে দলীয় মঞ্চে দাঁড়িয়ে নেশার বস্তু খৈনি নিতে পারেন? এটা সমর্থনযোগ্য নয়। কখনও ফেসবুকে লিখে, কিংবা এদিনের ঘটনায় তিনি যেভাবে দলকে বিব্রত করছেন তা নিয়ে ভাবা উচিত দলীয় নেতৃত্বের। নেশার বস্তু বিধায়ক নিলে তো বাকিরাও উৎসাহিত হবেন। বিরোধীদের কটাক্ষ, উনি কি খৈনির ব্যাপারী? যেভাবে খৈনি নিয়ে মনোরঞ্জন করছেন!

মমতা-ঘনিষ্ঠ বিধায়ক
দেশভাগের পর বাংলায় এসে উদ্বাস্তু শিবিরে ছিন্নমূল পরিবারের সঙ্গে বসবাস করে বড় হয়েছেন। নকশাল করতে গিয়ে জেল খেটেছেন। মালবাহক, শ্রমিক, কুলি, মজুরের কাজ করতে করতে কাটিয়েছেন চরম দারিদ্র্যে। মুকুন্দপুরে হেলেন কেলার বধির বিদ্যালয়ে রান্নার কাজ করেছেন, রিকশ চালাতেন। তখনই পরিচয় মহাশ্বেতা দেবীর সঙ্গে। তাঁর উৎসাহেই লেখা শুরু। বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনে গল্প, প্রবন্ধ প্রকাশের পর তাঁর অনেক বইও প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৪ সালে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি সুপ্রভা মজুমদার স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে। রাজ্য সরকারও তাঁকে সম্মানিত করেছে। লোকসভা নির্বাচনের অঙ্কে পিছিয়ে থাকা বলাগড় আসন পুনরুদ্ধারে তাঁকে প্রার্থী করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেতেন মনোরঞ্জন ব্যাপারী। তবে সাম্প্রতিক তাঁর বিভিন্ন কাজকর্ম দলকেই অস্বস্তিতে ফেলছে। কেশোরাম রেয়নের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর একটি শব্দ উচ্চারণ করতে না পারার ভিডিও ভাইরালও হয়।












Click it and Unblock the Notifications