তৃণমূলে বেনজির বিক্ষোভ! পুর-নির্বাচনের আগে দলে ভাঙন ধরিয়ে বিদ্রোহীরা কংগ্রেসে
বেনজির বিক্ষোভ তৃণমূল কংগ্রেসে। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসে কখনই প্রার্থী নিয়ে এমন বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়নি। নিচুতলার নেতা-কর্মীরা মুখ বুজে মেনে নিয়েছিলেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তৈরি করে দেওয়া প্রার্থী তালিকা বা প্রার্থীকে।
বেনজির বিক্ষোভ তৃণমূল কংগ্রেসে। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসে কখনই প্রার্থী নিয়ে এমন বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়নি। নিচুতলার নেতা-কর্মীরা মুখ বুজে মেনে নিয়েছিলেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তৈরি করে দেওয়া প্রার্থী তালিকা বা প্রার্থীকে। কিন্তু এবার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন। এমনকী দলে ভাঙনও ধরে গেল।

শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোট নির্ধারিত হওয়া ১০৮টি পুরসভার মধ্যে দার্জিলিং বাদে ১০৭টি পুরসভার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। প্রায় তিন হাজার প্রার্থীর নাম প্রকাশিত করেন দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তারপরই জেলায় জেলায় শুরু হয় বিক্ষোভ। কোথায় রেল অবরোঘ, রাস্তা অবরোধও হয়।
আর পুরুলিয়ায় তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় জায়গা না পেয়ে তৃণমূল ছেড়ে বিদায়ী কাউন্সিলর যোগ দেন কংগ্রেসে। বিদ্রোহী হয়েই ক্ষান্ত না থেকে একেবারে দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বিদায়ী কাউন্সিলর ও তাঁর স্বামী। শুধু তাঁরাই নন, তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা-সহ একঝাঁক কর্মী তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে দেন।
পুরুলিয়ার পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরেও বিক্ষোভের ঢেউ আছড়ে পড়ে। প্রার্থী তালিকা নিয়ে বিক্ষোভের জেরে নির্বাচন কমিটির আহ্বায়কের ছাড়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন মৎস্যমন্ত্রী অখিল গিরি। কাঁথি ও এগরা পুরসভা এলাকাতেও তৃণমূলে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। তাঁরা মৎস্যমন্ত্রী অখিল গিরির বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান। শুভেন্দু অনুগামী কয়েকজন তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় জায়গা পাওয়া নিয়েই এই ক্ষোভ দানা বাঁধে।
তৃণমূলের প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় বিক্ষুব্ধরা রেল অবরোধে শামিল হন খড়দহ স্টেশনে। খড়দহ স্টেশনে তৃণমূলের একাংশ রেল অবরোধ শুরু করে। যদিও কিছু সময় পরেই সেই অবরোধ উঠে যায়। আরামবাগের শুরু হয় রাস্তা অবরোধ। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভে শামিল হন তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা।
এ প্রসঙ্গে তাৎপর্যপূর্ণ আশ্বাসবাণী দেন বিধায়ক মদন মিত্র। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে তৃণমূল যে জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, তা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের মতো। যেখানে যাই হোক না কেন, তৃণমূল জিতবে। সে রাস্তা অবরোধ হোক বা টায়ার জ্বলুক, তৃণমূলের বিজয়রথ কেউ আটকাতে পারবে না। তবে বিক্ষুব্ধদের দুঃখে তিনি সমব্যাথী। তিনি সেই দুঃখের চিঠি লিখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেককে জানাবেন বলে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের আশ্বাস দেন মদন মিত্র।
দলের বিদ্রোহীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সকলকে বলব, কেউ দল ছেড়ে যাবেন না। কারণ তাতে লাভ হবে না। অন্য কোনও দল তৃণমূলকে লড়াই দেওয়ার জায়গায় নেই। বাংলায় একটাই দল, তার নাম তৃণমূল। আপনারা এই দলের প্রতি বিশ্বাস রাখুন, এই দলের নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বাস রাখুন, সংযত থাকুন, দল আপনাকে নিরাশ করবে না।












Click it and Unblock the Notifications