Humayun Kabir: মমতার ভালো না চেয়ে ‘মন্ত্রণা’ তৃণমূলের একাংশের! অভিষেকের হয়ে ব্যাট চালিয়ে কী বললেন হুমায়ুন?
Humayun Kabir: তৃণমূলের সদ্যসমাপ্ত জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের পরই বিস্ফোরক হুমায়ুন কবীর। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে ব্যাটিং ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়কের (TMC MLA)। অভিষেককে দলে কোণঠাসা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য হুমায়ুনের। নাম ধরে ধরে নিশানা করলেন ফিরহাদ হাকিম, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও।
জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের পর অভিষেকের (Abhishek Banerjee) জন্য নির্দিষ্ট দায়িত্ব স্থির করে দিয়েছে তৃণমূল। এবার থেকে দিল্লির রাজনীতি সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলবেন অভিষেক। এদিন হুমায়ুন বলেন, "অভিষেককে তো মমতাই সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক করেছেন। আজ কী এমন ঘটল যে ওঁকে দাবিয়ে রাখতে হবে?"

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে দলের এক শ্রেণী স্বার্থসিদ্ধি করছে বলে বিস্ফোরক দাবি করলেন হুমায়ুন। বলেন, "অভিষেকই মমতার উত্তরসূরী। মমতাই ওকে নম্বর ২ করেছেন। প্রশাসন চালানোর ক্ষমতা ওঁর রয়েছে। কিন্তু অনেকের গাত্রদাহ হচ্ছে। কেন কার স্বার্থে ঘা লাগছে?"
কাজ না করে একদল নেতানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মন্ত্রণা দিচ্ছেন বলে নিশানা হুমায়ুনের। যাঁরা মমতাকে মন্ত্রণা দেয়, অভিষেককে নিয়ে তাদেরই গাত্রদাহ হবে বলে দাবি করলেন হুমায়ুন। অভিষেক উত্তরসূরী হলে ক্ষমতা খর্ব হওয়ার ভয়ে একদল নেতৃত্ব এখন থেকেই মমতাকে ঘিরে রেখেছেন বলে বেফাঁস মন্তব্য করে বসলেন হুমায়ুন।
এরপরই হুমায়ুন বলেন, "যেক'জন মমতাকে ঘিরে রয়েছেন, নিজেদের পরিকল্পনার মধ্যে রেখেছেন, তাঁরা মমতার কতটা ভালো চান, সেনিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। যারা কানে মন্ত্রণা দিচ্ছেন, ২০২৬-এ সবাই জবাব পেয়ে যাবেন।"
ফিরহাদ হাকিমকে (Firhad Hakim) নিশানা করে হুমায়ুনের মন্তব্য, "মমতার কাছে নম্বর বাড়ানোর কৌশল এঁটেছেন একদল। দলে তোষামোদ রয়েছে। শৃঙ্খলা নেই। একেক জন ৩-৪টি দফতর নিয়ে বসে আছে।" আবু তাহের, খলিলুর রহমানদেরও আক্রমণ করেন হুমায়ুন কবীর।
"তৃণমূলে আসার পর যারা বেইমান, গদ্দার বলেছিল তারাই ববি হাকিমদের তেল মেরে পদ পেয়েছে। খলিলুর রহমান কোনও রাজনৈতিক নেতৃত্বই নয়। একজন ব্যবসায়ী। অথচ ওয়াকফ বোর্ড থেকে হজ কমিটি, সবের পদ পেয়ে যায়," আক্রমণ হুমায়ুনের।
তবে এতকিছু বলার পরেও অকুতোভয় ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক। তাঁর স্পষ্ট দাবি , "দল ব্যবস্থা নিলে নিক। ববি হাকিম, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রাই তো বলছেন আমি কেউ না, আমার কথার কোনও গুরুত্ব নেই। তাহলে আমাদের কথার যখন গুরুত্ব নেই, দলেরই কেউ যখন নই, তাহলে শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির নোটিস দেওয়ারও জায়গা নেই।"
তবে কি হুমায়ুন কবীরকে বহিষ্কার করবে তৃণমূল? নাকি অন্য দলে যোগ দেবেন হুমায়ুন? এনিয়ে বিধায়কের অবশ্য দাবি,"দল পরিবর্তন করব না। দল যদি বেরও করে দেয়, নির্বাচনের বাইরে থাকব না।" দরকারে নির্দলের হয়ে ছাব্বিশে লড়বেন বলেও হুঁশিয়ারি হুমায়ুনের।
হুমায়ুনের বেফাঁস মন্তব্যের পর তাঁকে এবার পরামর্শ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। নিরাপত্তার জন্য অমিত শাহকে (Amit Shah) চিঠি লিখতে পরামর্শ। শুভেন্দু বলেন, "নওশাদ সিদ্দিক, আসাদউদ্দিনকেও নিরাপত্তা দেয় কেন্দ্র। নিরাপত্তার অভাব বোধ করলে কলকাতা হাইকোর্টে যান অথবা নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্টমন্ত্রীকে চিঠি লিখুন।"












Click it and Unblock the Notifications