শুভেন্দুর নামে নির্বাচন কমিশনে কড়া চিঠি তৃণমূলের, আমল দিলেন না বিরোধী দলনেতা
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নামে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাল তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) কাছে জমা করা অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর রয়েছে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের।
অভিযোগ, শুভেন্দু বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) হুমকি দিয়েছেন। তৃণমূলের দাবি, শুভেন্দুর হুমকি দেওয়া ফৌজদারি অপরাধ, ফলে তাঁর জন্য পুলিশকে এফআইআর নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিন সিইও। যদিও এতে আমল দেননি শুভেন্দু।

সিইও-কে লেখা এক চিঠিতে তৃণমূল অভিযোগ এনেছে যে, সাম্প্রতিক এক সাংবাদিক সম্মেলনে শুভেন্দু প্রকাশ্যে বিএলও-দের হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর কথা না শুনলে বিএলও-দের কারাবাস হতে পারে।
ভোটার তালিকা সংশোধনের (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর) কাজে নিযুক্ত সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শুভেন্দুর করা এই মন্তব্যকে "নির্লজ্জ ভয় দেখানোর কাজ" বলে অভিহিত করেছে তৃণমূল। তৃণমূল মনে করে, এ ধরনের মন্তব্য "নির্বাচনের অবাধ ও সুষ্ঠু আচরণকে দুর্বল করে" এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫১ ধারা অনুযায়ী এটি ফৌজদারি হুমকির সমতুল্য।
তৃণমূল সিইও-র কাছে এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজনৈতিক হয়রানি থেকে বিএলও এবং অন্যান্য নির্বাচন কর্মীদের সুরক্ষার জন্য পদক্ষেপ করার আবেদনও জানিয়েছে। এ ছাড়াও, নির্বাচন কমিশনকে একটি নির্দেশিকা জারি করে সমস্ত রাজনৈতিক দলকে সতর্ক করার দাবিও জানিয়েছে তৃণমূল। নির্বাচনের কাজে নিযুক্ত আধিকারিকদের ভয় দেখানোর কোনও চেষ্টা করলে কঠোর ফৌজদারি শাস্তির মুখে পড়তে হবে, এটা কমিশন জানাক, চাইছে তৃণমূল।
তৃণমূলের অভিযোগকে আমল দেননি শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, বিহারে কমিশনের নির্দেশ না মেনে অবৈধ কাজ করায় ৫২ জন বিএলও জেলে রয়েছেন। বিএলওদের কোনও রাজনৈতিক দলের কথাই শোনা উচিত নয়, রাজনীতি করা দূরের কথা। পায়ে কাঁটা ফুটেছে বলে কেউ কেউ ঘেউ ঘেউ করছে। করতে দিন।
শুভেন্দুর কথায়, হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, জৈন, বৌদ্ধ কারও চিন্তা নেই এসআইআরে। স্বাধীনতার পর এই প্রক্রিয়া ৮ বার হয়েছে। ২০০২ সালেও হয়েছিল, ২০০৩ সালে তালিকা বেরিয়েছিল। চিন্তা শুধু বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের। তাদের একটা নামও থাকবে না। ফলে তৃণমূল বুঝতে পারছে ছাপ্পা ভোট আর হবে না। নিউ মার্কেট ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। আগামী ২-৩ দিনে আরও ফাঁকা হবে। যে ফাঁকা জায়গা দিয়ে এসেছিলেন সেই পথ দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যান। না হলে অমিত শাহের কথা অনুযায়ী, ডিটেক্ট, ডিলিট আর ডিপোর্ট হবে। বিএলওদের সুরক্ষা দেওয়ার কথা নির্বাচন কমিশনের। কোথাও এই সংক্রান্ত অসুবিধা হলে আমাকে জানাবেন বা আমি যোগাযোগ করে নেব।












Click it and Unblock the Notifications