সিপিএম-এর সময়ে হয়েছেন ঘরছাড়া! এবার চড়-ধাক্কা দলের নেতার, মমতার কাছে বিস্ফোরক পঞ্চায়েতের মহিলা কর্মাধ্যক্ষ
সিপিএম-এর সময়ে হয়েছেন ঘরছাড়া! এবার চড়-ধাক্কা দলের নেতার, মমতার কাছে বিস্ফোরক পঞ্চায়েতের মহিলা কর্মাধ্যক্ষ
একেবারে চুলের মুঠি ধরে অফিস থেকে বের করার পরে, চড় মেরে অফিস চত্বর থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে গোঘাট পঞ্চায়েতে তৃণমূলেই (trinamool congress) মহিলা কর্মাধ্যক্ষ শ্যামলী ঘোষকে (shyamali ghosh)। আরো এক মহিলা কর্মাধ্যক্ষের ওপরেও হামলা। যা ধরা পড়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। মারধর কিংবা হামলাকারীরা সবাই তৃণমূলের, দাবি আক্রান্ত শ্যামলী ঘোষের। যা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি (bjp) ।

পঞ্চায়েত সভাপতির সভাপতির ঘরে ঢুকে হামলা
ঘটনাটি সোমবারের। তৃণমূলেরই একাধিক নেতা কর্মী পঞ্চায়েত সভাপতির সভাপতির ঘরে ঢুকে হামলা চালানোর পাশাপাশি অফিসের জিনিসপত্র নষ্ট করে দেয়। তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সভাপতি। পিছনে যে দলেরই নেতা-কর্মীরা রয়েছেন তা স্পষ্ট করেই সংবাদ মাধ্যমের সামনে বলেছেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মনোরঞ্জন পাল। তিনি বলেছেন, এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক মানুস মজুমদার এই হামলার ষড়যন্ত্রকারী। হামলার নির্দিষ্ট কারণ বলতে না পারলেও, তিনি অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতার লড়াইকে কেন্দ্র করেই এই আক্রমণ করা হয়েছে।

মহিলা কর্মাধ্যক্ষকে চুলের মুঠি ধরে চড়
পঞ্চায়েত সভাপতির সভাপতির ঘরে ঢুকে বনদফতরের কর্মাধ্যক্ষ শ্যামলী ঘোষ এবং স্বাস্থ্য দফতরের কর্মাধ্যক্ষ ময়না বাগকে চুলের মুঠি ধরে অফিস থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাঁদের চড় মেরে অফিস চত্বর থেকে বের করে দেওয়া হয়। সেই ছবি ধরা পড়েছে পঞ্চায়েত অফিসে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরায়। সোমবারের ঘটনা ঘটলেও সিসিটিভির ছবি সামনে আসার পরে শোরগোল পড়ে যায়। ইতিমধ্যেই আক্রান্ত নেতা-নেত্রীরা গোঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

প্রাক্তন বিধায়ককেই নিশানা
সংবাদ মাধ্যমের সামনে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন শ্যামলী ঘোষ। তিনি প্রাক্তন বিধায়ক মানস মজুমদার ছাড়াও, ব্লক সভাপতি নারায়ণ পাঁজা এই ঘটনার পিছনে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি শ্রীমন্ত রায়ের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জনের একটি দল হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, একজন মহিলাকে ছেলেরা যেভাবে মারল তা তিনি কল্পনা করতে পারছেন না। তিনি বলেছেন, তাঁকে যেভাবে অপমানিত হতে হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছেন না।

সিপিএম-এর সময়ে ঘরছাড়া, আর এবার মার
শ্যামলী ঘোষ বলেছেন, তিনি দল করছেন ১৯৯৮ সাল থেকে। সিপিএম-এর সময়ে হুমকির জেরে ঘরছাড়া ছিলেন। এবার দলের ছেলেদের হাতেই মার খেতে হল। এক মহিলার শাসনে রাজ্যের মহিলাদের নিরাপত্তা কোথায়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছঠে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, সহ সভাপতি ভোটের আগে বিজেপিতে চলে গিয়েছিলেন, আর ভোটের পরে ফিরে এসেই দলের বড় নেতা হয়ে গিয়েছেন।

জানিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে
অন্যদিকে যাঁর দিকে অভিযোগের তিন, সেই প্রাক্তন বিধায়ক মানস মজুমদার সংবাদ মাধ্যমের কাছে বিষয়টি নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে না চাইলেন, দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছে ঘটনা সম্পর্কে জানিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। দলের তরফ থেকে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বিজেপির প্রতিক্রিয়া
বিজেপি এই ঘটনায় তৃণমূলের তীব্র কটাক্ষ করেছে। শাসকের হাতেই শাসকের নির্যাতনের থেকেই বড় প্রকাশ্য দিবালোকে মহিলার ওপরে হামলা। অভিযুক্তরা গ্রেফতার না হওয়ায় এই ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে বিজেপির তরফ থেকে।

প্রায় একই ঘটনা পূর্ব বর্ধমানের বৈকুণ্ঠপুরেও
প্রায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের বৈকুণ্ঠপুরে। বৈকুষণ্ঠপুর ২ পঞ্চায়েত অফিসে মহিলা পঞ্চায়েত প্রধান শর্মিলা মালিককে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি কটূক্তি করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় মোজাম্মেল শা-সহ স্থানীয় দুই তৃণমূল কর্মী জড়িত। অনুন্নয়ন নিয়ে অভিযোগ করতে ঢুকে এই দুই তৃণমূল কর্মী পঞ্চায়েত প্রধানকে গালাগালি দেন বলে অভিযোগ। পঞ্চায়েত প্রধান এর প্রতিবাদ করেন। সেই সময় তাঁকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন পঞ্চায়েত প্রধান। যা নিয়ে বর্ধমান থানায় অভিযোগও দায়ের করেছেন তিনি। অন্যদিকে অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মী তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications