শান্তনু-কুন্তলের বলাগড়ে নিয়োগ দুর্নীতিতে যুক্ত তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা! কাকে নিশানা করলেন বিধায়ক মনোরঞ্জন?
নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে ইতিমধ্যেই ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন কুন্তল ঘোষ ও শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের দুজনেরই বাড়ি বলাগড়ে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে মিলছে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য। এবার দলেরই ব্লক সভাপতিকে নিয়োগ দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার বিষয়ে নিশানা করলেন তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। যদিও বলাগড়ের টিএমসি ব্লক সভাপতি নবীন গঙ্গোপাধ্যায় এই অভিযোগকে পাত্তা দিতে চাননি।

নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে নয়া মাত্রা
ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলা ২৪ নিউজ (Bangla24 News)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী জানান, তাঁর কাছে অভিযোগপত্র জমা পড়েছে ব্লক টিএমসি সভাপতি নবীন গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। অর্থের বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। টাকা দিলেও চাকরি না মেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে টাকা ফেরানোর বন্দোবস্ত করতে বিধায়কের কাছে আর্জি জানান এক ব্যক্তি।

নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ
বিধায়কের অভিযোগকে অবশ্য আমল দিতে চাননি নবীন গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি প্রথমে জানতে চান কে তাঁকে নিশানা করছেন? মনোরঞ্জন ব্যাপারী একটি চিঠি দেখিয়ে এই অভিযোগ করেছেন জেনে নবীন গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, বিধায়ককেই প্রমাণ করতে হবে। আমি নিজের বাড়ির লোককেই চাকরি দিতে পারি না। অন্য লোকের চাকরির বন্দোবস্ত কীভাবে করতে পারব? বলাগড়ের বিধায়ক দলের উপর মহল পর্যন্ত গোটা বিষয়টি জানাবেন বলেও সাংবাদিকদের বলেছিলেন।

বলাগড়ের বিধায়ক নিজের দাবিতে অনড়
বলাগড়ের বিধায়ক এই অভিযোগ করার পর কেটে গিয়েছে তিন সপ্তাহেরও বেশি। দলের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়েছে কিনা তা জানতে ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলার তরফে যোগাযোগ করা হলে মনোরঞ্জন ব্যাপারী বলেন, তদন্ত চলছে। দল দেখবে, বিচার করবে, যা হবে দেখা যাবে। একজন দরখাস্ত করেছিলেন সেই অভিযোগপত্রটি দেখিয়েছিলাম। সেটি স্কুলে চাকরি, না অন্য কোনও বিষয় সেটি মনে করতে পারছি না।

চরমে কোন্দল
নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ড ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে গোষ্ঠী কোন্দলও প্রকাশ্যে আসছে। পঞ্চায়েত ভোটের আগে যা অস্বস্তি বাড়াচ্ছে। বিধায়ক গত মাসেই অভিযোগ করেন, তাঁকে নির্বাচনে জেতাতে যাঁরা জান-প্রাণ লড়িয়ে দিয়েছিলেন, তাঁদেরই এখন গুরুত্বহীন করে দেওয়া হচ্ছে। যাঁরা সে সময় বিজেপিকে জেতাতে সচেষ্ট ছিলেন তাঁরাই এখন দলের নানা পদ পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ। ব্যাকডোর দিয়ে বিজেপির লোকেরা কীভাবে দলের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে বসছেন সে ব্যাপারেও তিনি অন্ধকারেই বলে জানান বিধায়ক।

ব্লক সভাপতি আমল দিলেন না বিধায়ককে
বলাগড়ে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি নবীন গঙ্গোপাধ্যায়ের পাল্টা, আমরা দলের বকলেস পরব, বিধায়কের বকলেস পরে তাঁর বাড়ির সামনে বসে থাকতে পারব না। উনি এখানকার কাউকে চেনেন না, ভূমিপুত্রও নন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে প্রার্থী করেছেন। আমরা তাঁকে জেতাইনি, দলের প্রার্থীকে জিতিয়েছি। কাদের বিজেপির লোক বলছেন, সেটাও স্পষ্ট করে জানানোর দাবি করেন নবীন।

অন্ধকারে মনোরঞ্জন
বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী সাংবাদিকদের কিছু পেপার কাটিং দেখান। যেখানে বিজেপির সমর্থনে পছন্দের প্রার্থীকে প্রধান করার অভিযোগ ছিল। প্রাক্তন বিধায়ক অসীম মাজির 'হরিহর আত্মা' বলেও বর্তমান বিধায়ক অভিহিত করেন নবীনকে। অসীম মাজি দলের তরফে শোকজের চিঠি পেয়েও উত্তর দেননি, কিন্তু উচ্চপদে আসীন কীভাবে হলেন, সেটাও বোধগম্য হচ্ছে না হলে অভিযোগ করেন বলাগড়ের বিধায়ক।

বিধায়ক বনাম ব্লক সভাপতি
দলীয় কর্মসূচিতেও তাঁর বিরুদ্ধে নবীনের অসহযোগিতা নিয়ে মুখ খুলেছেন বলাগড়ের বিধায়ক। তাঁর কাছে জমা পড়া অভিযোগ জেলা নেতৃত্বকে জানানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বলবেন বলে জানিয়েছিলেন মনোরঞ্জন ব্যাপারী। আজ তিনি বলেন, দল পুরো বিষয়টি দেখছে। দলের নজরে সব আছে। কে কী করছি, না করছি। প্রত্যেকের বিষয়ে দল ওয়াকিবহাল। দল যথাসময়ে ব্যবস্থা নেবে। আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

নির্বাচনে শান্তনুরও সহযোগিতা পাননি বলে দাবি
শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূল কংগ্রেস গতকালই বহিষ্কার করেছে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের পদ থেকে। যদিও শান্তনু সরকারিভাবে কোনও দলীয় পদে ছিলেন না। তিনি হুগলি জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ পদে বহাল আছেন। বলাগড়ের বিধায়ক সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত নির্বাচনে শান্তনুর সহযোগিতা পাননি। জিরাট কলেজ থেকে অসীম মাঝি ও শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সরিয়ে তিনি বিরাগভাজন হন বলেও দাবি মনোরঞ্জনের।

মনোরঞ্জনের প্রচারে শান্তনু-কুন্তল
যদিও শান্তনু ও কুন্তল একসঙ্গে নির্বাচনে তাঁর হয়ে প্রচার চালান, সেই ছবি রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। শান্তনুর সঙ্গে সম্প্রতি তাঁকে এক অনুষ্ঠানেও দেখা গিয়েছিল। এখন বলাগড়ের বিধায়ক যে দুর্নীতির কথা সামনে আনছেন সে ব্যাপারে তৃণমূল কোনও পদক্ষেপ করবে, নাকি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বিষয়টি খতিয়ে দেখবে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications