টোল দিতে অস্বীকার, কর্মীদের জুতো মারলেন মমতার স্নেহধন্য নেতা

'আনন্দবাজার পত্রিকা' তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে, রবিবার দুপুরে কলকাতা থেকে বর্ধমানের দিকে যাচ্ছিলেন আবু আয়েশ মণ্ডল। দুপুর সওয়া একটার সময় তাঁর গাড়ি পৌঁছয় ডানকুনি টোল প্লাজায়। পদাধিকার বলে কয়েকজন ছাড় পান টোল পাওয়া থেকে। সেই তালিকায় পড়ছেন না আবু আয়েশ মণ্ডল। তাই তাঁর কাছে ৫০ টাকা টোল চান প্লাজার কর্মীরা। অভিযোগ, তখনই রেগে কাঁই হয়ে যান তিনি। গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। পা থেকে জুতো খুলে কর্মীদের পেটাতে থাকেন। আর বলেন, "কাকে আটকাচ্ছিস জানিস? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে এসে ছাড়িয়ে নিয়ে যাবে।" সঙ্গে অমুকের বাচ্চা, তমুকের বাচ্চা বলে গালাগালি চলে। কর্মীদের বাঁচাতে এসে মার খান টোল প্লাজার শিফট ইনচার্জ বিকাশ চৌধুরীও।
খবর পেয়ে ডানকুনি থানার টহলদারি পুলিশের গাড়ি সেখানে আসে। আবু আয়েশ মণ্ডলের পরিচয় জানার পর পুলিশও কুঁকড়ে যায়! তারা তাঁকে শান্ত করে বর্ধমানের দিকে রওনা করিয়ে দেয়।
আবু আয়েশ মণ্ডলের দাবি, ডানকুনি টোল প্লাজার ওই কর্মীরা মাঝেমধ্যেই নাকি তাঁর গাড়ি আটকে হেনস্থা করেন। এদিনও তাই হয়েছে। এ কথা শুনে টোল প্লাজার কর্মীদের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, গোটা ঘটনা সিসিটিভি-তে ধরা আছে। পুলিশ চাইলেও তা তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
মজার ব্যাপার হল, টোল প্লাজায় কর্মীরা সবাই তৃণমূলের কর্মচারী ইউনিয়নের সদস্য। তাই দলের নেতা এমন করায় তাঁরা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ।
ওই টোল প্লাজার শিফট ইনচার্জ বিকাশ চৌধুরী আগে সেনাবাহিনীতে কাজ করতেন। বলেন, "উনি যে ভাষায় কথা বলেছেন, তাতে খারাপ ছেলেরাও লজ্জা পাবে। সেনাবাহিনীতে দেশের সেবা করে এসে এখন জুতোপেটা খেলাম, এটা মানতে পারছি না।"
প্রসঙ্গত, আবু আয়েশ মণ্ডল এক সময় সিপিএমে ছিলেন। সিপিএমের টিকিটে বিধায়ক, সাংসদ হয়েছিলেন। ২০১১ সালের মে মাসের আগে তৃণমূলে আসেন। মমতার স্নেহধন্য এই নেতা রাজ্য সংখ্যালঘু বিত্ত উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications