প্রকাশ্য মঞ্চে দলে খেয়োখেয়ির কথা স্বীকার! পুলিশকে মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর 'লাস্ট ওয়ার্নিং' ঘিরে বিতর্ক
দলের নেতার বিরুদ্ধে জবাব দিতে গিয়ে এলাকায় গিয়ে পুলিশকে নিশানা করলেন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বিধায়ক মদন মিত্রের পরে এবার রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে সভা থেকে পুলিশকে নিশানা করলেন রাজ্যের মন্ত্রী। দলের মধ্যে খাওয়াখেয়ির কথা তিনি প্রকাশ্যে মঞ্চে স্বীকার করে নেন। মন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

দলের নেতাদের বার্তা
মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেন নেতারা দায়িত্বশীল। একা কাজ করা যায় না। দলের বেশ কয়েকজনের কাজে যে তিনি অসন্তুষ্ট তাও বুঝিয়ে দেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। তিনি সেখানে শাখা সংগঠনের নেতাদের নাম ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, এমন ভাবে সংগঠন তৈরি করা হয়েছে, যাতে প্রত্যেকেই সম্মান পান।

অপমানিত হওয়ার পরে জবাব
অপমানিত হওয়ার পরে প্রকাশ্যে মঞ্চ থেকে জবাব দিলেন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। মেমারি দু'নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস পক্ষ থেকে বিজুর দুনম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বিলবাড়ি গ্রামে অনুষ্ঠত সভায় তিনি বলেন, সবকিছু করবে দলের নামে, উন্নতি হবে তোমার দলের নামে, বাড়ি হবে তোমার দলের নামে, নেতাগিরি করবে তোমার দলের নামে, আর ভোটের সময় দাদাগিরি করবে এটা হয় না,এত অকৃতজ্ঞ এত নিমকহারাম। প্রসঙ্গত পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর কেন্দ্রের বিধায়ক সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর বিরুদ্ধে তাঁর এলাকাতেই স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মহম্মদ ইসমাইলের বিরুদ্ধে।

পুলিশকে হুঁশিয়ারি
এই সভার পুলিশকে বার্তা দিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাবু দাপাদাপি করে বেড়াচ্ছে। যার কথা বলে বার্তা দেন মন্ত্রী, তিনি মেমারি ২ ব্লকের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি মহঃ ইসলাম। মন্ত্রী পুলিশকে গক্ষ প্রশাসনের ভূমিকা পালনের জন্য বলেন। তিনি বলেন, পুলিশের সঙ্গে বসলেও তিনি ফিসফাস করেন না। পুলিশকে তিনি সম্মান করেন, তবে ঘুষ দেন না। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হওয়ায় প্রয়োজনে তিনি মুখ্যসচিব কিংবা ডিজির কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করবেন বলে জানান। এরপরেই তিনি পুলিশকে কার্যত হুমকির সুরে বলেন. লাস্ট ওয়ার্নিং দিয়ে যাচ্ছেন। কাজ না করলে মেমারি থানার বড়বাবুকে ঘেরাও করা হবে। থানা থেকে বেরোতে দেওয়া হবে না।

পুলিশকে হুমকি দিয়েছিলেন মদন মিত্রেও
সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশকে হুমকি দিতে দেখা গিয়েছে কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রকেও। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। সরকারে থেকেই সরকারি দলের পুলিশকে হুঁশিয়ারির প্রশ্নে অনেকেই কটাক্ষ করছেন। তবে কি পুলিশ শাসকদলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করছে, সেই প্রশ্ন তুলছেন বাম-বিজেপি নেতারা। ২১ জানুয়ারি কলকাতায় আইএসএফ-এর সমাবেশ অশান্ত হয়ে উঠলে বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকে গ্রেফতার করে পুলিশ এরপর ৪২ দিন জেলেই কাটে তাঁর। মধ্যে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত সাগরদিঘির উপনির্বাচনে হারে তৃণমূল। কোথাও পুলিশের পদক্ষেপে সংখ্যালঘুরা বিরূপ কিনা শাসকদলের অভ্যন্তরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তারপর এক সংখ্যালঘু মন্ত্রীর এই ধরনের মন্তব্যে খুব একটা বিষ্মিত নন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।












Click it and Unblock the Notifications