তৃণমূল বিধায়ক আর নতুন দল গড়বেন না, আস্থা রেখেই বিদ্রোহ জারি রাখার বার্তা
পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে থেকেই তৃণমূল বিধায়ক বেসুরো বাজছিলেন। শুধু জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গর্জে উটেই তিনি ক্ষান্ত হননি, নির্দল প্রার্থী দাঁড় করানো, তাঁদের হয়ে প্রচারও চালিয়েছেন। আর ভোট মিটতেই তিনি ঘোষণা করেন, তৃণমূল ছেড়ে নতুন দল গড়বেন তিনি।
তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আস্থা রেখেও বিদ্রোহ জারি রাখার বার্তা দিলেন। তিনি জানিয়ে দিলেন, আর নতুন দল গড়বেন না। তবে জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তাঁর বিদ্রোহ চলবে।

শনিবার মুর্শিদাবাদের নেতৃ্তবকে নিয়ে রাজ্য নেতৃত্ব বৈঠক করবে। সেই বৈঠছকে ভরতপুরের বিদ্রোহী বিধায়ক হুমায়ুন কবীর থাকবেন বলে জানিয়েছেন। সেখানে সুব্রত বক্সি ও ফিরহাদ হাকিমদের মতো প্রথম সারির নেতারা থাকবেন। সেখানে দলের প্রার্থীর হয়ে প্রচার না করে নির্দল প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার করার জন্য তিনি কী সাফাই দেন, সেটা দেখার।
সম্প্রতি হুমায়ুন কবীবের বিদ্রোহের পর তৃণমূল নেতৃত্ব শোকজ নোটিশ পাঠায়। তারপর হুমায়ুন কবীর নিজে ফোন করেন সুব্রত বক্সিকে। কিন্তু তাঁকে লকিত আকারেই কারণ দর্শানোর কথা বলা হয়। সেইমতো তিনি শোকজের উত্তর দিয়েছেন। সেইসঙ্গে জানিয়ে দিয়েছেন তাঁর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি মিটে গিয়েছে।
হুমায়ুন কবীর জানান, তিনি নতুন দল গড়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আস্থাজ্ঞাপন করেন তিনি। তবে জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তাঁর বিদ্রোহ জারি থাকবে বলে তিনি জানিয়ে দেন। তবে তাঁর বিশ্বাস, দলের সংগঠনের স্বার্থে নিশ্চয় রাজ্য নেতৃত্ব এ ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্তই নেবে।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় থেকেই মুর্শিদাবাদ তৃণমূলে কোন্দল শুরু হয়েছিল। কোনও বিধায়ক অনুগামীদের টিকিট না দেওয়ায় দলের জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন হুমায়ুন কবীর। তারপর ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর অনুগামীদের নির্দল হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেন। তাঁদের হয়েই প্রচার চালান।
এরপর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরা জয় পেলে হুমায়ুন কবীর জানান, তৃণমূল সন্ত্রাস করে ভোটে জিতেছে। তিনি তৃণমূল ছেড়ে নতুন দল গড়ার হুঁশিয়ারি দেন। প্রত্যেক জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন মজবুত, বিজেপিতে গিয়েও লাভ নেই। আর কংগ্রেসের অধীর চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এখন তলানিতে। তাই কংগ্রেসে ফেরার রাস্তাও নেই।
শেষমেশ তাই মমতা-অভিষেকে আস্থা রাখা ছাড়া তাঁর আর কোনও রাস্তা খোলা নেই। তাই তৃণমূলের সঙ্গে বিবাদ মিটিয়ে তিনি দলে থেকে যাওয়ার কথাই বলেন। শনিবারের বৈঠকেও তিনি উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়ে দেন হুমায়ুন। বলেন, আমি তৃণমূলেই আছি, তৃণমূলেই থাকব। কোনওদিন তৃণমূল ছাড়ার কথা কি বলেছি।












Click it and Unblock the Notifications