ফের বড় ধাক্কা তৃণমূলে, জ্যোতিপ্রিয় গড়ে এক এক করে খসে পড়ছে ঘাসফুলের পাপড়ি!
বনগাঁয় এর আগে রতন ঘোষ পদত্যাগ করেছিলেন কর্মাধ্যক্ষের পদ থেকে। এবার হাসনাবাদের ফিরোজ কামাল গাজি ওরফে বাবু মাস্টারও দল ও পদ ছাড়লেন। বাবু মাস্টার উত্তর ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষের পদ থেকে পদত্যাগ করতেই আরও চিন্তার ভাঁজ পড়ে জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কপালে।

জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন বাবু মাস্টার
ফিরোজ কামাল গাজি জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। তবে শুভেন্দু ঝড় উঠতেই যখন একের পর এক নেতা দল ছাড়তে শুরু করেছেন, তখন তিনিও নিজের পদ ছাড়লেন। পদ ছাড়া প্রসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, দলের মধ্যে অসম্মানিত হচ্ছিলেন। শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। সেই কারণেই পদত্যাগ করলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের হাত ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান
ভবানীপুর মডেল হাইস্কুলের শিক্ষক বাবু মাস্টার, ২০১১ সালের আগে এলাকায় সক্রিয় বাম কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের হাত ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছিলেন। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলা পরিষদের ৫৫টি আসনে হাসনাবাদ থেকে জয়ী হন।

পাঁচটি মামলা বাবু মাস্টারের বিরুদ্ধে
এরপর লোকসভা নির্বাচনের বিধাসভাওয়ারি ফলের নিরিখে দেখা যায়, হাসনাবাদ বিধানসভা এলাকা থেকে এগিয়ে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহান। কিন্তু, তারপর থেকেই দলের মধ্যে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। এরই মাঝে সন্দেশখালি গণহত্যায় তাঁর নামেও মামলা দায়ের হয়। এই মুহূর্তে তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা রয়েছে। তার মধ্যে তিনটি মাছ চুরির মামলা। বাবু মাস্টারের অবশ্য দাবি, সব কটি মামলাই মিথ্যে। কিন্তু, দল তাঁকে কোনওরকম সাহায্য করেনি।

বিজেপিতে যোগ দেবেন বাবু মাস্টার
এই প্রসঙ্গে বাবু মাস্টার বলেন, 'দলে থেকে আমি ভীষণ অসম্মানিত হচ্ছিলাম। সম্মানের সঙ্গে কোনওরকম আপস করা যায় না। তাই, আজ পদত্যাগ করলাম। বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছি।' সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পারিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ রতন ঘোষ পদত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। আর এবার তাঁর পদ অনুসরণ করে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন বাবু মাস্টারও।

জ্যোতিপ্রিয়র চিন্তা বাড়িয়ে দল ছাড়েন শীলভদ্র
এদিকে এদিন শুভেন্দু-জিতেন্দ্রর পর আজ দল ছাড়েন শীলভদ্র দত্ত। দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ত্যাগ করেন ব্যারাকপুরের বিধায়ক। তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল ত্যাগের বিষয়টি জানিয়ে চিঠিও পাঠিয়ে দেন তিনি। ঠিক কী কারণে তিনি ঘাসফুল শিবির ছাড়লেন, সে বিষয়ে চিঠিতে কোনও আলোকপাত করেননি শীলভদ্রবাবু। তবে প্রেসের মুখোমুখি হওয়ার সময় তাঁর পিছনে 'গেরুয়া' রেখা ছিল স্পষ্ট।












Click it and Unblock the Notifications