মুকুলের সঙ্গে গোপন আঁতাত! ‘বিপদ’ এড়াতে ফোনে আড়ি পাতছে তৃণমূল
অনেক তৃণমূল নেতার আচরণ সন্দেহজনক বলে মনে হয়েছে দলীয় নেতৃত্বের। তাঁরা ফোন নিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। মোবাইলে ফোন কেটে ল্যান্ডফোনে যোগাযোগের চেষ্টা।
মুকুল সংসর্গ রুখতে দলীয় নেতাদের ফোন আড়ি পাতছে তৃণমূল নেতৃত্ব! তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব জানতে পেরেছে জঙ্গলমহল ছাড়াও উত্তরবঙ্গের তৃণমূল নেতারা মুকুল রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন। মুকুল রায়ও সন্তর্পণে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাই এই 'বিপদ' থেকে দলের সংগঠনকে বাঁচাতেই নাকি এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব তা অস্বীকার করেছে।
এই জল্পনার সূত্রপাত মুকুল রায় তৃণমূল ত্যাগ করার পরই। অনেক তৃণমূল নেতার আচরণ সন্দেহজনক বলে মনে হয়েছে দলীয় নেতৃত্বের। বিশেষ করে ফোন এলে তাঁরা কখনও কেটে দিচ্ছেন। কখনও গোপনে কথা বলার চেষ্টা করছেন। এখন আবার নতুন এক কৌশল নিয়েছেন তাঁরা। ফোন কেটে দিয়ে ব্যবহার করছেন ল্যান্ড ফোন।

মুকুল রায়কে দল থেকে বহিষ্কারের পরই বিভিন্ন জেলাতেই এমন আচরণ শুরু করেছেন তৃণমূল নেতারা। কিন্তু এক মুকুল রায়ের জন্য দল ভাঙুক, কোনও মতেই চায় না তৃণমূল কংগ্রেস। তার উপর সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। সেই নির্বাচনের আগে দলীয় সংগঠনকে অটুট রাখাই তৃণমূল নেতৃত্বের একমাত্র উদ্দেশ্য।
গোপন সূত্রে খবর দলে গুরুত্ব হারানো বিক্ষুব্ধরা তলে তলে যোগাযোগ রাখছেন মুকুল রায়ের সঙ্গে। মুকুল রায়ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে তৃণমূলকে উচিত শিক্ষা দিতে ধীরে ধীরে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছেন। তিনি নিজে দল গড়ুন বা বিজেপিতে ঘাঁটি গাড়ুন যে দলটার সংগঠন নিজে হাতে গড়েছেন, তা ভেঙে দিয়ে তাঁকে দল থেকে তাড়ানোর জবাব দিতে চান মুকুল।
এদিকে মুকুল রায় সক্রিয় হলেও বা কেউ যোগাযোগ করলেও ফোনে আড়ি পাতার মতো নিকৃষ্ট কাজ তৃণমূল করছে না বলে দাবি মন্ত্রী গৌতম দেবের। তিনি বলেন, আমাদের দলে সবাইই একজনকেই চেনেন। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিই দলের একমাত্র নেত্রী, বাকি সবাই সৈনিক, তাঁকে দেখেই দল করে সবাই। তাঁর প্রতি সকলের আস্থা অটুট।
তিনি বলেন, কেউ যদি দল ছাড়বেন বলে মনে করেন, তাকে কোনওভাবেই আটকানো যাবে না। ফোনে আড়ি পাতার বিষয়টি যেমন গুজব, তেমনই কেউ কেউ দল ছেড়ে মুকুল শিবিরে যাবেন বলে যে জল্পনা চলছে, তা রটনা মাত্র। বাস্তবে কিছুই ফলপ্রসূ হবে না।
পুজোর আগে মুকুল রায়ের হঠাৎ উত্তরবঙ্গ সফরে বেশ কিছু নেতা তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের একাধিক বিধায়ক ও বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর মুকুল রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন বলে জল্পনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। সৌরভ চক্রবর্তীর মতো অনেকেই এসব গুজব বলে এড়িয়ে গিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications