তৃণমূলে পদ ছাড়ার ‘বার্তা’ প্রাক্তন সভাপতির, দুর্নীতির ভূত তাড়াতে গিয়ে বাড়ল জল্পনা
করোনার লকডাউন আর আম্ফান বিপর্যয়ের সময় থেকেই তৃণমূলের উপর নতুন করে ভর করেছে দুর্নীতি নামক ভূত। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ কার্যত ঘিরে ধরেছে তৃণমূল কংগ্রেসকে।
করোনার লকডাউন আর আম্ফান বিপর্যয়ের সময় থেকেই তৃণমূলের উপর নতুন করে ভর করেছে দুর্নীতি নামক ভূত। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ কার্যত ঘিরে ধরেছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। দুর্নীতির সেই ভূত মাথা থেকে নামাতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা রাজ্যের শাসকদলের। একের পর এক নেতার উপরে নেমে আসছে খাঁড়া।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ জড়ো করছে বিরোধীরা
বিরোধীরা শাসক তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ জড়ো করছে। সেখানে উঠে আসছে অনেক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতার কীর্তি। সম্প্রতি একটি ভিডিও সামনে আনেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। সেখানে তৃণমূল নেতা শুভাশিস পালের কাটমানি নেওয়ার দৃ্শ্য দেখা যায়। এই নিয়েই দক্ষিণ দিনাজপুরে পড়ে যায় শোরগোল।

তৃণমূল নেতাকে পদ থেকে সরানোর জন্যই এসব!
নেতার এই কীর্তির ভিডিও দেখে তৃণমূল কংগ্রেস অস্বস্তিতে পড়ে যায়। যদিও শুভাশিসবাবু স্বয়ং দাবি করেন এটা একটা চক্রান্ত। তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হয়েছে। এরপরই তিনি ফেসবুক পেজে জানিয়ে দেন, তাঁকে পদ থেকে সরানোর জন্যই এসব করা হয়েছে। তিনি সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসে জেলা কার্যকরী সভাপতি পদ হারিয়েছেন। এখন তিনি জেলা পরিষদের মেন্টর।

দল চাইলেই পদ ছেড়ে দিতে তৈরি তৃণমূল নেতা
এই অবস্থায় তাঁকে পদ থেকে সরানোর জন্যই পরিকল্পিতভাবে এসব করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। এই মর্মে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তিনি পদলোভী নন। দল চাইলেই তিনি পদ ছেড়ে দেবেন। ফেসবুক লাইভেই তিনি মেন্ট পদ ছাড়ার ইচ্ছাপ্রকাশও করেন। তিনি এই কারণেই ইস্তফা দিতে চান, যে তাঁকে সরানোর জন্য অহেতুক তাঁর ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে।

দল থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নেপথ্যে
শুভাশিস পালের ডানা ছাঁটার কাজ শুরু হয়েছিল বেশি কিছুদিন ধরেই। মুখ্যমন্ত্রী বিডিও কনফারেন্স করে বিধায়ক গৌতম দাসকে কার্যকারী সভাপতি করা, তারপর রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় জেলায় বৈঠকে গিয়ে কার্যকরী সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেন শুভাশিস পালকে। এখন আবার তিনি নিজেই মেন্টর পদ থেকে নিজে সরে যেতে চাইছেন। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তিনি দল থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেও ওই পোস্ট করতে পারেন।

দুর্নীতির খোঁচায় তৃণমূল ঘোরতর বিপাকে
এর ফলে দক্ষিণ দিনাজপুরে ফের তৃণমূলের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এল। জেলা সভাপতি অর্পিতা ঘোষের ডানহাত হিসেবে কাজ করতেন শুভাশিস। তাঁকে কার্যকরী সভাপতি করেছিলেন অর্পিতাই। তাঁকে সরিয়ে দেওয়া এবং তারপরের ঘটনাপ্রবাহ কিন্তু অন্যরকম ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন যা পরিস্থতি দুর্নীতির খোঁচায় তৃণমূল ঘোরতর বিপাকে পড়ে যাচ্ছে ২০২১-এর আগে।












Click it and Unblock the Notifications