তৃণমূলে বিদ্রোহ! ২০২১ নির্বাচনের আগে সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা হেভিওয়েট বিধায়কের
২০২১-এর আগে তৃণমূল শিবিরে বিরাট ধাক্কা দিয়ে সাংগঠনিক সমস্ত দায়দায়িত্ব ছাড়লেন তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী। কোচবিহার জেলা কমিটি গঠন নিয়ে দলীয় কোন্দল চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গেল।
২০২১-এর আগে তৃণমূল শিবিরে বিরাট ধাক্কা দিয়ে সাংগঠনিক সমস্ত দায়দায়িত্ব ছাড়লেন তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী। কোচবিহার জেলা কমিটি গঠন নিয়ে দলীয় কোন্দল চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গেল। যার জেরে চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ বিধায়ক মিহির গোস্বামী। তিনি প্রকাশ্যেই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভও উগরে দিলেন।

তৃণমূলের আকাশে অশান্তির কালো মেঘ
তৃণমূলের হেভিওয়েট বিধায়ক মিহির গোস্বামীর এই বিদ্রোহে তৃণমূলের সংসারে ফের অশান্তির কালো মেঘ ঘনিয়ে এল। প্রশ্ন উঠল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ মেনে রদবদল করছেন, তখন শৃঙ্খলার অভাব কেন ঘটল দলে। একুশের আগে বিদ্রোহের আগুন ফের অনেক জল্পনার বাতাবরণ তৈরি করল।

কোন্দল চূড়ান্ত আকার নিল তৃণমূলে
রাজনৈতিক মহলে মনে করছে, তৃণমূল কংগ্রেসের ওই বিধায়ক দলবদলের মতো সিদ্ধান্তও নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে কি তৃণমূল ছেড়ে তিনি বিজেপিতে পাড়ি জমাতে পারেন। কোচবিহার তৃণমূলে কোন্দল লেগেই রয়েছে। তার মধ্যে জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় চেষ্টা করছেন সঙ্ঘবদ্ধতা আনতে। কয়েকদিন আগে কলকাতায় এক বৈঠকও হয়েছিল। তারপরও কোন্দল চূড়ান্ত আকার নিল।

'অনেক অপমান সহ্য করেছি, আর নয়'
শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে মিহির গোস্বামী জানান, ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনের শেষ বেলায় এসে অনেক অপমান সহ্য করতে হচ্ছে। আর নয়। এবার দলের সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলাম। তিনি এদিন বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও দলবিরোধী কাজের অভিযোগ করেন।

মুকুল দায়িত্ব পাওয়ার পর বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক
মুকুল রায় সম্প্রতি বিজেপিতে গুরুদায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি মনোনীত হয়েছেন। তাঁর দায়িত্ব পাওয়ার পর বোমা ফাটিয়ে তৃণমূল বিধায়কের দায়িত্ব ছাড়ার ঘটনাও তাৎপর্যপূর্ণ। এই দুই ঘটনার কোনও যোগসূত্র আছে কি না তা স্পষ্ট হয়ে যাবে অচিরেই।

ভাঙনের সম্ভাবনা, পরীক্ষার সামনে তৃণমূল
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মিহির গোস্বামীর মতো হেভিওয়েট বিধায়কের এভাবে সাংগঠনিক সমস্ত দায়িত্ব থেকে অব্যহতি নেওয়ার পর মুকুল রায়ের হাত ধরে যেতেই পারেন বিজেপিতে। কেননা মুকুল সক্রিয় হওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের বিধায়ক মহলে ফের ভাঙনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একুশের নির্বাচনের আগে ফের পরীক্ষার সামনে তৃণমূল।

মমতা ফের ভাঙা সংসার জোড়া লাগাতে পারেন
এই পরিস্থিতিতে দেখার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ কোনও পদক্ষেপ নেন কি না। প্রশান্ত কিশোর বৈঠকে একসঙ্গে চলার বার্তা দিয়েছিলেন। তারপরও মিহির গোস্বামী দলের বিরুদ্দে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন। এই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের ভাঙা সংসার জোড়া লাগাতে পারেন। ফের কোচবিহারে সংগঠিত তৃণমূলকে দেখা দিতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications